আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
অর্থনীতি

স্কুল ব্যাংকিং বাধ্যতামূলক হচ্ছে

image_953_142025ওমেনঅাই: ৭৪ শতাংশ থেকে কমতে কমতে স্কুল ব্যাংকিংয়ের হিসাব খোলার প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ২ দশমিক ৩১ শতাংশে। এতে করে চটেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাই প্রবৃদ্ধি বাড়াতে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শনিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে আয়োজিত স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স ২০১৪-১৫ এর পর্যালোচনা ও স্বীকৃতি প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্কুল এ কথা জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

এস কে সুর আক্ষেপ করে বলেন, ‘স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলার বিষয়টি কেন আরো তরতাজা হচ্ছে না। আমরা ১৮ বছরের নিচের সব শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনতে চাই। সবাই ঠিকমতো কাজ করলে আরো বেশি হিসাব খোলা যেত, আরো বেশি ডিপোজিট আসত। আমরা এর পেছেনে অনেক সময়, শ্রম ও টাকা ব্যয় করেছি। এখন থেকে প্রত্যেক ব্যাংককে এটা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আমি দেখি রোববার মধ্যেই সার্কুলার জারি করার চেষ্টা করব।’

স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম সন্তোষজনক না হলে কোনো ব্যাংককে দেশ-বিদেশে নতুন শাখা খোলার অনুমতি দেয়া হবে না বলেও জানান ডেপুটি গভর্নর।

এস কে সুর বলেন, ‘এখন থেকে কাজ ও নির্ধারিত সময় বেঁধে দেয়া হবে। সময়মতো কাজ শেষ করতে হবে। এটাকে আপনাদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। আপনাদের মাঝে ভালো করার প্রবণতা আসলেই সবার অংশগ্রহণ বাড়বে।’

২০১৪-১৫ সালের স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্সের পর্যালোচনায় ২০১৩-১৫ এর জুন পর্যন্ত সার্বিক তথ্য তুলে ধরা হয় এই অনুষ্ঠানে। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের যুগ্ম পরিচালক গোলাম মহিউদ্দীন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৩২টি। ২০১৪ এর মার্চে ৭০ হাজার ৪৫২টি নতুন হিসাব যোগ হওয়ায় মোট হিসাব সংখ্যা হয় ৩ লাখ ৬৬ হাজার ২৫৪টি; যেখানে প্রবৃদ্ধি হয় ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৪ এর জুনে ২ লাখ ৭৩ হাজার ২১১টি নতুন হিসাব যুক্ত হয়ে মোট হিসাব সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৬৫টিতে; এখানে হিসাবের প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশে।

এর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে হিসাবের প্রবৃদ্ধি। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে এ প্রবৃদ্ধি গিয়ে দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৩ শতাংশে। একই বছরের ডিসেম্বরে হয় ৬ দশমিক ৯৮, ২০১৫ এর মার্চে ৪ দশমিক ২৩ এবং জুনে ১৭ হাজার ৮১৬টি নতুন হিসাব যুক্ত হয়ে মোট হিসাব সংখ্যা হয় ৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫২টিতে; যেখানে প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ২ দশমিক ৩১-তে।

চলতি বছরের মার্চ শেষে ৮ লাখ ৮৬ হাজার ২৭৭টি হিসাবে মোট স্থিতি ছিল ৮২৩ কোটি টাকা। যা জুন ২০১৫ শেষে দাঁড়িয়েছে ৬৭৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকায়, যেখানে হিসাব সংখ্যা ৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫২টি। এই সময়ে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বেসরকারি খাতের ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড।

স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের এ বেহাল চিত্র দেখে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সতর্ক করে দেন এস কে সুর।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলায় স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান বিবেচনায় নিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয় বিভিন্ন ব্যাংককে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান, ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক নূরুন্নাহারসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী।

উল্লেখ্য, সঞ্চয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার নিমিত্তে তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার উদ্দেশ্যে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয় ২০১০ সালের ২ নভেম্বর। ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরো স্বচ্ছ, সচেতনতামূলক ও গতিশীল করার মাধ্যমে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা যথাযথভাবে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে স্কুল ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করা হয়।

চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কর্মকাণ্ডকে আরো গতিশীল ও এর পরিধি বিস্তৃতকরণ এবং শিক্ষার্থী/অভিভাবকদের জন্য স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত বিভিন্ন আর্থিক সেবা ঝামেলামুক্ত ও সহজ করার জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং শিক্ষার্থী/অভিভাবকদের চাহিদামাফিক সেবা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ঢাকা, ০১ নভেম্বর (ওমেনআই২৪ডটকম)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close