আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
নারী সংগঠন

ময়মনসিংহে প্রতিবন্ধীদের পাশে ‘অন্বেষা পাঠাগার’

protiওমেনঅাই:প্রতিবন্ধীরা সমাজের বাইরের নয়, ভেতরের মানুষ। সমাজে ভালোভাবে বাঁচার অধিকার রয়েছে তাদেরও। তারা অধিকাংশই দরিদ্র হওয়ায় পরিবারে বোঝা হয়ে যায়। তাদের ঘরে বন্দি না থেকে হুইল চেয়ারে বসে বাইরের দুনিয়া দেখা, গরু-ছাগল, সেলাই মেশিন দিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বি করতে সহায়তা করছে অন্বেষা পাঠাগার নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

প্রতিবছর বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন থেকে অর্থ সংগ্রহ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার, স্ট্রেচার, সাদাছড়ি বিতরণ করে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিবন্ধীদের হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তরিত করে বিতরণ করে সেলাই মেশিন। গরু-ছাগল নিয়ে সমাজের নিগ্রহের শিকার প্রতিবন্ধী মানুষগুলো এখন স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ এলাকায় অন্বেষা পাঠাগার নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনি চালু হয় ১৯৯৫ সালে। প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে অন্বেষা প্রতিবন্ধী কল্যান সংস্থ্যা নামে সংগঠনির আলাদা একটি কার্যক্রম চালু হয়। স্বেচ্ছাসেবী এ সংগঠনটি প্রতবিছর প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইল চেয়ার, সাদাছড়ি, নগত অর্থ, গরু, ছাগল, সেলাই মেশিন বিতরণ করে আসছে। এর পাশাপাশি সংগঠনটি বই পড়ার প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করার জন্যও কাজ করছে। উপজেলার মাইজবাগ বাজারে রয়েছে তাদের বিপুল বইয়ের সংগ্রহশালা। যে কেউ এখানে গিয়ে পড়তে পারেন বই।

‘প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করে অন্ধকার থেকে তাদের মধ্যে আলো ছড়াচ্ছে অন্বেষা পাঠাগার।’ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ পাছপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সেলাই মেশিন, গরু-ছাগল, হুইল চেয়ারসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব তপন চন্দ্র বণিক এসব কথা বলেন।

যুগ্মসচিব আরো বলেন, ‘প্রতিবন্ধীরা সমাজ ও পরিবারে নিগ্রহের শিকার হয় প্রতিনিয়ত। কিন্তু সেই প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করতে অন্বেষা পাঠাগারটি বিভিন্নভাবে তাদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছে। অন্যের দয়ায় বেঁচে না থেকে তারাও যেনো পরিবারের আয়ে অংশ নিতে পারে সেজন্য এধরনের উদ্যোগ চালিয়ে যেতে হবে।’

অন্বেষা পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক তাহেরুন ইসলাম জানান, সমাজে নিগ্রহের শিকার প্রতিবন্ধীদের কথা চিন্তা করে এলাকার কয়েকজন মিলে সংগঠনটি চালু করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতিবন্ধীদের কল্যাণের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন তারা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রতিবন্ধীদের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেন। তাদের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। প্রতি বছর প্রতিবন্ধীদের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সমাজের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছাকাছি আনা হয়। ঘরের অন্ধকার থেকে বের হয়ে বাইরের আলো দেখার জন্য দেয়া হয় হুইল চেয়ার। তাদের কাছ থেকে গরু-ছাগল ও সেলাই মেশিন নিয়ে এখন অনেক প্রতিবন্ধী স্বাবলম্বী হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকা, ১৭ নভেম্বর (ওমেনঅাই২৪ডটকম)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close