আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতিস্পট লাইট

নানান বছর নানান সুচিত্রা

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত :
সুচিত্রা সেন। নামটা জাস্ট একবার উচ্চারণ করে চুপ করে বসেছিলাম। ‘সাত পাকে বাঁধা’র শেষ দৃশ্যটার মতো করে নিজেকে চেয়ারে এলিয়ে দিয়ে ভাবছিলাম কত কী!
১৯৫৩ থেকে ১৯৭৮, সময়টা তো বড় কম নয়! সুচিত্রার মুখ বদলেছে, স্টাইল বদলেছে! বদলেছে মেক আপের ধরন! কিন্তু কিছুতেই স্থির করতে পারি না, কোন সুচিত্রা বেশি সুন্দর! কখনও মনে হয়, ’৫৮, কখনও ’৬১! ‘ইন্দ্রাণী’ না ‘সপ্তপদী’, কোনটাকে বাছব? এই মনে হল, ’৬৩! ‘সাত পাকে বাঁধা’ বা ‘উত্তরফাল্গুনী’! অমনি মনে হয় ’৬৬-র ‘মমতা’-র সুচিত্রাই বা কীসে কম? ’৬৯-র ‘কমললতা’? নাহ, কিছুতেই কোনও একটা ছবি বেছে নিতে পারছি না! ওই দীঘল চোখ, ওই মায়াবী হাসির জাদুকে মাপকাঠিতে ফেলা সম্ভব না!
’৫৪-য় সুচিত্রার রূপ যেন জুঁই ফুলের তেলের গন্ধ। ‘পথে হল দেরি’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’… বাংলা সিনেমার চিরবসন্ত শুরু। কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটার ঠিক আগের মুহূর্ত সেটা। রাইমার মধ্যেও আমি ওই সিম্পলিসিটিটা লক্ষ করেছিলাম, যখন ও আমার সঙ্গে ‘অনুরণন’ করে। তরুণ মজুমদারের ‘আলো’তে আমি একটু চেষ্টা করেছিলাম সুচিত্রা স্টাইলে চুল বাঁধতে, সাজতে… কিন্তু ওঁর মতো টানটান চাহনি, হাসির তারল্য…সে অনন্য!

ওই যে ’৫৫-র ‘পারো’…। ছাপা শাড়ি, বড় টিপ। সামনের চুলে ঢেউ খেলানো স্টাইল, সুচিত্রা সেনের পেটেন্ট। উত্তমকুমারের নায়িকা থেকে দিলীপকুমারের বাহুলগ্না। কত পাল্টে গেলেন এক বছরে।
এর পরই তো শাড়ির আঁচল শর্ট করে কাঁধে ফেলবে সুচিত্রার মুম্বইয়া ঢেউ। হাতের কাঁকন আর গোল গলার ব্লাউজ, পুরুষ মনে ঝড় তুলবে। ‘একটি রাত’-এ দুর্দান্ত একটা ঝুমকো পরেছিলেন! ওই দেখে আমার মা আর মাসির জন্য নিউ মার্কেট থেকে অবিকল ও রকম ঝুমকো কিনে দিয়েছিলেন আমার দিদিমা। তবে আমার বোধহয় সবচেয়ে ফ্যাসিনেটিং লাগে সুচিত্রা সেনের ওই স্টেজটা কুঁড়ি থেকে সম্পূর্ণ ফুল হয়ে ফোটা! ‘দীপ জ্বেলে যাই’, ‘উত্তরফাল্গুনী’, ‘মমতা’… কখনও অশোককুমার, কখনও সৌমিত্রর সঙ্গেও যখন তিনি রানির মতো বিচরণ করছেন। রুল করছেন।
আর ‘আঁধি’? আমাদের ইন্দিরা গাঁধী। উফ্, কী দাপট! আজ যে ‘মুক্তধারা’ বা ‘মিসেস সেন’-এর মতো ছবি করার সাহস দেখায় আমাদের ইন্ডাস্ট্রি, সেই শুরু কিন্তু ওঁর হাত ধরে। শ্রেষ্ঠত্বের আসন নিয়ে তাঁর রহস্যাবৃত জীবনের গ্র্যান্ড একজিট, যেন নারীবাদেরই জয়। আমি কৃতজ্ঞ, ধন্য তাঁর দেখানো পথে তাঁকে দেখে চলার সাহস পেয়েছি! শেষে শুধু একটা কথাই বলব, ‘এই পথ যেন না শেষ হয়…’

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close