আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতিস্পট লাইট

পাবনার এক সাধারণ মেয়ের অসাধারণ হয়ে উঠা

ফরিদা ইয়াসমিন::
পাবনার এক সাধারণ মেয়ে রমা। পাবনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছত্রী। স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রমাই ছিলেন সর্বেসর্বা। নাচ,গান সবকিছুর রিহার্সাল চলত রমার তত্বাবধানে। আবৃত্বিতেও রমা ছিলেন সাবলীল। মোটকথা রমা ছাড়া কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কখা ভাবাই যেতনা।

ছোটবেলা থেকেই রমার ছিল এক অসাধারণ ব্যাক্তিত্ব। ফ্যাশন সচেতনও। রমা যখন নবম শ্রেণীর ছাত্রী তখনই দিবানাথ সেনের চোখে পড়েন। কলকাতায় পিসীর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন রমা। ট্রামে রমাকে দেখে পিছু নেন দিবানাথ রমার। পিসীর বাড়ি চিনে আসেন। পরে বিয়ের প্রস্তাব দেন পুরনো ঢাকার দীননাথ সেনের নাতি দিবানাথ। বাগদান হয়ে যায় রমা ও দিবানাথের।

রমার বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন পাবনা মিউনিসিপ্যালিটির স্যনিটারি ইন্সপেক্টর। মা ইন্দিরা দাশগুপ্ত ছিলেন গৃহিনী। এই দম্পতির দ্বিতীয় কন্যা রমা দাশগুপ্ত। পাবনার এই সাধারণ মেয়েটিই হয়ে যান অসাধারণ এক মহানায়িকা। দিবানাথের সঙ্গে বিয়ের ফলে রমা দাশগুপ্ত হন রমা সেন । পরবর্তিতে সিনেমায় এসে পৃথিবীবিখ্যাত সুচিত্রা সেন।

পাবনাতেই দিবানাথের সঙ্গে সুচিত্রার বিয়ে হয় । বিয়ের অনুষ্ঠানে স্কুলের বান্ধবীরাও যোগ দিয়েছিল । ১৯৪৭ সালে যখন বিয়ে হয় সুচিত্রা তখন নবম শ্রেণীর ছাত্রী । পাবনার আইনজীবী জগদ্বীশচন্দ্র গুহর দুই মেয়ে রেবা ও মিনা ছিলেন সুচিত্রার সহপাঠি। বিয়ের পর রমা স্বামীকে নিয়ে প্রায়ই পাবনায় আসতেন। আর এলেই তাদের বাড়িতে গিয়ে জগদ্বীশ বাবুর আর্শীবাদ নিতেন। বাংলাদেশ বিঙ্জান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআই)এর অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক ডক্টর সফুরা নবী । পড়তেন পাবনা বালিকা বিদ্যালয়ে সুচিত্রার এক ক্লাস নীচে । স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন রমাদির ‍বিয়েটা ছিল টক অব দ্যা টাউন । কারণ তার বিয়েতে কোন বরপণ দিতে হয়নি । দিবানাথের পিতা আদিনাথ এসব পছন্দ করতেন না । শোনা যায় আদিনাথের সহযোগিতায় সুচিত্রা সিনেমায় আসেন ।

চলচ্চিত্রে এসে তার সৌন্দর্য্ ও অভিনয় দক্ষতায় কোটি কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করে রমা হয়ে উঠেন অসাধারণ । ১৯৫৩ সালে সাড়ে চুয়াত্তর চলচিত্র দিয়ে যার যাত্রা শুরু । তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি কোন আর্ন্তজাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পান । ১৯৬৩ সালে সাত পাকে বাঁধা ছবির জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান সুচিত্রা ।

একে একে অগ্নিপরীক্ষা’ সাপমোচন’ পথে হলো দেরি’ হারানো সুর’ দীপ জেলে যাই’ ইত্যাদি সব দুর্দান্ত ছবি করে মানুষের মনে স্থায়ী আসন গেড়ে নিয়েছেন সুচিত্রা । তাই বাংলা ছবি যতদিন থাকবে সুচিত্রা বেঁচে থাকবেন ততদিন। পাবনাবাসী গর্ব করে বলবেন আমাদের রমা ।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close