আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতিস্পট লাইট

মা হারাল তার বেস্ট ফ্রেন্ড

রাইমা সেন:
আম্মি চলে গেল।
সারা জীবন আম্মিকে আমি বলতাম, ‘তুমি ফাইটার।’ শেষ কয়েক দিন বেলভিউতে কি লড়াইটা না করল আম্মি!
আজকে যখন আম্মি আর নেই, আমার কিন্তু চিন্তা বাড়ছে মাকে নিয়ে।
আম্মির বয়স হয়েছিল ৮২। মা মধ্যবয়স্কা। সত্যি বলছি, মায়ের শুধুই মাতৃবিয়োগ হল না। মা হারাল তার বেস্ট ফ্রেন্ড। মা হ্যাজ লস্ট হার বাডি।

এগারো বছর একটা অদ্ভুত বন্ডিং তৈরি হয়েছিল মা আর আম্মির। আমরা সবাই মিলে বাইরে গেলেও মায়ের মন পড়ে থাকত আম্মির কাছে। বাড়ি ফিরে আম্মির সঙ্গে দেখা করা ছিল মায়ের প্রথম কাজ। সারা দিন বাড়িতে না থাকলে সন্ধেবেলা ফিরে ডিটেলে সব গল্প বলত আম্মিকে। আমাদের নানা ছবি রিলিজের কথা, প্রিমিয়ারের গল্প আম্মি সব শুনত মায়ের কাছে।
এমনিতে মা সব সময় আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আম্মির মতো ড্রেস সেন্স আর কারও নেই।
মা নিজেও খুব স্টাইলিশ। কিন্তু মাকে যখনই জিজ্ঞেস করেছি “তুমি বেশি স্টাইলিশ না আম্মি?”, মা সব সময় আম্মির কথাই বলেছে।

এখনও আম্মির ব্যাগ, আম্মির জুতো, আম্মির শাড়ি সব কিছু আলমারিতে সুন্দর ভাবে রেখে দিয়েছে মা। আমরা মাঝেমধ্যে সেগুলো ব্যবহার করার সময় হয়তো একটু অযত্নে রেখেছি, সেটা দেখে মা আমাদের কী বকুনিটাই না দিয়েছে!
এত ভালবাসা যেখানে, সেখানে আম্মির চলে যাওয়ার পর মা এই শূন্যতাটার সঙ্গে কী ভাবে মানিয়ে নেবে সেটাই আমায় চিন্তায় ফেলেছে।
হঠাৎ করে আম্মি যেন মায়ের সঙ্গে আমার বন্ডিংটাও একটু অন্য রকম করে দিল। মা সকালে উঠে আমাদের দুই বোনকে একটা করে চুমু দেয়। যত দিন আম্মি হাসপাতালে ছিল তত দিন মা চুমু দিতে চাইলেও ভাল লাগছিল না।
এই হাসপাতালে মাকে একা একা বসে থাকতে দেখে সেটাই বারবার মনে পড়ছিল। মনে হতো উঠে গিয়ে বলি, “মা ভুল করেছি তোমার সঙ্গে। আরও সেন্সেটিভ হওয়া উচিত ছিল আমার।” মায়ের সঙ্গে এই বন্ডিংটাও আম্মি তৈরি করে দিয়ে গেল।

এই কয়েক দিন বেলভিউয়ের ওই ডিপ্রেসিং ঘরটায় বসে যখনই দেখেছি কী পরিমাণ ফাইট করছে আম্মি, খালি মনে হয়েছে এই মনের জোরটা থাকলেই আম্মিকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারব। শুধু এই বারটা পারল না আম্মি। আমার মায়ের বেস্ট ফ্রেন্ড চলে গেল।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close