আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতিস্পট লাইট

‘ প্রযোজককে বলেছি বিজ্ঞাপনে উত্তমের আগে আমার নামটা লিখতে‘

ওমেন আই:
‘উত্তম কুমারের সঙ্গে আমি অনেক সিনেমা করেছি। আর এখন আমি প্রযোজককে বলেছি বিজ্ঞাপনে তার আগে আমার নামটা লিখতে।’ সুচিত্রা সেন তাঁর বন্ধু অমিতাভ চৌধুরীকে একথা বলেছিলেন । সদ্যপ্রয়াত অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন তাঁর বন্ধু অমিতাভ চৌধুরীকে আরো বলেছিলেন, তিনি একরোখা এবং কারো কাছ থেকে সাহায্য চাইতেন না। আর অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি আর কোনো অভিনয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।
তিনি বলেন,‘সকালে আমি আকাশ, গাছ ও বাগানের ফুল দেখে দিন শুরু করি। সন্ধ্যায় আমি গোধূলির আকাশ দেখি। আর আমার নাতনিরা যখন আসে তখন তাদের সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করি।’ । এটা অমিতাভ তাঁর বই ‘আমার বন্ধু সুচিত্রা সেন’-এ তুলে ধরেছেন । হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে ।

সুচিত্রা আরো বলেছিলেন, ‘উত্তম কুমারের সঙ্গে আমার খুব ভালো আর গভীর বন্ধুত্ব ছিল। অভিনেতাদের মধ্যে দীলিপ কুমারকে আমি সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করি।’
সুচিত্রা জানান, ১৯৫০ দশকে বিমল রায় তাঁকে বোম্বেতে নিয়ে যান। সেখানে দিলীপ কুমারের বিপরীতে দেবদাস সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন। তবে এ সময় তাঁর সবচেয়ে ভালো বন্ধুত্ব হয় সঞ্জিব কুমারের সঙ্গে।
সঞ্জিব সম্পর্কে সুচিত্রা জানিয়েছিলেন, তিনি একজন ভালো অভিনেতা ও দারুণ মানুষ। কলকাতায় এলে প্রত্যেকবারই তিনি সুচিত্রার বাড়িতে আসতেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া কানন দেবীর সঙ্গেও তাঁর খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাজ কাপুরের সিনেমা প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে সুচিত্রা জানান, রাজ কাপুরের সিনেমাটা তিনি সরাসরিই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন । সে সময় রাজ কাপুর সিনেমার প্রধান চরিত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি হঠাৎ করেই সুচিত্রার পায়ের কাছে বসে একতোড়া ফুল দিয়ে তাঁকে সিনেমার প্রস্তাবটা দিয়েছিলেন। কিন্তু সুচিত্রা প্রস্তাবটা গ্রহণ করেননি। কারণ তাঁর ব্যক্তিত্ব সুচিত্রার পছন্দ হয়নি। সুচিত্রা বলেন, পায়ের কাছে বসে কোনো প্রস্তাব দেওয়া পুরুষের জন্য মানানসই নয়।
সত্যজিৎ রায়ের সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়। তিনি তাঁর সিনেমার চরিত্রের জন্য বিশেষভাবে (বা ভিন্ন ধরনের চরিত্রে) অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন । কিন্তু , ‘যারা আমাকে সুচিত্রা বানিয়েছে তাদের আমি প্রত্যাখ্যান করতে পারি না । আমি তাকে বলি, আমার সাধ্যমতো তাঁর সিনেমার জন্য চেষ্টা করব। কিন্তু তিনি রাজি হননি। ফলে আমাকে সেটা প্রত্যাখ্যান করতেই হয়।’
মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘সাত পাকে বাঁধা’ সিনেমা সম্পর্কে সুচিত্রা বলেন, এ সিনেমা ভিন্ন কারণে তাঁর কাছে স্মরণীয়। কারণ এ সিনেমাটিতে যা দেখা যায়, তা তাঁর জীবনের সত্যিকার ঘটনা।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close