আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

চারুকলায় হয়ে গেল জয়নুল মেলা

charukolaওমেনআই: রুচির দুর্ভিক্ষ দূর করার অভিপ্রায়ে যিনি আমৃত্যু শিল্পচর্চা করেছেন তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। ঢাকা আর্ট কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই তিনি এদেশের শিল্পানুরাগীদের কাছে পৃথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত। আর তাই তার ১০১তম জন্মবার্ষিকীতে তারই সৃষ্ট ঢাকা আর্ট কলেজ অর্থাৎ বর্তমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ঘটা করেই আয়োজন করেছে ‘জয়নুল উৎসব’। চারুকলার বকুলতলায় গত মঙ্গলবার সকালে শীতের পরশ গায়ে মেখে উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেন জয়নুল ভক্তানুরাগীরা।

ডাক-ঢোলের বাদ্যসহযোগে তিন দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এ সময় ছিলেন জয়নুলের সহধর্মিণী জাহানারা আবেদিন, সন্তান প্রকৌশলী মঈনুল আবেদিন ও শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী। উদ্বোধনী আয়োজনে শিল্পাচার্যের চিন্তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে তিনটি গান পরিবেশন করেন চারুকলার শিল্পীরা। সমবেতভাবে তারা পর পর গাইলেন ‘এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার’, ‘আজি শুভ দিনে পিতারও ভবনে’ ও ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে সত্য-সুন্দরও’।
এরপর ছিল পুরস্কার প্রদানের পালা। প্রতিবছরের মতো এবারও জয়নুল সম্মাননা দেওয়া হয়েছে দেশের স্বনামধন্য শিল্পী ও শিল্পানুরাগীকে। শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবদুল মতিন সরকার ও অধ্যাপক বুলবুল ওসমানকে জয়নুল সম্মাননা ২০১৫ তুলে দেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও জয়নুল আবেদিনের সহধর্মিণী জাহানারা আবেদিন।
চারুকলায় বিশেষ অবদানের জন্য সুশান্ত ঘোষকে বিশেষ সম্মাননা দেয় জয়নুল আবেদিনের পরিবার। পুরস্কারটি তুলে দেন জয়নুল আবেদিনের সন্তান মঈনুল অবেদিন।
অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে চারুকলার গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের অধ্যাপক মামুন কায়সার সম্পাদিত ‘শিল্পাচার্য জয়নুল অবেদিন জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বার্ষিক শিল্পকলা প্রদর্শনীর ২০১৪’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ জয়নুল আবেদিনের সংগৃহীত মাটির পুতুলের প্রদর্শনী। আট দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাহানারা আবেদিন। এবারের উৎসবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ১৭টি স্টল অংশ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রাজশাহীর পৃথক পৃথক দুটি স্টলে রয়েছে টেপাপুতুল ও শখের হাঁড়ি। রাঙামাটি থেকে আগত স্টলে রয়েছে তাদের নিজস্ব আঙ্গিকের বুনন শিল্প। মৌলভীবাজার থেকে আগত দুটি স্টল সাজিয়েছে ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি দিয়ে। সোনারগাঁও থেকে আসা তিনটি স্টলে রয়েছে হাতপাখা, নকশীকাঁথা ও তামা-কাসায় নির্মিত নানা অলঙ্কার। এছাড়াও ঝিনাইদহ, মাগুরা, নওগাঁ, ঢাকার মহাখালী, নারিন্দা থেকে আগতরা তাদের নিজস্ব শিল্পকর্ম সাজিয়ে বসেছে। এছাড়া চারুকলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগ তাদের শিল্পকর্ম নিয়ে উৎসবে অংশ নিয়েছে।
এর আগে জয়নুল আবেদিনের সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জয়নুল আবেদিনের পরিবার, চারুকলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগ, জাতীয় জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমী, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। উৎসব শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর।

ঢাকা, ০৩ জানুয়ারি (ওমেনআই২৪ডটকম)//এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close