আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্তর্জাতিক

ডিআইজি দময়ন্তীর নেতৃত্বে গণধর্ষণের তদন্তে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ

ওমেন আই:
একটি ধর্ষণের ঘটনার সফল তদন্তের জেরে কলকাতা পুলিশ থেকে তাঁকে বদলি করা হয়েছিল উত্তরবঙ্গে। কলকাতার কাছেই অন্য একটি গণধর্ষণের তদন্তভার পাওয়ার সূত্রে ফের উত্থানের সূচনা হল আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেনের।
গণধর্ষণের প্রথম ঘটনাটি পার্ক স্ট্রিটের। দ্বিতীয়টি মধ্যমগ্রামের। কলকাতা পুলিশে থাকাকালীন পার্ক স্ট্রিটের ঘটনার তদন্ত করেছিলেন দময়ন্তী। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ, মধ্যমগ্রামে গণধর্ষণ এবং নির্যাতিতার পুড়ে মৃত্যুরও তদন্ত করবে ডিআইজি (সিআইডি) দময়ন্তী সেনের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত সোমবার জানিয়েছেন, পুরো তদন্ত হবে হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে। তদন্তের রিপোর্ট হাইকোর্টেই পেশ করতে হবে দময়ন্তীকে। তদন্ত-দলে আর কে কে থাকবেন, তিনিই তা ঠিক করবেন। এ ব্যাপারে রাজ্য সরকার কোনও রকম হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

পার্ক স্ট্রিটে গণধর্ষণের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের তৎকালীন গোয়েন্দা-প্রধান দময়ন্তী যে-ভাবে তদন্ত করেছিলেন, তার প্রশংসা করে গত সপ্তাহেই মধ্যমগ্রাম কাণ্ডের তদন্তভার তাঁকে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিল খোদ রাজ্য সরকার। অথচ পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডে ‘অতি-সক্রিয়তা’র জেরেই দময়ন্তীকে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল উত্তরবঙ্গে। সম্প্রতি তিনি উত্তরবঙ্গ থেকে বদলি হয়ে কলকাতায় এসেছেন। সম্প্রতি তাঁর পদোন্নতিও হয়েছে। এখন তিনি ডিআইজি (সিআইডি) পদে রয়েছেন। তাঁর দক্ষতাকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁকেই মধ্যমগ্রাম কাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভেবেছে সরকার। হাইকোর্টও যে পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের পরে বদলি হওয়া দময়ন্তীর উপরেই আস্থা রাখছে, এ দিন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিচারপতি দত্ত।

মধ্যমগ্রামে গণধর্ষণ ও নির্যাতিতা কিশোরীর পুড়ে মৃত্যুর পরে তার বাবা সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন। গত সপ্তাহে সেই মামলার শুনানিতে দময়ন্তীর নেতৃত্বে ওই তদন্ত করানোর নির্দেশ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে আবেদন করেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বিমল চট্টোপাধ্যায়। মৃতার বাবার আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যও সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন। এ দিন সরকার পক্ষের সেই আর্জিই মঞ্জুর করেছেন বিচারপতি দত্ত।

মামলার অন্তর্বর্তী রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি এ দিন বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে, এর থেকে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আর হয় না। একটি কিশোরীকে দু’বার ধর্ষিত হওয়ার পরে যে-ভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে, তা ক্ষমাহীন। এই তদন্ত নিরপেক্ষ ভাবে করতে হবে। কোনও পক্ষের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না হাইকোর্ট।” অর্থাৎ প্রশাসনের তরফে এই তদন্তে যে কোনও রকম খবরদারি করা চলবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে হাইকোর্ট।
মধ্যমগ্রামের ওই কিশোরী প্রথম বার ধর্ষিত হওয়ার পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এমনকী এলাকা ছেড়ে তারা অন্যত্র চলে যায়। তবু রেহাই মেলেনি। পুলিশের কাছে অভিযোগ করার ‘অপরাধ’-এ তাকে দ্বিতীয় বার গণধর্ষিতা হতে হয়। এখানেই নির্যাতন শেষ হয়নি। পরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয় আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে মেয়েটি পুলিশকে জানায়, সে মোটেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেনি। তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

আবেদনকারীর আইনজীবী বিকাশবাবু বলেন, গরিব ট্যাক্সিচালকের সন্তান বলেই এত বড় একটি ঘটনার পরেও বিধাননগর কমিশনারেট এবং কলকাতা পুলিশ বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। পুলিশ মেয়েটিকে নিরাপত্তা দিলে তাকে দ্বিতীয় বার গণধর্ষিতা হতে হত না। মৃত্যুর পরেও রেহাই পায়নি মেয়েটি। তার দেহ দাহ করার জন্য পুলিশের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। পরিবারের কাউকে না-জানিয়ে, জাল ডেথ সার্টিফিকেট দেখিয়ে দাহ করার চেষ্টা হয়েছিল।

এই পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারপতির কড়া নির্দেশ, ওই ঘটনার তদন্তে কোনও চাপ বা কোনও প্রভাব খাটানো যাবে না। দময়ন্তীই তদন্ত-দল তৈরি করবেন। কাকে নেবেন, কোনও প্রভাব ছাড়া সেই বাছাইয়ের কাজটা করবেন তিনি নিজেই। সিআইডি থেকেই যে তদন্ত-দলের সকলকে নিতে হবে, তার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্তের কাজ শেষ করতে হবে। ১০ ফেব্রুয়ারি বেলা ৩টেয় ফের এই মামলার শুনানি হবে। বিচারপতির মন্তব্য, হাইকোর্টের প্রয়োজন শুধু যথাযথ তদন্ত, অন্য কিছু নয়। নতুন করে সবিস্তার তদন্ত করতে হবে। আজ, মঙ্গলবার পুলিশকে কেস ডায়েরি-সহ সব নথি দময়ন্তীর হাতে তুলে দিতে হবে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close