আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
নারী সংগঠন

নারী অধিকারের বিপক্ষে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়

ওমেনআই:‘সবসময় নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য রোধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললেই সরকারের পক্ষ থেকে কোরআন-সুন্নাহর দোহাই দেয়া হয়। কিন্তু এ দেশে শরিয়াহ আইন ব্যবস্থা নাই।’ এমন মন্তব্য করেছেন নারী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন চাই শীর্ষক জাতীয় মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারা। সভার আয়োজন করে সিটিজেন্স ইনিশিয়েটিভস অন সিডও, বাংলাদেশ।

সভায় বক্তারা বলেন, অন্য কোনো কিছুর ক্ষেত্রে কোরআন-সুন্নাহর দোহাই দেয়া হয় না। তাহলে শুধু নারী ক্ষেত্রে এসব কথা আসে কেন? এ দেশের অন্তত দশ ভাগের বেশি নাগরিক অন্য ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সুকৌশলে এড়ানোর জন্য জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ তে বলা হয়েছে যে সরকার কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী কোনো কিছু করবে না।

মতবিনিময় সভায় সভাপ্রধানের ভূমিকা পালন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম।

মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করে কোনো কথা বলা হলে বরদাস্ত করা হবে না, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আয়েশা খানম বলেন, ‘নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও নির্যাতন করা হলে বরদাস্ত করবো না, এ কথাও প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে শুনতে চাই।’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ড. হামিদা হোসেন বলেন, ‘সিডও সনদের ধারা- ২ এর ওপর আরোপিত সংরক্ষণ সুস্পষ্টভাবে সমান আইনি অধিকার পাওয়ার চেতনার পরিপন্থী।

লিঙ্গ বৈষম্যের প্রক্রিয়া রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে হয়ে আসছে উল্লেখ করে জাসদের কেন্দ্রীয় নেত্রী ও সংসদ সদস্য শিরিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে লেখা আছে- নারীরা সব ক্ষেত্রে পুরুষের ন্যায় সমান সুবিধা ভোগ করিবে। এখানেই আমার প্রশ্নটি। এখানে ‘পুরুষের ন্যায়’ কথাটি কেন ব্যবহার করা হলো? কেন লেখা হলো না ‘পুরুষ-নারী সমান সুবিধা ভোগ করিবে’? একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এমন বৈষম্য মেনে নেয়া যায় না।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ রোধ করতে সিডও সনদের ওপর থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার এবং এর যথাযথ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এখনো আমাদের দেশে এক-পঞ্চমাংশ নারীশিশু প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার আগেই ঝরে পড়ে। এছাড়া, মহিলা মাদরাসাগুলো পরিচালিত পুরুষ শিক্ষকদের দ্বারা। এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সবচেয়ে কম কোয়ালিটির শিক্ষকদের মহিলা মাদরাসাগুলোয় নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।’

এ সময় ব্র্যাকের পরিচালক শীপা হাফিজা বলেন, ‘আমাদের নারীরা উপার্যন করছে, সংসারে অর্থ ব্যয় করছে। অথচ সম্পত্তিতে তার কোনো অধিকার নেই। সিডও সনদ বাস্তবায়ন করতে না পারলে এমন অস্থার পরিবর্তন সম্ভব না।’

কর্মক্ষেত্রে নারী বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে বেসরকারি সংগঠন বারসিকের সমন্বয়ক ফেরদৌসি আক্তার রিতা বলেন, ‘আমাদের নারী শ্রমিকদের মধ্যে ৭০ শতাংশ সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। এরমধ্যে ৪১ শতাংশ শুধু আলু চাষের সঙ্গে জড়িত। তারপরও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ডাটাবেজে কোনো নারী কৃষকের নাম নেই। সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা, প্রণোদনা ও কৃষিঋণ পাচ্ছে পুরুষ কৃষকেরা।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘নারীর প্রতি বৈষম্য রোধে আমরা আমাদের কাজকে কতটুকু এগিয়ে নিতে পেরেছি সেদিকে লক্ষ্য করতে হবে। শুধু রাষ্ট্রের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না।’

এনএফওডব্লিউডির সহকারী সমন্বয়ক নাজমা আরা বেগম বলেন, ‘প্রতিবন্ধী নারীদের ঘর থেকে বেড় হওয়ার মত পরিস্থিতি দেশে এখনো সৃষ্টি হয়নি। স্বাধীনতার পরবর্তীত সময়ে নারীর অধিকারের বিষয়টি কিছুটা প্রতিফলিত হলেও সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত এবং বৈষম্যের শিকার প্রতিবন্ধী নারীরা।’

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব একেএম নেসার উদ্দিন ভূঁইয়া, এদেশে স্বাধীনতা আন্দোলন হয়েছিলো তৎকালীন পাক-সরকারের বৈষিম্যের কারণেই। সুতরাং কোনো ধরনের বৈষম্য বাংলাদেশ সরকারের কাম্য নয়, বিশেষ করে নারীর প্রতি বৈষম্য তো প্রশ্নেই উঠে না।

সভায় আরো বক্তব্য দেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি-ইউএন মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, ইউএনডিপির হিউম্যান রাইটস অ্যাডভাইজার মিকা কানেভাভোওরি, ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্রিস্টিন সুসান হান্টার, অক্সফাম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্নেহাল ভি সোনেজি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি জাকিয়া কে হাসান, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের পরিচালক আসগর আলী সাবরী, স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার প্রমুখ।

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি (ওমেনআই২৪ডটকম)//এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close