আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশস্পট লাইট

এসিডে ঝলসানো জীবনে প্রেম এলো প্রেরণা হয়ে

ওমেন আই:
আট বছর আগে এসিডে ঝলসে গিয়েছিল লক্ষ্মী। ক্ষত নিয়ে বয়ে চলেছেন জীবন। সেই ঘটনার পর থেকে একটা সময়ে লক্ষ্মীর কাছে সবচেয়ে ঘৃণার পাত্র ছিলো পুরুষ জাতি। তবে ধীরে ধীরে তার সেই ধারণা পাল্টাতে শুরু করেছে। নতুন করে জীবন শুরু করতেও শিখেছেন লক্ষ্মী। আর এ সবই হয়েছে একজনের ভালোবাসার জন্য।
দিল্লিতে একটা বইয়ের দোকানে খন্ডকালীন কাজ করতেন লক্ষ্মী। একদিন কাজে যাওয়ার সময় হঠাৎ পেছন থেকে প্রচন্ড একটা ধাক্কা খান। পেছনে ফিরে তাকাতেই মুখ এবং কাধের দিকে এসিড ছুঁড়ে মারে মধ্যবয়সী এক দুবৃত্তরা। ভালোবাসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তার ওপর এই অমানবিক আচরণ। মুহূর্তেই ঝলসে যায় শরীরের একটি বড় অংশ। মাত্র পনের বছর বয়সে এভাবে এসিডে ঝলসে গিয়েও থেমে থাকেনি লক্ষ্মী।
ঐ অমানবিক ঘটনার পর থেকে শুরু হয়েছে লক্ষ্মীর জীবনের নতুন অধ্যায়। এসিডে ঝলসে যাওয়া নারীদের নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। একবার এসিড বিরোধী প্রচারণায় অংশ নিতে কানপুরে গিয়ে পরিচয় হয় অলক দিক্ষিত নামের এক সাংবাদিকের সাথে। পরিচয়ের পর অলক ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেন লক্ষ্মীর দিকে। তখন থেকেই তার সাথে গড়ে পরিণয়। এখন এই দম্পত্তি এক সাথে তাদের পথ চলছেন। দিল্লির নিকটেই একটি ছোট অফিস নিয়ে দুজনে কার করে যাচ্ছেন এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। এসিডের বিরুদ্ধে নানামুখী প্রচারণার সাথে সাথে এসিডে ঝলসে যাওয়াদেরও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য সাধ্যমতো সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তারা। এখন তাদের সাথে অর্ধশতাধিক এসিডে আক্রান্ত নারী যোগ দিয়েছেন।
নতুন জীবন সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে লক্ষ্মী বলেন, এসিডে ঝলসে যাওয়ার পর ভালোবাসা শব্দটার কোন অর্থই ছিল না আমার কাছে। তখন হিন্দি সিনেমায় অনেক গানে ভালোবাসার কথা শুনে নিজেও হয়তো সাথে সাথে গাইতাম তবে তার কোন অর্থই ছিল না আমার কাছে। শুধু মুখে মুখে উচ্চারণই করে যেতাম। তবে অলকের সাথে পরিচয়ের পর থেকে পাল্টে যেতে থাকলো জীবনের অর্থ। আমার কাছে জীবনটা ছিল শ্বাসরুদ্ধকর ও অস্বস্তিকর। এরপর যখন অলক আমার জীবনে আসলো তখন মনে হলো আমি প্রাণখুলে নি:শ্বাস নিতে শুরু করলাম। সেছিলো আমার কাছে মুক্ত বাতাসের মতো। তখন মনে হলো তার কাছে খুলে বলা যায় মনের সব কথা।
২৫ বয়সী অলক এসিড আক্রান্তদের সাহায্যের জন্য দিনের বেলায় করা তার চাকরিও ছেড়ে দিয়েছেন। পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা এবং ভালোবাসার কারণেই তারা আবদ্ধ হয়েছেন ভালোবাসার বন্ধনে। লক্ষ্মীর প্রতি তার ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, লক্ষ্মীর অফুরন্ত জীবনীশক্তি রয়েছে। আঘাতেও ভেঙ্গে যায়নি সে। বরং প্রতিরোধ গড়তে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেই সব এসিড সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। বিবিসি অবলম্বনে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close