আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

শান্তিরক্ষায় লিঙ্গ সমতা আনতে বাংলাদেশ পথপ্রদর্শক: বান কি মুন

ওমেনঅাই: বাংলাদেশের নারী পুলিশকে অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, বাংলাদেশের নারী পুলিশ অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত। এর মধ্য দিয়ে শান্তিরক্ষায় লিঙ্গ সমতা আনতে বাংলাদেশ পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

হাইতির যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় নানা প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশের একটি টিম। পাঁচজন নারী পুলিশ সাহসী ভূমিকা নিয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতার পাশে দাঁড়িয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করেছেন তারা। তাদের সাহসী ভূমিকা, সন্তান-স্বামীকে দেশে রেখে গিয়ে এক বছর হাইতিতে কাটানো পেশাদারিত্বের অভিজ্ঞতা আলোকিত হয়েছে ওই ডকুমেন্টারিতে। সেখানে কলেরা আক্রান্ত এলাকায় মানবতার সেবায় বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উচ্ছ্বসিত মানুষ। সেটাও প্রশংসিত হয়েছে ডকুমেন্টরিতে।

ডকুমেন্টরিটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, কাঁচা হাতে ছোট্ট শিশুর লেখা চিঠিতে চোখ রেখে অশ্রু ঝরিয়েছেন মা পুলিশ। আবার মুহুর্তেই হয়েছেন পেশাদার। খেলাধুলা, নামাজসহ ধর্মাচার এবং ইউনিফরম পরে নিষ্ঠার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে এক অনন্য প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের মহিলা পুলিশ ইউনিটের। সমস্ত সংশয় উড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারাও যে পুরুষ পুলিশদের মত সমান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারেন- সেটা তারা প্রমাণ করেছেন। হাইতির জনগণ, জাতিসংঘে কর্মরত সদস্য এবং নিজেদের রক্ষার চ্যালেঞ্জে তারা জয়ী হয়েছে। বাংলা, ইংরেজি এবং ক্রিয়োল ভাষায় নির্মিত ৯৫ মিনিটের ওই তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন ফিল্ম একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ভারতের গীতা গান্দভির এবং পাকিস্তানের শারমিন ওবায়েদ চিনয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন তার বক্তৃতায় নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শান্তিরক্ষার চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের মেয়েদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ পুলিশের মহা-পরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, “বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব, সক্ষমতা শুধু দেশেই নয়-আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রমাণিত সত্য। বিশ্বের ১৭টি দেশে পুরুষ সদস্যগণ যে কৃতিত্ব দেখিয়েছে-তার সঙ্গে যুক্ত হলো আমাদের নারী সদস্যদের কৃতিত্ব। জাতিসংঘ মহাসচিব যে কৃতিত্বের প্রশংসা করেছেন-সেটা এদেশের সকল পুরুষ ও নারী পুলিশের পেশাদারিত্বকে আরো উজ্জীবিত করবে। সব সংশয় কাটিয়ে এদেশের তরুণ প্রজন্মের নারীরা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে যে কোন প্রতিকূলতা জয় করতে সাহসী হবে। এটা নারীর এগিয়ে যাওয়া, ক্ষমতায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।”

প্রদর্শনীতে জাতিসংঘ পুলিশের উপদেষ্টা স্টেফান ফেলার, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধি এবং বিশ্বসংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন।

২০১৩ সালে সর্বপ্রথম হাইতিতে একটি পূর্ণাঙ্গ নারী পুলিশ কন্টিনজেন্ট পাঠায় বাংলাদেশ। বর্তমানে হাইতি ও কঙ্গোতে মোট ৮৬২ জন নারী পুলিশ শান্তিরক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ পুলিশের পুরুষ কন্টিনজেন্ট বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষার দায়িত্ব পালনকালে তাদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার জন্য নানাভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ মহিলা পুলিশের সাফল্য নিয়ে নির্মিত “এ জার্নি অব এ থাউজেন্ড মাইলস্ পিসকিপার” নামে একটি তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টরি) প্রদর্শিত হয়।

ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২৩ (ওমেনঅাইটুয়েন্টিফোর ডটকম)//এসএল//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close