আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

বাংলা চলচ্চিত্রের নারী নির্মাতা

ওমেন আই :
১৯৫৬ সালে ঢালিউডের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ ৫৭ বছরে শতাধিক পুরুষ নির্মাতা পাওয়া গেলেও এ পর্যন্ত নারী নির্মাতার সংখ্যা মাত্র ১২ জন। মুক্তি পেয়েছে তাদের ১৫টি চলচ্চিত্র। তবে চলচ্চিত্র নির্মাণে নারী নির্মাতাদের উৎসাহ বাড়ছে।

তবে সুখের কথা, দুই হাজার সালের পর থেকে নারী নির্মাতার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ৭০, ৮০ ও ৯০ দশকে অর্থাৎ ৩০ বছরে নারী নির্মাতা এসেছেন মাত্র চারজন। আর ২০০২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে নারী নির্মাতা পাওয়া গেছে আটজন। মানে চলচ্চিত্র নির্মাণে নারী নির্মাতারা ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং সাফল্যের সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন।

২০১২ সালে শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত ‘উত্তরের সুর’ চলচ্চিত্রটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা পেয়েছে। পুরুষের চেয়ে নারী নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সংখ্যায় কম হলেও সাফল্য বেশি। বিষয়টি অনুধাবন করে গত বছর সরকার নারী নির্মাতাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এতে আনন্দিত ও উৎসাহিত হয়েছেন নারী নির্মাতারা।

১৯৭০ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণে আসেন প্রথম নারী নির্মাতা রেবেকা। তিনি নির্মাণ করেন ‘বিন্দু থেকে বৃত্ত’। এ চলচ্চিত্রটি দর্শক ও বোদ্ধা মহলে প্রশংসা লাভ করে। এর ১৫ বছর পর নির্মাণে আসেন অভিনেত্রী রোজী। তার নির্মাণে ১৯৮৬ সালে মুক্তি পায় ‘আশা নিরাশা’। এ চলচ্চিত্রটিও ব্যবসাসফল হয়।

১৯৮৮ সালে অভিনেত্রী সুজাতা নির্মাণ করলেন ‘অপর্ণ’। এটিও বড়মাপের সফলতা পায়। এর এক যুগ পর ১৯৯৯ সালে অভিনেত্রী সুচন্দা পরিচালনা করেন ‘সবুজ কোট কালো চশমা’। এ চলচ্চিত্রটিও দর্শকগ্রহণযোগ্যতা পায়। ২০০২ সালে সুচন্দা ফের নির্মাণ করলেন জহির রায়হানের উপন্যাস অবলম্বনে সরকারি অনুদানে ‘হাজার বছর ধরে’। এ চলচ্চিত্রটি দর্শক-প্রশংসার পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ বেশ কয়েকটি শাখায় জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

২০০২ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণে এলেন নারগিস আক্তার। তিনি নির্মাণ করেন ‘মেঘলা আকাশ’। প্রথম নির্মাণেই দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। দর্শক আনুকূল্যসহ কয়েকটি শাখায় চলচ্চিত্রটি লাভ করে জাতীয় পুরস্কার। পরবর্তীতে তার নির্মিত আরও তিনটি চলচ্চিত্র মুক্তি ও দর্শক গ্রহণযোগ্যতা পায়। এগুলো হলো- ‘মেঘের কোলে রোদ’, ‘চার সতীনের ঘর’ ও ‘অবুঝ বউ’।

২০০৩ সালে পরিচালনায় আসেন নায়িকা মৌসুমী। তিনি নির্মাণ করেন ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’। এ চলচ্চিত্রটি সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। ২০০৫ সালে মৌসুমী নির্মাণ করেন ‘মেহের নিগার’। এটিও দর্শক গ্রহণযোগ্যতা পায়। ২০০৬ সালে অভিনেত্রী কবরী নির্মাণ করেন ‘আয়না’। চলচ্চিত্রটি প্রশংসিত হয়। ওই বছরই টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপক ও সংবাদ পাঠক সামিয়া জামানের নির্দেশনায় মুক্তি পায় ‘রানী কুঠির বাকি ইতিহাস’। এ চলচ্চিত্রটিও দর্শক গ্রহণযোগ্যতাসহ জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

২০১০ সালে রুবাইয়াত হোসেন নির্মাণ করেন ‘মেহেরজান’। এটি দেশে আলোচিত ও বিদেশে পুরস্কৃত হয়। ২০১২ সালে মুক্তি পায় শাহনেওয়াজ কাকলীর ‘উত্তরের সুর’। এটিও প্রশংসিত ও জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হয়।

এছাড়া চিত্রনায়িকা শাবনূর চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন এবং নির্মাতা হিসেবে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে নাম নিবন্ধন করেছেন।

বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় ও নির্মাণাধীন রয়েছে নারগিস আক্তারের ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’, ‘পৌষ মাসের পিরিত’ এবং ‘যৈবতী কন্যার মন’, সামিয়া জামানের ‘আকাশ কত দূরে’, ক্যাথরিন মাসুদের ‘কাগজের ফুল’, শাহনেওয়াজ কাকলীর ‘জল রং’, আফসানা মিমির ‘রান’, ইসমত আরা শান্তির ‘মায়ানগর’ এবং রুবাইয়াত হোসেনের ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’।

নারী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের এই সাফল্যে গত বছরের ২১ আগস্ট এফিডিসিতে এক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, সরকারি অনুদানসহ সর্বক্ষেত্রে নারী নির্মাতাদের অগ্রাধিকার ও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে চলচ্চিত্র পরিচালনায় নারীরা আরও উৎসাহিত হবেন ও ব্যাপক হারে এগিয়ে এসে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close