আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্তর্জাতিক

আফগান নারীদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে কি?

লাজিনা জ্যাসলিন
আফগানিস্তানে অবস্থানরত ব্রিটিশ সামরিক একাডেমিতে এই প্রথমবারের মত যুক্ত হতে যাচ্ছে দেশটির অবহেলিত, বঞ্চিত নারীরা। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে নারীদের অবস্থানের আদৌ কি কোন পরিবর্তন ঘটবে? মানুষের মধ্যে আসবে কোন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন! যেখানে নিপীড়িত, নির্যাতিত শারিরীক ও মানসিকভাবে।
একটি গল্পের কথা বলা যাক যা একই সাথে মানুষকে হতচকিত ও বিষণœ করে ফেলে। এ কাহিনী এক আফগান তরুণীর। ঘটনাটি হেলমান্দ প্রদেশের। যেখানে তালেবানের হয়ে ঐ তরুণীর ভাই তাকে বাধ্য করে শরীরে বোমা বহনকারী পোশাক পরতে। বলেন, পুলিশের তল্লাশি চৌকি উড়িয়ে দিতে। গল্প-২। সম্প্রতি একটি ঘটনা খবরের শিরোনাম হয়েছে। তাও আবার ঘটনার এক বা দুইদিন পর। ৭ বছরের কন্যার সঙ্গে ৩৫ বছরের লোকের বিয়ে। কয়েক হাজার ডলারের বিনিময়ে বিয়ের নাম করে বিক্রি করে দিয়েছে তার পিতা। যাতে সে মাদক দ্রব্য কিনতে পারে। তবে এ ঘটনা জনগণের সচেতনতার জায়গায় কোন পরিবর্তন আনতে পারেনি। এ দুটি ঘটনা দেশটিতে নারীদের বিপন্নতার অবস্থান তুলে ধরছে। ফুটিয়ে তুলেছে তাদের চরম অবস্থা।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আদিলা ও আরজু। সাহিত্যের ছাত্রী আদিলা আর আরজু পড়ছেন পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে। দুজনেই বঞ্চিত, দরিদ্র নারীদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করে থাকেন। ঐ ঘটনা শোনার পর তাদের দেখে অনেকটা বিস্মিতই হওয়া গেল। বিবিসির এক প্রতিবেদকের কাছে তারা বললেন, একমাত্র শিক্ষাই পারে আফগানিস্তান এবং নারীদের প্রতি লোকজনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে। কিন্তু বিয়ের পর কাজ করবেন কি না ঐ প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে খানিকটা যেন চুপসে যান দুজনই। বললেন, এটা নির্ভর করছে তাদের পরিবার ও স্বামীর ওপর। মুখ দেখেই বোঝা গেল তাদের উত্তর একভাবে ‘না’।

এর কিছুদিন পরে যাত্রা শুরু হলো দেশটির রাজধানী কাবুল থেকে পূর্ব দিকে। বেশ উন্নত একটি শহর। মাথা উঁচু করে আছে সুউঁচ্চ দালান। সেখানে নতুন গড়ে ওঠা ব্রিটিশ অফিসারদের সামরিক একাডেমি। তারা বেশ কয়েক বছর ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। সেখানে দেখা মিললো সিদ্দিকা নামে ২৮ বছর বয়সী এক তরুণীর সাথে। তিনি পেশায় সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট। তিনিই প্রথম নারী প্রশিক্ষক। একাডেমির লক্ষ্য হচ্ছে বছরে ১০০ নারী অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেয়া। যা আগামী এপ্রিলেই শুরু হতে যাচ্ছে। সিদ্দিকার সাথে কথা বলে জানা যায়, সে তার দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চায়। তার দেশে নারীদের সমঅধিকার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অনেকটা ভুরু কুচকে বলেন, এদেশে খোদ পুরুষরাই অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত সেখানে নারীরাতো বহু দূরের বিষয়। টেলিভিশন, রেডিওতে তো বেশিরভাগ দিনই নারীর প্রতি সহিসংতা ভরাই খবর দেখি বা শুনতে পাই। তবে যদি মানবাধিকারের কথা বলা হয় সেক্ষেত্রে নারীদের অধিকারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হতে শুরু করেছে-বলেন সিদ্দিকা। তবে সিদ্দিকার ব্রিটিশ প্রশিক্ষক বললেন অন্য কথা। তিনি বলেন, এখানে নারীদের সমভাবে দেখা হয়। এখানে নারী-পুরুষদের একসাথে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

এই একাডেমি যা সানধুর্সত নামে পরিচিত। যার কার্যক্রম মূলত রক্ষণশীল সমাজে একটি ভিন্ন সংস্কৃতির প্রস্ফূরণের আভাস দিচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনীতে নেতৃত্বের গুণ তৈরি করছে। যা আফগানরা চায়। সেইসাথে নারীদেরকে সমান অধিকারের জায়গায় দেখার একটি চোখ সৃষ্টি করছে। বাকীটা এখন সময়ের হিসেব- নিকেশ। সূত্র: বিবিসি।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close