আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য

অটিস্টিক ছেলে- মেয়েদের আচরণগত সমস্যা ও সমাধান

মো. মফিজুল ইসলাম : অটিস্টিক শিশুর আচরণের মূল কারন যোগাযোগের সমস্যা । আমরা শুধু তাদেরকে বাইরে থেকে লক্ষ্য করি, তাদের জগতে/গভীরে প্রবেশ করতে পারিনা । সমুদ্রে ভাসমান হিমশৈল (আইসবার্গ) দূর থেকে অল্প দেখায় কারন পানির উপর সামান্য অংশ ভেসে থাকতে দেখা যায় বেশিরভাগই থাকে পানির নিচে। টাইটানিক আইসবার্গে আঘাত করে ধ্বংস হয়েছিল। অটিস্টিক শিশুদের জগৎ ঠিক আইসবার্গের মত। আমরা শুধু বাইরে থেকে তাদের কামড়, অস্থির, চঞ্চল, মাথায় আঘাত করে, অন্যকে আঘাত করে, থুু দেয়া এগুলো লক্ষ্য করি। কিন্তু তাদের নিজেদের জগতে প্রবেশ করতে পারিনা। প্রায় অর্ধেক অটিস্টিক শিশু কথা বলতে পারেনা, পারলেও ঠিকমত মনের ভাব প্রকাশ বা প্রশেড়বর উত্তর দিতে পারেনা। আবার অনেক ক্ষেত্রে ইশারা বা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও যোগাযোগ করেনা।
সঠিকভাবে ভাষা প্রয়োগ, নিজের অনুভূতি, চিন্তা বা চহিদা প্রকাশ করতে পারেনা। আবার অনেক ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় কথা বলতে আগ্রহ দেখায়। ঠাট্টা বা বাগধারা বোঝেনা। সামাজিক আদান প্রদান করতে চাইলেও কিভাবে করতে হবে বুঝে উঠতে পারেনা।কিছু কিছু শিশু সামাজিক হলেও তাদের কথোপকথন স্বাভাবিক হয় না ও বেশিক্ষন চালিয়ে যেতে পারেনা। অন্যদের সাথে বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক স্থাপন , আদান প্রদান মূলক খেলা, চোখে চোখে তাকানো, সামাজিক হাসি বিনিময় এসবে তাদের সমস্যা থাকে। আরা এই সমস্যাগুলোর কারনে তাদের নিজেদের আবেগ, অনুভূতি, চাহিদা, দুঃখ আনন্দের প্রকাশ ঘটায় নানাবিধ অনাকাংখিত আচরণের মাধ্যমে যেমন অত্যন্ত চঞ্চল ও অস্থির থাকা, সারারাত না ঘুমিয়ে ভোরের দিকে ঘুমাতে যাওয়া, থুু দেওয়া, বিভিনড়ব জিনিস ছুড়ে ফেলে দেওয়া, কাউকে হঠাৎ আঘাত করা, নিজ হাতে কামড়ানো, নিজ মাথায় আঘাত করা, অন্যকে আঘাত করা ইত্যাদি । অটিস্টিক শিশুরা সাধারণত যোগাযোগ করে অন্যের হাত ধরে, প্রয়োজনীয় জিনিসটার কাছে গিয়ে, বিভিনড়ব আচরন করে ইত্যাদি। তাদের যোগাযোগের ধরনের উপর ভিত্তি করে তাদের প্রয়োজন, আকাংখা, অনুভূতি বোঝার বিষয়ে শিক্ষক অভিভাবককে সচেষ্ট থাকতে হবে তাহলে তাদের যোগাযোগ প্র?িয়া কার্যকরী হবে আর এর ফলে তাদের অনাকাংখিত আচরন অনেকাংশে নিরসন হবে তাদের অনাকাংখিত আচরণ নিরসন করে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে তাদের জন্য নানাবিধ যোগাযোগের বিকল্প উপায় তৈরি করে দিতে হবে।
আর নিচের বিষয়গুলো মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করতে হবে।
#     তার কোন সেনসরি সমস্যা আছে কি না তা জানতে হবে। (যেমন যে কোন শব্দই তার কানে উচুঁ ভলিউমের মিউজিকের মত শোনাচ্ছে। তার বেডরুমের লাইটটা হাই পাওয়ার সার্চ লাইটের মত চোখে পীড়া দিচ্ছে। আবার তার পরনের কাপড়টা গায়ে স্পর্শ করলেই শিরিষ কাগজের মত খসখসে লাগছে ইত্যাদি ।)
#    প্রচুর পরিমাণ ছবি ব্যবহার করতে হবে। তার প্রয়োজনীয় জিনিস/চাহিদাা আপনাকে যাতে ছবি দেখিয়ে বোঝাতে পারে তার জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
#     অটিস্টিক শিশুরা ভিজুয়াল লার্নার, তারা কল্পনা করতে পারে না তাই তাদের সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে ভিজুয়্যাল সিডিউল/কার্ড ব্যবহার করতে হবে । যেমন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সে কখন কি করবে তার জন্য ছবি দিয়ে রুটিন তৈরি করে দেওয়া(অক্ষর চিনলে ছবি ব্যাবহার না করে টেক্স ব্যবহার করা। )
#    ছবি ব্যবহার করে পছন্দের একটা তালিকা তেরি করা (যেমন পছন্দের খেলনা, খাবার, জায়গা, ব্যক্তি ইত্যাদি)।
#    ছবি ব্যবহার করে অপছন্দের তালিকা তৈরি করা (যেমন পছন্দের খেলনা, খাবার, জায়গা, ব্যক্তি ইত্যাদি)।
#     যে কোন ঘটনা, বিষয়, অনুষ্ঠান, পরিস্থিতি, সামাজিক বা ব্যক্তিগত আচরণ, ব্যক্তিগত পরিস্কার, পরিচ্ছনড়বতা (যেমন দাঁত ব্রাশ, চুল কাটানো/ আচড়ানো, নখ কাটা, জন্মদিনের পার্টিতে কি করতে হয়, কোথাও বেড়াতে গেলে কিভাবে যাবেন, কখন যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি খাবেন, কখন ফিরবেন ) ইত্যাদি বিষয়ে সোশ্যাল স্টোরি ব্যবহার করতে হবে।
#    টয়লেটে না যাওয়ার সমস্যা থাকলে, ট্রেনিং দিতে হবে।
#      ঘড়-িহবীঃ কার্ড ব্যবহার করতে হবে(্যদি ছবি আঁকতে থাকে, ছবি আঁকার পরে সে কি করবে তা উল্লেখ থাকতে হবে)
#     যে কোন ভাল কাজ, আচরণ, কথা, শব্দ ইত্যাদির জন্য তাকে পুরস্কৃত করতে হবে( যেমন পছন্দের খেলনা, খাবার বা বাইরে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি)
#     অটিস্টিক শিশু যে বিষয়ে তার দক্ষতা প্রকাশ ঘটায় তাকে সেটা শেখানোর উপর আরও গুরুত্ব দেওয়া।
#     অটিস্টিক শিশুর যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া যেমন সে যদি বিস্কুট চায় আপনি তাকে বিস্কুটের টিন বা জার দেন যাতে সে সেটার মুখ খোলার চেষ্টা করে বা আপনার সাহায্য চায়।
#    তাদের জন্য হেলপ কার্ড ব্যবহার করা যাতে সে নিজের প্রয়োজনে অন্যদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
#     একটা, দুইটা শব্দ ব্যবহার করে তার ভাষাগত/শব্দগত যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ান যেমন. ’রাফি পানি খাবে’ না বলে বলেন ’পানি’
ষ    রোল প্লে বা অভিনয় করে দেখান
#     ফিজিক্যাল এ্যাকটিভিটি বাড়ানো যেমন দৌড়, লাফ বা তার জন্য নিজ বাসায় ট্র্যাম্পলিন, ট্রেডমিল
রাখা সকালে বা সন্ধ্যায় বাসায় বাইরে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার ফলে রাতে সকাল
#     শব্দ বলার ক্ষেত্রে তাকে আরও বেশি শব্দ বলতে পারে তার সুযোগ করে দিন। সে যদি চায় গাড়ি
আপনি একটি লাল/নীল গাড়ি দিয়ে বলুন ‘লাল/নীল গাড়ি’
#    কোন আচরণের আগের কারণ চিহ্নিত করতে হবে, আচরণ নিরসনে কি করা হয়েছিল এর ফলে অটিস্টিক ছেলে মেয়ে কি আচরণ করেছিল ইত্যাদি বিষয়গুলো নোট রাখতে হবে।
#     অটিস্টিক ছেলে/মেয়ে যদি বয়োঃপ্রাপ্ত হয় তাহলে তার সেই অনুভূতি বা শারীরিক প্রয়োজন নিরসনের সুযোগ /উপায় তৈরিতে সহযোগিতা করতে হবে। অটিস্টিক শিশুকে নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তার অটিজম আছে এটা মাথায় রেখে, ধৈর্য সহকারে সময়
নিয়ে শেখাতে হবে। তার বয়স বা অন্য কোন ছেলে মেয়ের সাথে তার তুলনা না করে তার নিজের মধ্যে যে দক্ষতা আছে সেটা খুঁজে বের করতে। পিয়ারগ্রæপ এ্যাকটিভিটি বা খেলার মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুরা বেশি শেখে আর এ সব কিছুই তার দৈহিক, মানসিক প্রশস্তি দান করে এবং তার আচরন ও স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে।

 

প্রজেক্ট ম্যানেজার
সোসাইটি ফর দি ওয়েলফেয়ার অব অটিস্টিক চিলড্রেন (সোয়াক)

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close