আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
ক্যারিয়ার/জব সার্চ

কীভাবে নতুন চাকরি নিয়ে দর কষাকষি করবেন

ওমেন আই :
বেতনের চাইতে একটু বেশি বেতনই আশা করছেন আপনি। কিন্তু বেতনের প্রসঙ্গটি নতুন চাকরির জন্য কীভাবে তুলবেন, বুঝতে পারছেন না। প্রথম চাকরিসন্ধানীদেরও একই সমস্যা কাজ করে থাকে। নতুন চাকরিতে বেতন নিয়ে দর কষাকষির কিছু উপায়

চাকরিপ্রার্থীদের কাছে ‘জব অফার’ বা বলা যায় প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির প্রস্তাব সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বিষয়। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও নতুন প্রার্থীর মধ্যে এই জব অফার নিয়ে কিছু দর কষাকষি রয়েছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এ পেশাগত দর কষাকষি শুরু হয় প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তাবের আরও আগে যখন ইন্টারভিউয়ের কার্যক্রম চলতে থাকে। মূলত বেতন-ভাতা বা পে-স্কেল এবং প্রতিষ্ঠানে আপনার পদ প্রভৃতি বিষয়কে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের কথা-বার্তা চলে। এরপর তাদের মধ্যে বোঝাপড়ার ওপর ভিত্তি করেই আসে জব অফার। তাই চাকরীপ্রার্থীদের চাকরিতে প্রবেশের আগে থেকেই এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তাবনা নিয়ে দর কষাকষি বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োজন।

প্রতিযোগিতার বাজারে আপনি কী যোগ্যতা ধারণ করেন সে সম্পর্কে সচেতন হয়েই চাকরি খোঁজা শুরু করতে হবে আপনাকে। এ যোগ্যতার মাপকাঠি গতানুগতিক উপায়ে না পরিমাপ করে আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড এবং ভৌগলিক অবস্থানের ভিত্তিতে আগে মেপে নিন। এ গ্রহণযোগ্যতা এবার পে-স্কেল, বেতন-ভাতা এবং সুযোগের পাল্লায় ওজন করুন।

চাকরির বাজারে আপনার পদচারণার গোটা চিত্রটি একটি উপমা দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া যাক। মনে করুন, একটি বাড়ি বিক্রি হবে। বাড়িটি আপনি কেনার জন্য দেখতে গেলেন। মালিক কোনো দাম ধরে দেননি। কাজেই আপনি জানতে চাইলেন বাড়িটির দাম কত। মালিক জবাবে আপনাকে একটি দাম প্রস্তাব করতে বললেন। অবশ্যই আপনি যতোটুকু সম্ভব কম দাম থেকে শুরু করবেন। বিপরীতে মালিক তার বাড়ির সুযোগ-সুবিধা বর্ণনা করে দাম বাড়াতে চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক। চাকরির প্রস্তাবে আপনাকে নিজেকে এই বাড়িটির সঙ্গে তুলনা করতে হবে। আপনি যদি নিজের যোগ্যতা তুলে ধরে মূল্য নির্ধারণ না করেন, তবে প্রতিষ্ঠান আপনাকে তাদের কাঠামোর সবচেয়ে নিম্ন পর্যায় থেকে বেতন দিতে চাইবে। কাজেই বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো চাহিদা থাকলে তা নিয়ে আগে থেকেই আলাপ সেরে ফেলুন।

একেবারে আনাড়িরা বুঝে উঠতে পারেন না বেতনের প্রসঙ্গ ঠিক কখন উত্থাপনের সুবর্ণ সুযোগ। মালিক পক্ষের সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাত্ বা টেলিফোনে আলাপচারিতায় যদি এমন হয় যে, তারা আপনাকে যোগ্য মনে করছেন এবং কথাবার্তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত করছে, তবে তখনই দর কষাকষির সময়। আবার দ্বিতীয় সাক্ষাতের সুযোগ থাকলে সাধারণত সেখানেই বিষয়টি তোলা যায়। যে পরিস্থিতিই হোক না কেন, প্রসঙ্গ আপনি প্রথম সুযোগেই তুলতে পারেন। আর এটা করাই ভালো। কারণ প্রথমেই যদি বুঝেন যে প্রতিষ্ঠান চাহিদামতো দিতে ইচ্ছুক নয়, তাহলে দ্বিতীয় সাক্ষাত্ সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছু নয়।

এখানে টেলিফোনেই হোক বা সাক্ষাতে, একজন চাকরিপ্রার্থী কীভাবে বেতনের প্রসঙ্গ তুলছে তার একটি উদাহরণ দেওয়া হলো।

প্রতিষ্ঠান :আপনার সিভি আমারা পেয়েছি। আপনাকে আমাদের এইচআর ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করতে হবে (একটি তারিখ উল্লেখ করে)। আপনি কি আসতে পারবেন।

প্রার্থী :ধন্যবাদ, ওইদিন আমার কোনো শিডিউল রয়েছে কিনা তা একটু দেখতে হবে। তবে তার আগে আমি কি জানতে পারি যে এ পদের জন্য আমার বেতন-ভাতা বিষয়ে আমি কি আপনার সঙ্গেই আলাপ করতে পারব কি না। নাকি অ্যাডমিন ম্যানেজারের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করতে হবে।

এই কথার উত্তর থেকেই আপনি মূল বিষয়টি জেনে যাবেন। তবে যেখানেই এ প্রসঙ্গ উঠুক, গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায়, মালিকপক্ষ প্রথমেই আপনার কাছে জানতে চাইবে যে আগের চাকরিতে আপনি কত বেতন পেতেন। আপনার উপার্জন একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। কাজেই তা বলতে বাধ্য নন আপনি এবং এটা বলাও উচিত হবে না। কারণ, সাম্প্রতিক উপার্জন খোলাসা করামাত্রই সেই অনুযায়ী আপনার নতুন বেতন নির্ধারণ করার চেষ্টা করা হবে। ফলে আপনি বেশি বেতন চাইতে গেলে তার লক্ষ্যপূরণ একটু কষ্টকর হতে পারে। আবার আপনি সদ্য স্নাতক হলেও আপনার কাছে জানতে চাওয়া হবে চাকরি থেকে আপনি কত বেতন আশা করেন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই কৌশলী হতে হবে।

আবারও নতুনদের জন্য একটি উদাহরণ।

প্রতিষ্ঠান :শেষ চাকরিতে আপনি কত বেতন পেতেন।

প্রার্থী :আমি ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার বেতনের একটি কাজ আশা করছি। যদি আপনাদের প্রস্তাব এমন হয়, তবে আমরা সাক্ষাত্ করতে পারি।

এরপরই আশা করা যায় আপনি ওই প্রতিষ্ঠানের আসল প্রস্তাব বুঝতে পারবেন। আর তা জানতে অবশ্যই সচেতন ও সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকতে হবে আপনার। নতুন চাকরিসন্ধানীরাও কত বেতন আশা করছেন, সেই প্রশ্নের জবাবে এমন উত্তর দিতে পারেন।

বেতন-ভাতা কিংবা পে-স্কেল বিষয়ে সবচেয়ে বিব্রত অবস্থা বোধ করে থাকেন একেবারেই নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। যারা সদ্যই পড়ালেখা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য মুখিয়ে আছেন, তাদের তো কোনো কাজের অভিজ্ঞতা নেই। ফলে কোন চাকরিতে কত বেতন হতে পারে, সেই ধারণাও তাদের কিছুটা কমই থাকে। এই সুযোগে কিন্তু ফ্রেশারদের কিছুটা কম বেতন অফার প্রবণতা দেখিয়ে থাকে অনেক প্রতিষ্ঠানই। তবে আপনার যোগ্যতা সম্পর্কে আপনি নিজে ওয়াকিবহাল হলে সেই সুযোগটি নিতে দিবেন কেন? চাকরিতে নতুন হলেও সিনিয়র যারা বিভিন্ন পদে চাকরি করছেন, তাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। তাদের কাছেই জেনে নিন কোন ধরনের চাকরির জন্য কেমন বেতন হয়ে থাকে। সেই ধারণা স্পষ্ট হয়ে গেলেই আপনি চাকরির ইন্টারভিউয়ে গিয়ে বেতন-ভাতা বা পে-স্কেল নিয়ে দর কষাকষি করতে পারবেন। চাকরিতে নতুন হলেও ঘাবড়াবেন না। যে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিচ্ছেন, সেটা করার যথাযথ যোগ্যতা আপনার আছে বলে যদি মনে করেন, তাহলে আর ভয় কী? আপনি ঠিক যতটা বেতন চান, তার থেকে কিছুটা বাড়িয়েই বলুন। আলোচনার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বেতনটাই হয়ত মিলবে আপনার। বেতন চাওয়ার ক্ষেত্রে খানিকটা বাড়িয়ে বলাটা অবশ্য অভিজ্ঞদের জন্যও সমানভাবেই প্রযোজ্য হবে। তাই সকলেই এই বিষয়টিতে মনোযোগী হতে পারেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close