আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সাক্ষাৎকার / ব্যক্তিত্ব

ছাত্রীদের মধ্যে ১৪৪ ধারা ভাঙার প্রবণতা ছিল বেশি: ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু

ফরিদা ইয়াসমিন:
রওশন আরা বাচ্চুর জন্ম ১৯৩২ সালের ১৭ ডিসেম্বর। সিলেটের কুলাউড়ার উছালাপাড়ায়। বাবা এম আফরেফ আলী। মা মনিরুন্নেসা খাতুন। শিলং লেডি কী স্কুল থেকে ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। বাবার সরকারি চাকুরির সুবাদে বিভিন্ন স্থান ঘুরেছেন। ১৯৪৯ সালে তিনি বরিশাল বি এম কঔেৎ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে অনার্স পাস করেন। ১৯৬৫ সালে বিএড পাস করেন।

কুলাউড়া গার্লস স্কুলে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষায়ত্রী হিসাবে কাজ শুরু করেন। পরে ৭৪ সালে ইতিহাসে এমএ পাস করেন। তিনি ঢাকার আনন্দময়ী স্কুল, লিটন অ্যাঞ্জেলস, আজিমপুর গার্লস স্কুল (খন্ডকালীন), নজরুল একাডেমি, কাকলি হাই স্কুলে এবং পরে আলেমা একাডেমিতে শিক্ষকতা করেন। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষকতা পেশায় ছিলেন। রওশন আরা বাচ্চু ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির ঠিক আগের রাত। শুনলাম পরের দিন ১৪৪ ধারা ভাঙা হবে না। এ খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। আমাদের মনে হচ্ছিল সংগ্রামী মনোভাবকে ভেঙে দেবার এটি একটি ষড়যন্ত্র। ছাত্রীদের মধ্যে ৪৪ ধারা ভাঙার প্রবণতা ছিল বেশি। যাই হোক ২১ ফেব্রুয়ারির দিন বিভিন্ন স্কুল কলেজ থেকে ছাত্রীদেও নিয়ে আসার ভার ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওপর। আমরা কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এ দায়িত্ব নেই। আমি ও রোকেয়া খাতুন প্রথমে ইডেন কলেজ ও পওে বাংলাবাজার স্কুলে যাই। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে এসে পৌঁছাই তখন বেলা ১১ টা। প্রথমে ১৪৪ ধারা ভাঙা হবে কীনা এ নিয়ে বিত-া চলে। ইতিমধ্যে দুই তিন ট্রাক বোঝাই পুলিশ গেটের কাঠে দাঁড়িয়ে গেল। কাছেই ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মোজাফফর আহমদ ও ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টও মতিউর রহমান। পুলিশকে পজিশন নিয়ে দাঁড়াতে দেখে ড: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চিন্তিত হয়ে পড়লেন।
প্রথমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রতিটি দলে একটি মেয়ে থাকবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা প্রথমেই গেটের একেবাওে কাছটিতে চলে আসে। প্রথম দলেই মেয়েরা ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বেরিয়ে যায়। তখন আর দশজনের কিছু ঠিক থাকে না। কার আগে কে যাবে সেই প্রতিযোগিতা যেন শুরু হয়ে গেলো। পুলিশ গেটের ওপর লাঠির ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল। সাফিয়া খাতুন লাাঠর ওপর দিয়ে লাফ দিয়ে গেলেন। হালিমা গেলেন নিচ দিয়ে। আমি তখন লাঠির উপর বা নিচ দিয়ে না গিয়ে ব্যারিকেড ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নেই। আমার সঙ্গে আরো কয়েকজন ছিল। আমাদের ধাক্কায় ব্যারিকেড ভেঙ্গে যায়। অন্য ছেলেদের সাথে আমি আহত হই। পুলিশ লাঠিচার্জের সাথে টিয়ার শেল ছোঁড়ে। মুহূর্তে পুরো এলাকা রণাঙ্গনে পরিণত হয়। মেডিক্যালের মোড় পর্যন্ত পৌঁছতেই শুরু হয়ে গেলো গুলি। উপায়ন্তর না দেখে মেডিক্যালের মোডে ভাঙ্গা রিক্সার নিচে আশ্রয় নিলাম। পাশেই ছিল ড: গণির বাড়ি। বাড়িটি কাঁটাতারে ঘেরা। ঠিক করলাম এই বেড়া পার হবো। বেড়া পার হতে গিয়ে কাটাতারে আমার শাড়ি আটকে গেলো। কে বা কারা ছাড়িয়ে দিয়েছিল পেছন থেকে বোঝার উপায় ছিলনা। অবিরাম গুলি চলছিল। এ সময়েই বরকত, সালাম, জব্বার মারা যায়। কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে দেখলাম ভেতওে সুফিয়া আহমদ, সারা তৈফুর, বোরখা শামসুন( বোরখা পরেই আন্দোলন করত), সুরাইয়ুা হাকিম।
ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি যাদের নাম উচ্চারণ করলেন তাদের মধ্যে রয়েছে, শাফিয়া খাতুন, রোকেয়া খাতুন, হালিমা খাতুন, সাফিয়া খান, রংপুরের সুফিয়া, নেলী, মোসলেমা খাতুন, কায়সার লিলি, রাবেয়া, সারা তৈফুর, শারিফা খাতুন, খুলনার রাবেয়া বেগম, রাবেয়া খাতুন, বেনু, নুরুন্নাহার, ইফতেখারুন্নেসা, বেবী আপা, নাদেরা বেগম, মাফিল আরা প্রমুখ।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close