আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আপন ভুবন

সুইটি নামের মেয়েটি

জিসান সরকার: ‘রেডি স্মাইল’। ১০/১২ বছরের মেয়েটির পরনে ধুলোমলিন জামা, উস্কখুস্ক চুল, মুখে মলিন হাসি। অথচ যখনই ক্যামেরাই ক্লিক করছিলো তখনি মেয়েটি বলে উঠছিল ‘রেডি স্মাইল’।

কথা বলছি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড় আর সমুদ্র বিলাসের নান্দনিক স্পট দরিয়া নগর, উত্তর হিমছড়ি, কলাতলি, কক্সবাজারের কথা। কক্সবাজার থেকে ব্যাটারিচালিত সিএনজিতে করে কিছুদূর যেতেই চোখে পড়বে দক্ষিণ দিহি পাহাড়।পাহাড়ি ঝর্ণা আর পাহাড়ের চূড়া থেকে সুবিশাল সাগর অবলোকন করার জন্য অনেকের মত আমরাও সেখানে গিয়েছিলাম। টিকিট কেটে মাছের মুখওয়ালা গেট দিয়ে ঢুকতেই এক পিচ্চি ট্যুরিস্ট গাইডকে আমাদের সাথে দিয়ে দেয়া হল।তার নাম সুইটি। ক্লান্ত পরিশ্রান্ত চেহারায় মুখের মিষ্টি হাসিটি তার নামের সার্থকতার জানান দিচ্ছিলো। বাবাহারা মেয়েটি আমাদের নিয়ে গেল পাহাড়ের গা বেয়ে ঝরে পড়া সরু ঝরনার দিকে।দুই দিকে উচু পাহাড়ের মাঝদিয়ে একে বেকে যাওয়া মাটির রাস্তাটা সমতল থেকে কিছুটা নীচে তুলনামূলক শীতল। সুইটি আমাদের ছবি তুলতে সাহায্য করতে এগিয়ে এলো ।যতবার ক্যামেরায় ক্লিক করছিলো ততবার ই বলে উঠছিল ‘রেডি স্মাইল’।

ধরন দেখে সত্যিই মুখে হাসি ফুটে যাচ্ছিল। এবার পাহাড়ের দিকে মাটির সিঁড়ি বেয়ে উপড়ে উঠার পালা। উদ্দেশ্য পাহাড়ের চূড়া থেকে সমুদ্র দর্শন। আমাদের পিচ্চি টুরিস্ট গাইড সুইটি তড়তড় করে উঠতে লাগলো। আর মাঝে মাঝে আমাদের ছবি তুলতে থাকলো। এভাবে কিছুক্ষন উঠার পর আমরা এসে গেলাম হানিমুন পয়েন্টে। বসার জন্য বাঁশের বেঞ্চ রয়েছে সেখানে। সেখানে কিছুক্ষণ বসে সুমদ্র দেখলাম আর ছবি তুললাম। সদা হাস্যজ্জল সুইটির কাছে কৌতুহলবশত জানতে চাইলাম তার বৃত্তান্ত। সে জানালো বেশ কিছুদিন থেকে সে ও তার বোন কাজ করে এখানে।সারাদিনে সে টিকিটের টাকা থেকে ২০/৩০ টাকা পায় । তার বাবা সুমদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি।হয়তো জলদস্যুরা মেরে ফেলেছে তাঁকে। তার মা বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে। এই পাহাড়ের পাশে এক ঝুপড়িতে থাকে তারা। বিষণ্ণ মুখে সাগরের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলছিলো সে।মনে মনে ভাবলাম যে সাগর দেখে আমরা আনন্দ পায় সেই সাগরের কাছের মানুষগুলোর সাগর নিয়ে কতো দুঃসহ স্মৃতি। হানিমুন পয়েন্টে এখন দুপুরের রোদ এসে পড়েছে সুইটি জানালো এর আর একটু উপরে রয়েছে সানসেট পয়েন্ট যেখান থেকে সূর্য ডোবা দেখতে খুব ভালো লাগে। অনেকেই এখানে আসে সূর্যাস্ত দেখার জন্য।পাহাড় বেয়ে কিছুদূর উঠে বাঁশের মাচার তৈরি সানসেট পয়েন্টে উঠলাম আমরা। সেখানে আরও পর্যটকরা সাগর সৌন্দর্য অবলোকন করছিল।মাচায় উঠতেই সমুদ্রের সুশীতল বাতাস প্রান জুড়িয়ে দিলো।সামনে যতদূর চোখ যায় সুবিশাল সমুদ্র উপকূল। বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত সূর্যের আলোতে চকচক করছিলো।মনোরম বাতাসে মন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছিলো প্রশান্তি আর নিরবতায়। বিশাল প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের কাছে নিজেকে খুবই ক্ষুদ্র মনে হচ্ছিলো। মনটা চাইছিলো এখানেই থেকে যায় অনন্তকাল।কিন্তু তা কি আর হয়, ফিরে যে যেতেই হবে।
এবার যে ফেরার পালা সেই কোলাহলপূর্ণ ব্যস্ত জীবনে। ফিরে আসলাম ছোট্ট মেয়ে সুইটির মত করে নতুন করে সংগ্রাম করার জন্য। শিখে আসলাম শতকষ্টেও বলতে ‘রেডি স্মাইল’।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close