আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রবেশ নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়

ওমেন আই:
প্রায় চার দশকের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুমতি দিতে চলেছে বর্তমান সরকার। সম্প্রতি কলকাতা সফরে গিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর বাংলাদেশে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অবাধ প্রবেশ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের কাছে। যা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের সামনে তুলে ধরে বাংলামেইল। তারপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শুরু হয় নানা আলোচনা সমালোচনা।

ভারতীয় চলচ্চিত্র বিশেষ করে কলকাতার বাংলা চলচ্চিত্র আমদানি প্রসঙ্গে জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুকে লিখেন, ‘বাচ্চা লোক তালিয়া বাজাও। বাংলাদেশের সিনেমার উন্নতি করার জন্য ভারতীয় ছবি আসছে। ভারতীয় টিভি চ্যানেল দিয়ে এতদিন বাংলা সংস্কৃতির যথেষ্ট উন্নতি করা যায় নাই। এবার ভারতীয় সিনেমা দিয়ে বাকিটা করা হবে। এইরকম আত্মঘাতী জাতি আর একটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। যারা যারা স্বপ্ন দেখে আসছেন নিজস্ব ভিজ্যুয়াল নেরেটিভ নির্মাণের তারা ঘুমাতে যেতে পারেন। আর যারা কথায় কথায় ইরানের সিনেমা বিপ্লব নিয়ে কথা বলেন, দয়া করে মহসিন মাখমালবাফের লেখাটা পড়বেন। জানতে পারবেন কি করে হলিউডের আছর থেকে গা বাঁচিয়ে ইরান নিজের আলাদা পরিচয় দাড় করেছিল। ইরানের জন্য যাহা হলিউড, আমাদের জন্য তাহাই বলিউড। প্রশ্ন হলো আমরা কি আদৌ নিজের কোনো আলাদা পরিচয় চাই?

নির্মাতা অন্তর রায় লিখেন, ‘বাংলাদেশে ভারতের চলচ্চিত্রের অবাধ প্রদর্শন চায় ভারত। তাতে সম্মতও আছে আমাদের দেশের সরকার। গত ঈদেই যমুনা ব্লকবাস্টারে প্রদর্শনের জন্য আনা হয়েছিল ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’। কিন্তু সেন্সর বোর্ডের জটিলতার জন্য তা প্রদর্শন সম্ভব হয়নি।

মনে আছে, আমাদের গত তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাহেব কিন্তু বলেছিলেন, বাংলাদেশের সেন্সর বোর্ড বাতিল করে ফিল্ম সার্টিফিকেশন সিস্টেম চালু করা হবে।

দীর্ঘ ৪০ বছর বাংলাদেশের পরিচালকরা সেন্সর বোর্ড নামক শিকল প্রথা বাতিলের জন্য দাবী করে গেলেও কোন সরকার তা কর্ণপাত করেনি। এবার করছে। না না বাংলাদেশের পরিচালকদের দাবীর জন্য নয় এই পদক্ষেপ। ভারতের ছবি অবাধে প্রদর্শনের জন্যই করা হচ্ছে এই নিয়ম। তাইতো ভারতের বুম্বাদারা গোপনে একদিনের সফরে এসেই তথ্যমন্ত্রীর সাথে মিটিং করে চলে যায়।

এই ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে ভারতে মুক্তি পাচ্ছে যশরাজ ফিল্মসের ‘গুন্ডে’ সিনেমাটি। যশরাজ ফিল্মস হিন্দির পাশাপাশি ‘গুন্ডে’ বাংলাতেও ডাবিং করে মুক্তি দিচ্ছে। তাদের ইচ্ছে ছিল কলকাতা এবং বাংলাদেশেও একইসাথে সিনেমাটি মুক্তি দেবার। কিন্তু আবার সেই সেন্সর বোর্ড জটিলতা। নাহ্, এবার বোধহয় খুব শীঘ্রই সেন্সর বোর্ড বাতিল হবে। দাদাদের দাবী বলে কথা। ইলিশ দিবো, ট্রানজিট দিবো, গ্যাস দিবো…দিবো দিবো সবই দিবো।’

যারা ভারতীয় চলচ্চিত্র বাংলাদেশে প্রদর্শনের পক্ষে যুক্তি দেয়ার চেষ্টা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো লিখেন, ‘যারা বলছেন ভারতের ছবি বাংলাদেশে প্রদর্শিত হলে আমাদের জন্য মঙ্গল হবে, তাদের উদ্দেশ্যে একটাই প্রশ্ন ১৪ ফেব্রুয়ারি যদি প্রিয়াংকা চোপড়া, অর্জুন, রনবীর সিং অভিনীত ‘গুন্ডে’র সাথে জাজ মাল্টিমিডিয়ার মাহিয়া মাহি ও আরেফিন শুভর ‘অগ্নি’ মুক্তি পেতো, তাহলে কোন ছবিটা বেশী হিট হতো? কোন সিনেমাটি বেশী হল পেত? কোনটা দেখার জন্য লম্বা লাইন লাগত?’

কাজী পাপ্পু নামের জনৈক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেন, ‘এ কি করলেন আসাদুজ্জামান নূর !! ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের আদেশে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা ও চলচ্চিত্র শিল্পের সুষ্ঠু বিকাশের স্বার্থে ভারতীয় এবং পাকিস্তানী চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়। তার আগে পাকিস্তান আমলে এই দেশে অবাধে ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হতো। এদিকে গতকাল সাংষ্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, ভারতীয় ছবি প্রবেশে বাধা দিয়ে আমরা কার্যত কুপমুণ্ডুকতার পরিচয় দিচ্ছি ! উনি কী তবে শেখ মুজিবকে কুপমুণ্ডুক (কুয়ার ব্যাঙ) বললেন!’

মুন খান নামে অপর একজন লিখেন, ‘বাংলাদেশী চলচ্চিত্র উন্নয়নে যদি ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানী করতে হয়, তাহলে সঙ্গীত উন্নয়নে লতা মুঙ্গেশকরকে আমদানি কর, ক্রিকেট উন্নয়নে টেন্ডুলকারকে আমদানি কর ।
রাজনীতির উন্নয়নে আমেরিকা হতে বারাক ওবামাকে কে আমদানি কর । দুদিন পরপর মাথামোটা যেসব নীতি নির্ধারকগণ এইসব উদ্ভট কার্যকলাপে জড়ান এবং আত্মহনন মূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উঠেপরে লাগেন, তাদের কে কেউ বোঝান যে, গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close