আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
খেলাধুলাজাতীয়

ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় চট্টগ্রামে ড্র

ওমেন আই :
ঢাকায় প্রথম ‘শোচনীয়’ হারের পর দুই ইনিংসেই ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র করেছে বাংলাদেশ।ম্যাচ বাঁচাতে পারলেও সিরিজ হার এড়ানো যায়নি। মিরপুর টেস্ট ইনিংস ও ২৪৮ রানে জেতায় দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

শনিবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বিনা উইকেটে ১২ রান নিয়ে খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হত বাংলাদেশকে। কারণ জয়ের লক্ষ্য ছিল ৪৬৭ রান। স্বভাবতই ড্রর জন্য খেলছে স্বাগতিকরা, আর তাতে দারুণ সফল মুশফিক বাহিনী।

ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে পঞ্চম দিনের শুরুটা ভালোই হয়েছিল বাংলাদেশের। কোনো বিপদ ছাড়াই প্রথম ঘণ্টা পার করেছিলেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও শামসুর রহমান।

প্রথম ঘণ্টার পানি বিরতির পর কাঙ্খিত উইকেট পায় শ্রীলঙ্কা। জুটি ভাঙ্গতে অনিয়মিত লেগস্পিনার কিথুরুয়ান ভিথানাগেকে আক্রমণে আনেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস।

শুরুতে তাকে সমীহ করে খেললেও ধৈর্য হারিয়ে ড্রাইভ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান তামিম (৩১)। সহ-অধিনায়কের বিদায়ের কিছুক্ষণ পর তাকে অনুসরণ করেন প্রথম ইনিংসে শতক করা শামসুর। অফস্পিনার দিলরুয়ান পেরেরার বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৪৫ রান করেন তিনি। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৮২/২।

মধ্যাহ্ন-বিরতির আগেই দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারালেও তৃতীয় উইকেটে ইমরুল কায়েসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়েন মুমিনুল হক। তাদের ৭০ রানের ভালো জুটি ভাঙ্গে দ্বিতীয় সেশনের পানি বিরতির পর।

প্রথম ইনিংসে শতক করা ইমরুল (২৫) পেরেরার বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লে ভাঙ্গে ১৯ ওভার ২ বল স্থায়ী জুটি।

শতক করার পর ব্যাট তুললেন মুমিনুল হক।
এরপর সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ১২০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন মুমিনুল। নুয়ান প্রদীপের বলে এক রান নিয়ে মুমিনুল শতকে পৌঁছানোর পর আগেভাগেই ড্র মেনে নেন দুই অধিনায়ক। তখন বাংলাদেশের স্কোর ২৭১/৩।

১০০ রানে অপরাজিত মুমিনুলের ১৬৭ বলের ইনিংসে ছিল ১১টি চার। সাত টেস্টের ছোট ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় শতক। এই শতকের সুবাদে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শতকের সংগ্রাহকদের তালিকার তিন নম্বরে উঠে এসেছেন তিনি।

সর্বোচ্চ ৬টি শতক মোহাম্মদ আশরাফুলের। ৪ শতক নিয়ে দুই নম্বরে তামিম ইকবাল। মুমিনুলের মতোই হাবিবুল বাশারের শতক তিনটি, তবে তার এই শতক এসেছে ৫০ টেস্টে।

প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক পাওয়া সাকিব অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার।

পঞ্চম দিন ব্যাট করে এনিয়ে দ্বিতীয়বার টেস্ট বাঁচাল বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল তারা।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শেষ চার টেস্টে এটি স্বাগতিকদের তৃতীয় ড্র।

ত্রি-শতক ও শতকের সুবাদে চট্টগ্রাম টেস্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারে কুমার সাঙ্গাকারার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। ঢাকা টেস্টেও ব্যাট হাতে সাফল্য পাওয়ায় এই ব্যাটসম্যানই সিরিজের সেরা খেলোয়াড়।

শুক্রবার কুমার সাঙ্গাকারা ও দীনেশ চান্দিমালের শতকের ওপরে ভর করে ৪ উইকেটে ৩০৫ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। এরপর অতিথিরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিল।

চতুর্থ দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস জানান, ড্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করবেন তারা।

বাংলাদেশের কোচ শেন জার্গেনসেন, ম্যাচ বাঁচাতে শিষ্যদের একাগ্র ব্যাটিংয়ের পরামর্শ দিয়েছিলেন, শিষ্যরা কথা শুনেছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা: ৫৮৭ (সাঙ্গাকারা ৩১৯*, জয়াবর্ধনে ৭২, মেন্ডিস ৪৭; সাকিব ৫/১৪৮, নাসির ২/১৬) ও ৩০৫/৪ ডিক্লে. (করুনারত্নে ১৫, সিলভা ২৯, সাঙ্গাকারা ১০৫, জয়াবর্ধনে ১১, চান্দিমাল ১০০*, ম্যাথিউস ৪৩*; মাহমুদুল্লাহ ২/৪৬, সাকিব ১/৮০, সোহাগ ১/৮৭)

বাংলাদেশ: ৪২৬ (তামিম ০, শামসুর ১০৬, ইমরুল ১১৫, মুমিনুল ১৩, সাকিব ৫০, মুশফিক ২০, নাসির ৪২, মাহমুদুল্লাহ ৩০, সোহাগ ০, আল-আমিন ৯, রাজ্জাক ১১*; মেন্ডিস ৬/৯৯, পেরেরা ৩/১১৯, লাকমল ১/৭০) ও ২৭১/৩ (তামিম ৩১, শামসুর ৪৫, ইমরুল ২৫, মুমিনুল ১০০*, সাকিব ৪৩*; পেরেরা ২/৫৫, ভিথানাগে ১/৭৩)

ম্যাচ ও সিরিজ সেরা: কুমার সাঙ্গাকারা।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close