আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্তর্জাতিক

তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানচেষ্টা, নিহত ২৬৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এরদোয়ান সরকারকে হটাতে তুরস্কে শুক্রবার রাতে বিদ্রোহী সেনা সদস্যদের অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে সরকারপন্থি সেনাবাহিনী। তবে এ সংক্রান্ত সহিংসতায় শেষ পর্যন্ত ১০৪ সেনা সদস্যসহ ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ।

‍তুরস্কের নতুন সেনাপ্রধান উমিত দুনদার শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, অভ্যুত্থান সংক্রান্ত সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৬৫ জনের বেশি নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৪১ জন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ১৪’শ মানুষ।

তুরস্কের ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান করা হয়েছে জেনারেল উমিত দুনদারকে। তিনি জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর মূল নেতৃত্ব এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ছাড়া যারা অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত সামরিক বাহিনী তাদের সরিয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর।

বিবিসির খবরে বলা হয়, তুরস্কের ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ওমের সেলিক জানান, পরিস্থিতি এখন ৯০ শতাংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে। তবে এখনো কয়েকজন সেনা অধিনায়ক অভ্যুত্থানের পক্ষের সেনাদের হাতে জিম্মি হয়ে আছেন।

এদিকে তুরস্কের পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নিজ দলের সমর্থকদের রাস্তায় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। যেকোনো সময় আবার এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

এএফপির খবরে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে দেয়া এক বার্তায় এরদোয়ান বলেন, ‘সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, আমাদের সারা রাত রাস্তায় থাকতে হবে। কারণ, যেকোনো মুহূর্তে আবার নতুন করে এ ধরনের ঘটতে পারে।’

শুক্রবার গভীর রাতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা, ইস্তাম্বুলসহ বেশ কিছু শহরের দখল নিতে শুরু করে সেনারা। তুরস্কের সংসদের বাইরে সেনা ট্যাঙ্ক মোতায়েন করে শুরু হয় গোলাগুলি। রাজধানীর বাইরে থাকা এরদোয়ান এ সময় তার দলীয় নেতাকর্মীকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ পথে নামে। সেনার একাংশ প্রতিবাদী জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তুরস্কের জাতীয় টেলিভিশন, ইস্তাম্বুল এবং আঙ্কারার বিমানবন্দর দখল করে। সেনার পক্ষ থেকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য সামরিক অভ্যুত্থান করা হয়েছে বলে জানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এর পরে জানা যায়, সামরিক বাহিনীর একটি অংশ এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের বরাত দিয়ে তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন-তুর্ক জানিয়েছে, ফাস্ট আর্মি ডিভিশনের কমান্ডার জেনারেল উমিত দানদারকে ভারপ্রাপ্ত সেনা প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদুলু জানিয়েছে, প্রায় তিন হাজার বিদ্রোহী সেনাকে আটক করা হয়েছে। বিদ্রোহের চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজন জেনারেল ও ২৯ জন কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। আনাতোলিয়া বার্তা সংস্থা জানায়, সেনাপ্রধান জেনারেল হুলুসি আকারকে আঙ্কারার কাছেই বিমানঘাঁটি থেকে বন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে অভ্যুত্থানকারী সেনারা পুলিশের স্পেশাল ফোর্সের সদর দপ্তরে হেলিকপ্টার দিয়ে হামলা চালালে নিহত হয়েছেন ১৭ পুলিশ কর্মকর্তা। তবে ওই হেলিকপ্টারটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে প্রেসিডেন্টের সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাজধানী আঙ্কারার আকাশে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।  বিদ্রোহীরা যেসব হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে, সেনাবাহিনীকে সেগুলো ভূপাতিতের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ এরদোগান সরকারকে তাদের সমর্থন জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে টেলিফোনে বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত তুর্কি সরকার, বেসামরিক প্রশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’

অপরদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এরদোগান সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে বিদ্রোহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close