আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্তর্জাতিক

প্রসঙ্গ: নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ

ওমেন আই:
আফ্রিকা মহাদেশে ধর্ম এবং ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে মেয়েদের ওপর চলে নানা ধরনের অমানুষিক নির্যাতন৷ যৌনাঙ্গচ্ছেদ তাদের মধ্যে একটি ৷ তবে মালিতে সম্প্রতি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন নারী ও ধর্মীয় নেতারা৷

মেয়েরা যেন সহবাস উপভোগ করতে না পারে বা সতীত্ব রক্ষার নামে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নারীদের যৌনাঙ্গচ্ছেদ বা এফজিএম করা হয়৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক হিসেব অনুযায়ী, ঐ দুই মহাদেশের ২৯টি দেশের প্রায় ১২ কোটি থেকে ১৪ কোটি নারী অমানবিক এই ঘটনার শিকার হয়েছেন৷

ইউনিসেফের মতে, মেয়েদের যৌনাঙ্গচ্ছেদের কারণে তাদের শরীরে তাত্ক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী নানান সমস্যা দেখা দেয়৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অমানবিক কাজটি করানো হয় অনভিজ্ঞ লোক দ্বারা৷ এছাড়া, কোনো ধরনের অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই এ কাজটি করা হয়ে বলে এতে যেমন প্রচুর রক্তপাত হয় তেমন ব্যথাও হয় ভীষণ৷ বাচ্চা প্রসবের সময় এই নারীরা যে যন্ত্রণা ভোগ করেন তা ভাষায় বলে বোঝানো মুশকিল৷ এর ফলে অনেকে মা হবার ক্ষমতা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেন৷ অনেকে অত্যধিক রক্তক্ষরণে মারাও যায়৷

ইউনিসেফের মতে, মেয়েদের যৌনাঙ্গচ্ছেদের কারণে তাদের শরীরে তাত্ক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী নানান সমস্যা দেখা দেয়

মালির অধিবাসী ডিকো অনগোয়িবা যখন ছোট ছিলেন, তখন তাকেও এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা ছিল নিষিদ্ধ৷ এখন তাঁর বয়স ৪০ বছর৷ অথচ মাত্র ১০ বছর বয়সে তার যৌনাঙ্গচ্ছেদ হয়েছে৷ নিজের প্রথম ৬ মেয়ের ক্ষেত্রেও অনগোয়িবা এই কাজ করেছেন৷ কিন্তু এখন তার উপলব্ধি হয়েছে, এর ফলে সন্তান জন্মদানে বেশ কষ্ট হয় তার৷ আর তাই তার ছোট দুই মেয়ের ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গচ্ছেদ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত খুব সহজ নয়, কেননা সমাজের দ্বারা প্রত্যাখ্যান হওয়ার ভয় থাকে৷ আর তিনি না করলেও সমাজের লোকজন জোর করে তাদের করে দিতে পারে৷

৬ ফেব্রুয়ারি ছিল ‘জিরো টলারেন্স টু জেনিটাল মিউটিলেশন’ বা আন্তর্জাতিক যৌনাঙ্গচ্ছেদ বিরোধী দিবস ৷ মেয়েদের যৌনাঙ্গচ্ছেদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে বেসরকারি সংস্থা টোস্তান সেদিন মালির রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে৷ এই সংগঠনটিতে আফ্রিকার আটটি দেশের ৭ হাজার কর্মী কাজ করেন৷

টোস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মলি মেলচিং জানান, এই আয়োজনের ফলে অনেক মা তাদের সন্তানদের এই অমানুষিক নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচানোর ব্যাপারে সোচ্চার হচ্ছেন৷ তবে তিনি বলেন, এ জন্য সমাজে নারীর প্রতি সম্মান বাড়ানোটা খুব জরুরি৷ এমন সমাজ গড়ে তুলতে হবে যেখানে অভিভাবকরা তার সন্তানটিকে এ অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে দিবেন না এবং যিনি ঐ নারীকে বিয়ে করবেন তিনিও চাইবেন যে মেয়েটির যৌনাঙ্গচ্ছেদ না করা হোক৷

এটিকে ধর্মীয় প্রথা হিসেবে চালালেও বর্তমানে কিছু ধর্মীয় নেতারা বলেছেন, মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরান শরীফে নারীদের যৌনাঙ্গচ্ছেদের কথা বলা নেই৷ এসব নেতারা টোস্তানের সাথে তিন বছর ধরে কাজ করছেন৷ তাদের উদ্দেশ্যে জনসমক্ষে বিষয়টি তুলে ধরা, যাতে প্রতিটি সম্প্রদায় সমাজ সচেতনে সোচ্চার হয় এবং যৌনাঙ্গচ্ছেদ বন্ধ করে৷ সূত্র:ডয়চে ভেলে

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close