আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
অপরাধ

কক্সবাজারে হোটেল কক্ষে নারী চিকিত্সকের অস্বাভাবিক মৃত্যু

ওমেন আই :
স্বামীর প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও বিশ্বাস ছিল; তাই পরিবারের অমতে বিয়ে করে সুখের জীবন গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন ও স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে করার অব্যাহত হুমকির মুখে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। তীব্র কষ্ট আর অভিমানে শেষ পর্যন্ত ‘আত্মহনন’র পথ বেছে নিলেন। কক্সবাজারের যে হোটেলের কক্ষে তাদের হানিমুন হয়েছিল সেই বীচ রিসোর্ট হোটেলের ১১০ নং কক্ষ থেকেই মিললো এই অভিমানী নারীর মরদেহ। কক্সবাজারে এসে হোটেলে অস্বাভাবিক মৃত্যুবরণকারী এই হতভাগ্য নারীর নাম আসমা সুলতানা (৩০)।

পুলিশ জানায়, ডা. আসমা সুলতানা ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিত্সক ছিলেন। নিজের ঘাড়ে ইনজেকশন পুশ করে তিনি আত্মহত্যা করেন। গত শনিবার রাতে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে পাওয়া ৬ পৃষ্ঠার এক চিরকুটে তিনি লিখে গেছেন তার ১০ বছরের প্রেম-ভালোবাসা, বিয়ে ও সংসার জীবনের দুঃখ-দুর্দশার কথা। লিখেছেন স্বামী, শাশুড়ি ও স্বামীর মামীর নির্যাতনের কাহিনী। এই ঘটনায় আসমার স্বামী প্রকৌশলী মাসুদ মেহেদী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও মাসুদের মামীকে আসামি করে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় মামলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে আসমার বুকে বিয়ের সময়ের স্বামী-স্ত্রীর আনন্দঘন মুহূর্তের তোলা একটি রঙিন ছবি ছিল। পাশে ছিল রিংটোন অফ করা মোবাইল ফোন। বিছানায় ব্যাগের পাশে পড়েছিল তসবি, ইসলামিক বই ও সেই চিরকুট। চিরকুটে তিনি লিখেছেন শ্বশুরবাড়ির নানা যন্ত্রণার কথা। স্বামীর বার বার ডির্ভোসের হুমকি এবং আসমার পিতার প্রতি স্বামীর প্রতিশোধের কথা। স্বামী মাসুদের উদ্দেশে আসমা চিরকুটে লিখেছেন— ‘বিয়ের পর থেকে তুমি এবং তোমার মা আমাকে একদম সহ্য করতে পারতে না। কেন আমি তোমার কাছে এবং তোমার মায়ের কাছে এতো খারাপ ছিলাম জানি না। কই? কখনো তো কোন নির্যাতনের প্রতিবাদ করিনি? রাগ করে বাড়ি ছেড়ে আসলাম। তারপরেও তো কিছুই বলিনি। কেন ডির্ভোস দেয়ার জন্য লিগ্যাল নোটিস পাঠালে। আমার বাবার প্রতি কেন এতো প্রতিশোধপরায়ণ হলে? তোমার পাঠানো লিগ্যাল নোটিসে আমার তরফ থেকে আমি হ্যাঁ বলে দিলাম। তোমার যা ইচ্ছে করো। আরেকটা বিয়ে করো। কোনো সমস্যা নেই। আমি বেঁচে থেকে ডির্ভোস লেটারে স্বাক্ষর করতে পারবো না। তোমার দ্বিতীয় বিয়ে দেখার সাহস আমার নেই। তোমার উপর আমার প্রচণ্ড বিশ্বাস ছিলো। কেন বার বার আমার বিশ্বাস ভাঙলে? তোমার মা, তোমার মামীর খোঁচা মারা কথা সহ্য হচ্ছে না আমার। তাই তোমাকে চিরদিনের জন্য বিদায় দিলাম। তুমি বলতে, আমি বিরক্তিকর, আমি অশান্তি, বিয়ের আগে এটা তোমাদের মাথায় ছিলো না? বিয়ে করে আমার লাইফটা কেন শেষ করলা?’

পুলিশ জানায়, রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও এলাকার মোহাম্মদ আলমগীরের কন্যা ডা. আসমা গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে হোটেলের কক্ষটি ভাড়া নেন। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্ষটি বন্ধ দেখে কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেন। পরে দরজা ভেঙে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরদিন রবিবার বেলা আড়াইটার দিকে আসমার চাচা চাঁদপুর জেলার মতলব থানার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর মিয়া ও ভগ্নিপতি ফরহাদ খান পুলিশের কাছ থেকে মৃতদেহটি গ্রহণ করেন। পরে আসমার লাশ তার জন্মভূমি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার গ্রামের বাড়ি নিয়ে দাফন করা হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, আসমা ও মাসুদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত্ প্রেমের সম্পর্ক থাকার এক পর্যায়ে ২০১০ সালের ১০ ডিসেম্বর পরিবারের অমতে দুইজন বিয়ে করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে নানা সমস্যা লেগেই ছিল। এক পর্যায়ে বাবা-মার স্নেহ-ভালোবাসা ত্যাগ করে নিজ পরিবার ছেড়ে স্বামী মাসুদের পরিবারকে আপন করে নেন আসমা। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ভালোবাসার জন্যই শেষ পর্যন্ত জীবন দিতে হল আসমাকে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close