আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

যুক্তরাজ্যে গণজাগরণ মঞ্চের বর্ষপূর্তি

নিলুফা হাসান, লন্ডন থেকে:
গণজাগরণ মঞ্চের বর্ষপূর্তি উদযাপিত হলো। যুক্তরাজ্যে গণজাগরনের শুরুটা হয়েছিল পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্ক থেকে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারী। ২০১৩ সালের ৫ মে কাদের মোল্লার ফাঁসীর দাবীতে ঢাকার শাহবাগ চত্বরে গণজাগরন মঞ্চের যাত্রা শুরু হয়। যার স্ফুলিঙ্গ এসে পড়ে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাঙালীদের কাছে, শাহবাগের সঙ্গে প্রাণের টানে অস্তিত্বের বন্ধনে যুক্ত হয় প্রবাসী বাঙালীরা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের নানা কর্মসূচীতে সব শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। ফলে ৮ ফেব্রুয়ারী বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আলতাব আলী পার্কে আয়োজন করা হয়েছিল গণসমাবেশের।
সমাবেশের শুরুতে স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদদের এবং বাংলাদেশের পরম বন্ধু স্বাধীনতার সংগঠক নোরা শরীফের আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সমাবেশে উপ¯ি’ত সকলে গত এক বছরের স্মৃতিচারণ করেন। তারপর শুরু হয় জাগরনের গান, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকাকে সম্মান প্রদর্শন ও শপথ বাক্য পাঠের পর সকলে মিছিল করে ব্রিক লেন হয়ে মন্টিফিউরি সেন্টারে পৌঁছেন। কর্মসূচীতে উপ¯ি’ত ছিলেন সুলতান শরীফ, সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুক, হোসনেয়ারা মতিন, আনসার আহমেদউল্লাহ, শামীম আজাদ, সৈয়দ আনাস পাশা, মুজিবুল হক মণি, শাহরিয়ার, মেহের নিগার, সৈয়দা নাজনিন শিখা, নিলুফা ইয়াসমীন, রুবী হক, অজন্তা রায়, লেনিন হক, জামাল খানসহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মন্টিফিউরি সেন্টারে শুরু হয় জাগরনের বর্ষপূর্তির দ্বিতীয় পর্ব। শারমীন জাহান ভূট্টোর উপ¯’াপনায় এই পর্বে থাকে গণজাগরণ সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের মতামত, শিশুদের গান পরিবেশন, স্কাইপের মাধ্যমে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে উপ¯ি’ত সকলের সরাসরি মতবিনিময়। সবশেষে প্রদর্শিত হয় গত এক বছরে গণজাগরনের আন্দোলন নিয়ে ডায়মন্ড স্টুডিও কর্তৃক নির্মিত ডকুমেন্টারি ‘অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের ডাক‘।
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারী কাদের মোল্লার রায়ের পরই প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালী তরুণেরা। তাদের উদ্যোগেই কোন রকম প্র¯‘তি ছাড়াই সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ডাক দেয়া হয় ৮ফেব্রুয়ারী আলতাব আলী পার্কে সমবেত হওয়ার জন্য। এরই সাথে একাত্মতা জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেয় যুক্তরাজ্যের স্বাধীনতার স্বপক্ষের সব শ্রেণীর মানুষ। সেদিনের বিকালের সমাবেশকে বানচাল করার জন্য দুপুর থেকেই জামাত শিবির আলতাব আলী পার্কে অব¯’ান নেয়, রাত দশটা পর্যন্ত দু‘পক্ষই মুখোমুখি অব¯’ানে ছিল। গণজাগরণের সদস্যরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে ‘তুই রাজাকার‘ ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসী চাই‘ শ্লোগান দিয়ে সমাবেশ ¯’ল মুখর করে রাখে। পরিশেষে শহীদ মিনারে শপথ বাক্য পাঠ করে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সেই মূহূর্তে জামাত শিবির পেছন থেকে গণজাগরনের কয়েকজন সদস্যকে আক্রমন করে আহত করে।
যুক্তরাজ্য গণজাগরনের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হলো:
গত বছর ১৩ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে শাহবাগ আন্দোলন সম্পর্কে সজাগ করার লক্ষ্যে এবং ‘বিবিসি‘র একতরফা সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে বিবিসির হেডকোয়াটারের সামনে সমাবেশ হয়। ‘বিবিসি- সিএনএন ওপেন ইউর আইস‘ ‘ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া ওপেন ইউর আইস‘, ‘জাস্টিস ফর জেনোসাইড‘ শ্লোগানে কেঁপে উঠেছিল বিবিসির প্রাঙ্গন। সমাবেশে উপ¯ি’ত সকলের স্বাক্ষরসহ একটি পিটিশন বিবিসির কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঊনিশে ফেব্রুয়ারী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ডেমোনেস্ট্রেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারী ট্রাইবুনাল নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গণজাগরণের সদস্যরা সাক্ষাৎ করে ‘স্ট্যান্ড বিসাইড দ্যা ভিকটিমস নট বিসাইড দ্যা একুইসড‘ এই দাবী তুলে ধরে। ১০ মার্চ ঐতিহাসক ট্রাফলগার স্কয়ারে সমাবেশ করা হয়।
যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ফেরত পাঠিয়ে বিচারের আওতায় আনার দাবীতে তিনশ‘ কিলোমিটার হেঁটে এসে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পিটিশন দেয়ার উদ্যোগ নেন ওল্ড হ্যাম-এর ব্যবসায়ী সাজ্জাদুর আজিজ মালিক। তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায় যুক্তরাজ্য গণজাগরন মঞ্চ। ২০ মার্চ থেকে ‘ওয়াকিং ফর জাস্টিস‘ কর্মসূচী নামে একটি টীম যাত্রা শুরু করে ওল্ড হ্যাম থেকে। সাজ্জাদুরকে সঙ্গ দেবার জন্য ঐ টীমে সমন্বকারী হিসেবে ছিলেন অভিনেতা ফজলুল কবির তুহিন , প্রবীণ সাংবাদিক আমিনুল হক বাদশা, মঞ্জুলিকা জামালী, স্মৃতি আজাদ ও জুয়েল রাজ। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ‘ওয়াকিং ফর জাস্টিস‘ টীম লন্ডন পৌঁছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পিটিশন প্রদান করে। বুদ্ধিজীবী হত্যান্ডের মূল নায়ক চৌধূরী মঈনুদ্দীনকে দেশে ফেরত পাঠাবার দাবীতে বারবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে, ¯’ানীয় এমপিদের কাছে গণস্বাক্ষর সম্মিলিত চিঠি পাঠিয়েছে গণজাগরন মঞ্চ।
এই ছিল শাহবাগের উত্থাল সময়গুলোতে বিলেতের কর্মসূচীসমূহ। এখনও থেমে যায়নি আন্দোলন, যখনি বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বিতর্কিত করার কোন অপপ্রয়াস চালিয়েছে কোন আন্তর্জাতিক সংগঠন তখনি সরব হয়েছে যুক্তরাজ্য গণজাগরণ মঞ্চ।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close