আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
নারী সংগঠন

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আয়োজনের গ্রন্থ প্রকাশ উৎসব অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত `Vulnerable Empowerment: Capabilities and Vulnerabilities of Female Garments Workers in Bangladesh’ বিষয়ক গবেষণা গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, পোশাকশিল্পে কর্মরত নারীদের অবস্থান বিষয়ক একটি গবেষণা কাজ পরিচালনা করেছে। গবেষণার বিষয়: `Vulnerable Empowerment: Capabilities and Vulnerabilities of Female Garments Workers in Bangladesh’। সম্প্রতি গবেষণা গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে। এই উপলক্ষে ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সুফিয়া কামাল ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় আনোয়ারা বেগম, মুনিরা খান মিলনায়তন-এ গবেষণা গ্রন্থটির প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্সটিটিউটফর ইনক্লুসিভ ফাইনান্স এন্ড ডেভলপমেন্টের বিশিষ্ট গবেষক ও নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কামাল মুজেরী ও বিআইডিএস এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ।  গবেষকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড.জাহিদ উল আরেফীন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগীু অধ্যাপক ড.অতনু রব্বানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.সামিনা লুৎফা। প্রকাশনা উৎসবে সূচনা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম।  অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম।
সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সূচনা বক্তব্যের পর গবেষণা বইয়ের মোড়ক উন্মেচনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। মোড়ক উন্মেচন করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম সহ উপস্থিত সকলে
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন এই বইটির উল্লেখযোগ্য দিক হল বইটিতে সার্বিক একটি বিষয় উঠে এসেছে। নারীর ব্যাতিক্রমি ধর্মী ক্ষমতায়নের প্রক্রিয়া এই গার্মেন্টস সেক্টর বলে তিনি মন্তব্য করেন।  তিনি বলেন এটা শুধু জীবন-জীবিকার বিষয়ই নয় সার্বিকভাবে নারীর জীবনের একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি দিক। ক্ষমতায়ন দেখাতে গবেষকরা অনেক ধরনের সূচক এই বইটিতে দেখিয়েছেন যা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে তিনি মন্তব্য করেন।  তিনি আরো বলেন আমাদের দেশের নারী শ্রমিকরা এখন প্রান্তিক পর্যায়ে। কারণ নারীরা এখনো তাদের প্রাপ্য মজুরি হতে বঞ্চিত। তবে শ্রমিকদেও উন্নতির জন্য তাদেও প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কারণ শ্রমিমদের প্রশিক্ষন দিলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে। তিনি বলেন কিছু কিছু সূচকে নারী অনেক এগিয়ে গেলেও বর্তমানে আমাদের দেশের নারীরা অনেক ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে তিনি সকলকে এগিয়ে আসার আহŸান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম বলেন এই বইটি আমাদেও একটি অর্জন। আজ বাংলাদেশে একদিকে হিমালয়সম অর্জনের পাশাপাশি বিশাল এক বৈপরিত্য লক্ষ করা যায়।  নারীর ক্ষমতায়নকে আমরা কিভাবে দেখবো, কিভাবে নারীকে আরো ক্ষমতায়িত করবো সে বিষয়টি আমাদের দেখতে হবে। এই স্টাডিটি গার্মেন্টসে নারী শ্রমিকদেও চিত্র অনেকটাই তুলে এনছে বলে তিনি মস্তব্য করেন। এই বিষয়ে তিনি আরো বলেন যা কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে পরবর্তীতে এই ধরনের বিষয়গুলোকে আমরা বের হয়ে আসার চষ্টো করবো। তবে নারীর অধিকারের বিষয়টি সামগ্রিকভাবে জেন্ডার লেন্স থেকে দেখে নারীর মানবাধিকার রক্ষায় সকলকে একযোগে কাজ করার আহŸান জানান তিনি।
ইন্সটিটিউটফর ইনক্লুসিভ ফাইনান্স এন্ড ডেভলপমেন্টের বিশিষ্ট গবেষক ও নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কামাল মুজেরী বলেন গার্মেন্টসে নারীরা অভিগমনের ফলে তাদের জীবনের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তিনি বলেন কর্ম ক্ষেত্রে এবং ব্যাক্তিগত ভালনারিবিলিটের কথা এই বইটিকে উঠে এসেছে যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শ্রমিক বান্ধব পরিবেশ তৈরির দিকে লক্ষ করা উচিৎ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে ওয়েজ ইনকামের সুযোগ থাকলে সকলের মধ্যেই একটি পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। কিন্তু অর্থনৈতক ভাবে ক্ষমতায়িত হলেই যে সকল কিছু পরিবর্তন হবে তা ঠিক নয়। কারণ তাদেও এই বিষয়গুলো আমরা এখনো মূল ধারায় আনতে পারছি না। এই বিষয়টি পরিবর্তনের লক্ষে সকলকে একত্রে কাজ করার আহবআন জানান তিনি।
বিআইডিএস এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন এই স্টাডিটি নারী গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিষয়ে আমাদের একটি সামগ্রিক ধারনা দেয়, যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন এই ক্ষেত্রে আমরা দেখি নারী শ্রমিকরা তারপরও কোন কোন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক এবং তারা খুশি। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রটি নারীকে কিছুটা হলেও স্বাধীনতা দিয়েছে যা টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদেও সকলকে নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সূচনা বক্তব্যে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মেসলেম উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন ড. কাবেরী গায়েন এই কাজটির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। কিন্তু দেশের বাইরে থাকায় তিনি অনুপস্থিত। তিনি বলেন নারীর মানবাধিকার রক্ষায় মহিলা পরিষদ বহুমুখি পদ্ধতিতে কাজ করে আসছে। মহিলা পরিষদ জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন তা বাস্তবায়নের কাজ করছে। সেবামূলক ও আন্দোলন মূলক কাজের মাধ্যমে মহিলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। জেন্ডার সংবেদনশীল সমাজ গঠনের লক্ষেও বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ মহিলা পরিষদ পরিচালনা করে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যার মূল লক্ষ হল নারীরর মানবাধিকার রক্ষা।
গবেষকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড.জাহিদ উল আরেফীন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.অতনু রব্বানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.সামিনা লুৎফা। তারা বলেন এই বইটিতে নির্ভরশীল ও ক্ষমতায়ন দুটি বিষয় একসাথে  এসেছে। যার মূল লক্ষ ছিল একদিকে নারীর ভালনারিবিলিটি এবং অন্যদিকে নারীর ক্ষমতায়নের চিত্র ফুটিয়ে তোলা। একদিকে যেমন তারা ক্ষমতায়িত হয়েছে অন্যদিকে ক্ষমতায়নের জন্য তারা যে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে আসলো সেখানে তারা আবার নতুন একধরণের ভালনারিবিলিটির মধ্যে পড়ছে । যা এই বইটিতে বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে ফুটিয় তোলা হয়েছে। তিনি বলেন শ্রমিকরা মনে করেন তাদের কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু তা বড় ধরনের অগ্রগতি নয় তা এই স্টাডিতে উঠে এসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তারা আরো বলেন এখানে দেখা হয়েছে নারী শ্রমিক যারা আছে তারা ভালনারেবল কিনা যদি হন তাহলে কোথায়। আবার বলা হয় নারীরা এই সেক্টরে আসলে তাদের ক্ষমতায়ন হয়। ব্যাক্তিজীবনের সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রে এবং স্ট্রাকচারাল ভালনারিবিলিটির শিকার হন তারা। গবেষনায় দেখা গিয়েছে ২২ জন নারী একটি টয়লেট শেয়ার করেন যা একটি বড় ভালনারিবিলিটির জায়গা। তাদের এই ক্ষমতায়নের অভাবের একটি কারণ হচ্ছে মজুরি কম। দেখা গিয়েছে যার স্বামী নেই, শিক্ষা নেই এবং যার বয়স ২৬ এর উপরে সে সবসময় স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মধ্যে থাকে। ৩০ ভাগ নারী শ্রমিক বলেন তারা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। কাঠামোগত ভালনারিবিলিটি হচ্ছে নারীর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকি। এই ক্ষেত্রে রানা প্লাজার উদাহরণ দেন তারা। এই সমস্যা সমাধানে সুশাসন সবচেয়ে জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেন। ৬৩% নারী বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ আছে। দেখা গেছে যে নারী শ্রমিকদের মধ্যে দেখা গিয়েছে যারা কর্মস্থলকে নিরাপদ মনে করছে তাদের আত্মতুষ্টি বেশি।  শ্রমিককে যতক্ষন পর্যন্ত মানবাধিকার না দেয়া হবে ততক্ষন পর্যন্ত সমস্যা ঘটতেই থাকবে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close