আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
মতামতস্লাইড

নীরব ব্যালট বিপ্লব ঘটে গেছে

ফরিদা ইয়াসমিন, নিউইয়র্ক থেকে : মেরি পিরেট একজন শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান। বয়সের ভারে ন্যুব্জ। ভোট দিয়ে বের হচ্ছেন। কে হচ্ছেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট? জানতে চাইলে বললেন, ‘ট্রাম্প, ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমি ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছি। ট্রাম্প আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছে।’

সমস্ত হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে আমেরিকার জনগণ ভোট দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে। নির্বাচনকে নিয়ে অনেক নাটকীয় ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছে মানুষ। আমেরিকার নির্বাচনের ইতিহাসে এবারই প্রথম মতামত জরিপগুলোকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে উল্টো ফল হয়েছে। এক নীরব ব্যালট বিপ্লব ঘটেছে। যারা আগের নির্বাচনগুলোর প্রত্যক্ষ করেছেন, তাদের মতে এত ভোটার উপস্থিতি এর আগে আর দেখা যায়নি। বিশেষ করে বয়স্ক শ্বেতাঙ্গ ভোটাররা ভোট দিতে এসেছেন বেশি। সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ট্রাম্পের মুসলিম ও অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য উগ্র জাতীয়তাবাদীদের আকর্ষণ করেছে। নির্বাচনের আগে যাদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি তারা এশীয়, আফ্রিকান, মুসলমান বিশেষ করে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন। এদিকে নির্বাচনের পরে রাতে বিজয় উৎসব করার জন্য প্রস্তুত নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ার্স এবং হিলারির বিজয় উৎসবের জন্য ম্যানহাটনের জেভিটস সেন্টার। বিকাল থেকেই ভিড় হতে থাকে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও হাজার হাজার সমর্থকের। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে তারা সমবেত হতে থাকে। বড় পর্দায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা এবং সেই সঙ্গে বক্তৃতা, বিভিন্ন ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হতে থাকে। হিলারির সমর্থকরা নিশ্চিত ছিলেন হিলারিই হতে যাচ্ছেন দেশের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। এই প্রত্যাশা অনেক নারীর মধ্যে ছিল। নির্বাচনী ফলাফলে যখন হিলারির পরাজয় মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যায়, তাদের অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। প্রথমদিকে যে উল্লাস উৎসব ছিল আস্তে আস্তে স্তিমিত হতে থাকে। উল্লাস বাড়তে থাকে ট্রাম্প শিবিরে। মার্কিন নির্বাচনের যে বিষয়টি চোখে পড়েছে তা হচ্ছে সুশৃঙ্খল একটি নির্বাচন। কোথাও কোনো নির্বাচনী পোস্টার, লিফলেট নেই। নির্বাচন চলছে, পাশাপাশি প্রচারণাও চলছে, তবে নির্বাচনী কেন্দ্রের নির্দিষ্ট দূরত্বে। নির্বাচনের দিন দুপুরে জ্যাকসন হাইটের ডাইভারসিটি প্লাজায় হিলারির সমর্থনে সমাবেশে কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি, কুইন্সব্যুরো প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা কার্টজ, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক অ্যাডভোকেট লেটিসা জেমস, নিউইয়র্ক স্ট্যাট সিনেটর ইকে পেবাল্টাসহ অনেকে যোগ দেন। তারা বক্তৃতায় হিলারির পক্ষে ভোট চান। ভোট দিতে গিয়ে এবারই প্রথম ভোটাররা দেখতে পান ব্যালট পেপারে বাংলায় নির্দেশনা দেওয়া আছে। অনেক জাতিগোষ্ঠীর দেশ আমেরিকায় নির্বাচনী কেন্দ্রের বাইরেও অন্যান্য ভাষার সঙ্গে বাংলায় নির্দেশনা ছিল। এই বাংলা ভাষা যোগ হওয়ার পেছনে এখানকার বাঙালি কমিউনিটির যথেষ্ট অবদান আছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা দেনদরবার করে এটি প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। এশীয় আমেরিকান ও মুসলমানরা হিলারির পক্ষে ভোটে ব্যাপক প্রচারণায় অংশ নিয়েছে। তবে কট্টর হিন্দুরা ছিল ট্রাম্পের পক্ষে। হিলারির পরাজয় নিশ্চিত হওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রাণকেন্দ্র বলে খ্যাত জ্যাকসনহাইটে সুনসান নীরবতা নেমে আসে। অথচ আগের দিনও জ্যাকসনহাইটে গভীররাত পর্যন্ত আড্ডা চলে। আমেরিকানদের বরাবরই নির্বাচনে আগ্রহ কম। রাস্তাঘাটে কোথাও রাজনীতি নিয়ে তর্ক করতে দেখা না গেলেও ঠিক ব্যালট বিপ্লব তারা ঘটিয়ে দিয়েছেন। গণতন্ত্রের দেশে এটাই সবার কাম্য বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

লেখক : সম্পাদক, ওমেনআই২৪ডটকম

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close