আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্পট লাইট

ভারতে নারী উৎসর্গ প্রথা তুলে দিতে নির্দেশ

ওমেন আই :
এক সংগঠনের আবেদনের ভিত্তিতে ঘৃণ্যতম দেবদাসী প্রথা তুলে দিতে কর্ণাটক রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিলেন সুপ্রিম কোর্ট। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির অভিযোগ, বেআইনি হলেও মন্দির বা বিগ্রহের কাজে নারীদের ‘উৎসর্গ’ করার প্রাচীন প্রথা এখনও চলছে।

সম্প্রতি কর্ণাটক রাজ্যের দেবনগর জেলার উত্তরঙ্গমালা দূর্গা মন্দিরে রাতের বেলায় নারীদের দেবতার নামে ‘উৎসর্গ’ করার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে – এই মর্মে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন এক বেঞ্চ রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ঐ অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এই কুপ্রথা কার্যত নারীদের যৌনশোষণ, যা নিষিদ্ধ করা হয় ১৯৮৮ সালে। আশা ছিল, এর ফলে দেবদাসীদের সামাজিক যৌনশোষণ বন্ধ হবে। কিন্তু তা হয়নি। এখনো ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে, মহারাষ্ট্রে, ওড়িষায় এবং গুজরাটে দেবতাকে উৎসর্গ করার নামে দেবদাসীদের প্রধানত দেহভোগের কাজে ব্যবহার করা হয়। দেবতা বা মন্দিরে উৎসর্গ করার পর তাদের পরিচয় হয় দেবদাসী। কোনো কোনো অঞ্চলে তাদের বলা হয় যোগিনী। প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন এই প্রথা ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর পেছনে আছে চরম দারিদ্র্য, জাতিভেদ এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা।

গরিব ঘরের মা-বাবা তাদের কুমারী মেয়েকে রজঃস্বলা হবার আগেই নিয়ে আসে মন্দিরে। প্রথমে কুমারী মেয়েদের নিলাম করা হয়। তারপর মন্দিরের প্রধান পুরোহিত উৎসর্গ করার নামে বিগ্রহের সঙ্গে কুমারী মেয়েদের তথাকথিত বিয়ে দিয়ে দেন। এরপর অন্য কোনো পুরুষ ঐ মেয়েটির স্বামী হতে পারে না। খাওয়া-পরার বিনিময়ে মন্দিরে থেকেই তাদের সারা জীবন কাটে কায়িক পরিশ্রমের সঙ্গে মন্দিরের প্রধান পুরোহিত থেকে শুরু করে মন্দিরের অন্যান্য পুরুষদের যৌন লালসার শিকার হয়ে। কিংবা সমাজের উচ্চ বর্গীয় ধনী কিংবা সামন্ত প্রভুদের রক্ষিতার ভূমিকা পালন করতে হয়। মন্দিরের পূজারি ব্রাহ্মণ এবং সামন্ত প্রভুদের যোগসাজশে কৃষক ও কারুশিল্পী বা কারিগরদের ওপর ধর্মীয় প্রভাব খাটিয়ে দেবদাসীদের বেশ্যাবৃত্তিকে দেয়া হয় ধর্মীয় শিলমোহর। উৎসর্গের পর দেবদাসীকে ভোগ করার প্রথম অধিকার মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের।

মন্দিরে পূজার কাজ ছাড়াও এদের নাচ গান করতে হত। ঐতিহাসিক রমেশ মজুমদার এবং ইউ এন ঘোষালের মতে, মধ্যযুগে গরিব ঘরের নীচু জাতির মেয়েদের শোষণের উৎস ছিল এই দেবদাসী সম্প্রদায়। সে সময় দেবদাসীদের সংখ্যা ছিল সবথেকে বেশি, যার সিংহভাগ ছিল দক্ষিণ ভারতে। অনেকের মতে, ভারতে দেবদাসী প্রথার প্রচলন শুরু হয় ভারতে বৌদ্ধধর্মের পতনের সঙ্গে। বৌদ্ধমঠগুলির বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনীরাই বিবর্তনের মধ্য দিয়ে পরবর্তীকালে হিন্দু মন্দিরের দেবদাসী হয়ে ওঠে – তার প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণ প্রাচীন ভারতীয় ধর্মশাস্ত্র যেমন জাতক, কৌটিল্য কিংবা বাৎসায়নের কামশাস্ত্রে দেবদাসীর উল্লেখ পাওয়া যায় না।

ভারতীয় ধর্মশাস্ত্রবিদ যোগাশঙ্কর এই প্রথার বিবর্তনের প্রধান যে সব কারণ উল্লেখ করেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নরবলির বিকল্প, জমির উর্বরতা বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বাড়ানো, প্রাচীন দ্রাবিড় ধর্মসংস্কৃতির অঙ্গ হিসেবে লিঙ্গ উপাসনা, অতিথিদের আপ্যায়নের অঙ্গ হিসেবে পুরুষ অতিথির যৌনসুখ চরিতার্থ করা এবং ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মতো উঁচু জাতের লোকেদের দ্বারা নীচুজাতের শোষণ ইত্যাদি। এই লজ্জাজনক অমানবিক কুপ্রথা নির্মূল করতে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু উপযুক্ত সচেতনতা বা মোটিভেশন না থাকায় তা সফল হচ্ছেনা।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close