আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

দারিদ্র্যমুক্ত দক্ষিণ এশিয়া গড়তে লেখক সাহিত্যিকদের একসঙ্গে কাজ করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

বাসস: দারিদ্র্যকে এ অঞ্চলের প্রধান শত্রু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়াকে একটি দারিদ্র্যমুক্ত, শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে লেখক ও সাহিত্যিকদের একসঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি হোক আর সাহিত্যই হোক, সবকিছুর মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। এ অঞ্চলের প্রধান সমস্যা দারিদ্র্য। অথচ এটা হওয়ার কথা ছিল না। “আমি বিশ্বাস করি, আমরা এক হয়ে কাজ করলে সার্কভুক্ত দেশগুলো দ্রুততম সময়ে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে।” এজন্য তিনি এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপনের উপর গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে দু’দিনব্যাপী সার্ক সাহিত্য উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন।
ফাউন্ডেশন অব সার্ক রাইটার্স অ্যান্ড লিটারেচারের বাংলাদেশ চ্যাপ্টার রাইট ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক এবং ফাউন্ডেশন অব সার্ক রাইটারর্স অ্যান্ড লিটারেচারের সভাপতি অজিত কাউর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেলিনা হোসেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রুবানা হক। অনুষ্ঠানের শুরুতে কবি শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতা আবৃত্তি করেন বাংলায় ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইংরেজিতে ডালিয়া রহমান। এবার উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সীমানা পেরিয়ে : আস্থার ও মিলনে’।
রাজনীতিবিদগণ এবং সাহিত্য অঙ্গনের মানুষরা দারিদ্র মুক্তির মতো জায়গায় এক হয়ে কাজ করতে পারেন-এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে মেলবন্ধন সৃষ্টিতে সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে সক্ষম।’
এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন, সাহিত্য-সংস্কৃতি কোন সীমারেখা মানে না। মানুষে মানুষে যোগাযোগ সৃষ্টিই কেবল পারে আমাদের মধ্যে বিভেদ, বৈষম্য এবং অন্ধকার দূর করতে।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি- প্রকৃত জীবনমুখী সাহিত্যই পারে মানুষকে হিংস্রতা ও হানাহানির অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে। সাহিত্য মানব ইতিহাসের মহাসড়ক। এই মহাসড়ক ধরেই পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষের সঙ্গে অন্যপ্রান্তের মানুষের যোগাযোগ ঘটে।”
শেখ হাসিনা বলেন, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি-ভাষা বিবেচনায় সার্কভুক্ত দেশগুলো একইসূত্রে গাঁথা। ভৌগলিক সীমারেখা আমাদের ভূখন্ডগুলোকে আলাদা করলেও, এ অঞ্চলের মানুষেরা মনন ও মানসিকতায় প্রায় একই রকমের।
তিনি বলেন, ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বাংলায় বক্তৃতা দিয়ে আবারও এই ভাষাকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
১৯৯৯ সালে তাঁর সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালীন ২১ শে ফেব্র“য়ারি আর্র্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত হওয়ার নতুন মাত্রা পেয়েছে । বিশ্বের ১৯৩ টি দেশে আজ একুশে মাতৃভাষার রক্ষা ও উন্নয়নের অনুপ্রেরণা হিসেবে পালিত হচ্ছে। এ সময় তিনি প্রবাসী বাঙালি রফিক ও সালামের অসাধারণ উদ্যোগের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন থেকে একুশ শুধু ভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, জাতীয় জীবনের দিকনির্দেশক হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের মনন এবং মানবিক মূল্যবোধকে শাণিত করেছে। আমাদের অধিকারবোধকে সুতীক্ষè করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলার ঊর্বর ভূমি অসংখ্য কবি-সাহিত্যিকের জন্ম দিয়েছে। সেই মধ্যযুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত আছে।
বাংলার বাউল, কবিয়াল, সাধক, বয়াতিরাও আমাদের সাহিত্য-সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলার কামার-কুমার-সূতোরগণও এক একজন সৃষ্টিশীল শিল্পী। সেকালের ফকির লালন শাহ, সিরাজ সাঁই বা একালের আব্দুল করিম, রাধারমণ দত্ত প্রমুখ আমাদের মনোজগতকে শাণিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাকবি আলাওল, আব্দুল হাকিম, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জসিমউদ্দিন, জীবনানন্দ দাশ যুগে যুগে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করেন। তিনি তার বত্তৃতার শুরুতে বন্ধুপ্রতিম সার্কভুক্ত দেশগুলো থেকে আসা সাহিত্যিকদের স্বাগত জানান।
উৎসবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভূটান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের খ্যাতনামা ৩০ জন ও স্বাগতিক বাংলাদেশের ৩৮ জন লেখক, কবি ও সাহিত্যিক অংশ নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close