আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়নারী সংগঠন

নারীর নিরাপত্তা নিয়ে ১৫টি তৃণমূল নারী সংগঠনের জোট

ওমেন আই: বাংলাদেশের ১৫টি তৃণমূল নারী সংগঠন আজ যে কোনো ধরনের যুদ্ধ ও সংঘাতে বাংলাদেশের নারী ও শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তার জন্য জোটবদ্ধ হয়েছে।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস-’১৪ এর প্রাক্কালে গুলশানের স্পেক্ট্রা কনভেশন সেন্টারে বাংলাদেশের ১৫টি তৃণমূল নারী সংগঠন ও পাক্ষিক অনন্যা যৌথভাবে এই জোটের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান ও সংঘাতে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাবিত ১৩২৫ রেজ্যুলিউশন-এর ওপর একটি আলোকপাত-মূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ৩১ অক্টোবর বাংালাদেশ ও কানাডার প্রস্তবনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ঐতিহাসিক ১৩২৫ প্রস্তাবনাটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়। এই প্রস্তাবনায় বিশেষ গুরুত্ব সহকারে সংঘাত প্রতিরোধে এবং সংঘাত নিরসনে নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে নতুন করে সামনে নিয়ে আনা হয়। প্রস্তাবনাটিতে বলা হয় যে, শান্তি আলোচনায়, শান্তি সংগঠনে, শান্তি রক্ষায়, সংকটে মানবিক সহায়তায় এবং সংঘাত-উত্তরকালে পুনর্বাসনে নারীদের পুরুষের সমান ও সামগ্রিক অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা ব্যাতিরেকে শান্তি ও নিরাপত্তাকে যেমন ¯’ায়ী করা যাবে না তেমনি শান্তিময় পরি¯ি’তিকে টিকেয়েও রাখা যাবে না।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাই কমিশনার হেদার ক্রুডেন। সম্মানীয় অথিতির ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের হাই কমিশনার ভানিয়া কাম্পোস দা নেবরেগা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ বিষয়ক মহাপরিচালক, সাইদা মুনা তাসনীম। আরো উপস্থিত ছিলেন ক্লিকইত্তেফাক.কমের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তারিন হোসেন মঞ্জু।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক ও ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন।

অনুষ্ঠানে তৃণমূল ১৫টি নারী সংগঠনের প্রধান নারীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ভেতর দিয়ে অনুষ্ঠানটির সূচনা হয়। এরপর আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর বাংলাদেশ ক্যান্ট্রি ডিরেক্টরদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

প্রধান অথিতির ভাষণে কানাডার হাই কমিশনার হেদার ক্রুডেন বলেন, বাংলাদেশ যদিও যুদ্ধ পরি¯ি’তি বিরাজ করছে না, তবে গত কয়েক বছর ধরে এদেশে নারীরা নানানভাবে আক্রান্ত হয়েছে। কখনও রাজনৈতিকভাবে, কখনও জাতিগতভাবে বা সন্ত্রাসী কর্মকা-ের ভেতর দিয়ে নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত ভানিয়া কাম্পোস দা নেবরেগা বলেন, নারীরা সবখানেই কোনো না কোনো ভাবে ভোগান্তির ভেতর দিয়ে দিনযাপন করছে, এই ভোগান্তির জন্য তারা নিজেরা দায়ী নয়। কখনও রাষ্ট্রীয়, কখনও সামাজিক-রাজনৈতিক কারণে নারীরা নির্যাতনের শিকার হন। এ কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাবিত ১৩২৫ রেজ্যুউলিশন নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ইউএন ওমেন প্রতিনিধি, ক্রিস্টিনা হান্টার বলেন, জাতিসংঘ ১৩২৫ রেজ্যুউলিশন ঘোষণার মাধ্যমে ২০০৪ সালকে একটি ঐতিহাসিক বছরে পরিণত করে। শান্তি আলোচনায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবার জোরাল দাবী এই রেজুলিউশনের মাধ্যমে প্রথম উঠে আসে।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে তাসমিমা হোসেন সকলকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, অনন্যার যাত্রা হয় ১৯৮৮ সালে। নারীদের নারীদের ভাবনা ও নারীদের নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরার জন্যই অনন্যা শুরু করি। দেখতে দেখতে প্রায় ২৬ বছর চলে গেল। বাংলাদেশে নারীদের নিয়ে কাজ করার মতো তেমন কোনো কাগজ ছিল না। আমি সেই কথা ভেবেই এগিয়ে আসি। আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে, প্রত্যেকের একটা গল্প থাকে, একটা জীবনবোধ থাকে, সেই গল্প ও বোধটা সকলের জানা উচিত। এরপর নারীদের সৃজনশীল ও সামাজিক কাজে উতসাহিত করার জন্য অনন্যা প্রতিবছর ১০ জন নারীকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য স্বীকৃত প্রদান করতে থাকে, সেই সাথে অনন্যা প্রতিবছর সাহিত্যে অবদান রাখান জন্য একজন নারীকে পুরস্কৃত করে।
অনন্যা সবসময় নারীদের পাশাপাশি ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য অনন্যা এগিয়ে এসেছে। সকল ধরনের সহিংসতার বাইরে রাখা হোক নারী ও শিশুদের।

অনুষ্ঠানে আরো বক্ত্যা রাখেন,
ফারুক ফয়সল, যিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাবিত ১৩২৫ রেজুউলিশন নিয়ে দক্ষিন এশিয়ায় কাজ করছেন,
১৫টি তৃণমূল নারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে হোসনে আরা জলি, টিএমএসএস এর ডিরেক্টর হোসনে আরা বেগম ও ক্লিকইত্তেফাক.কমের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তারিন হোসেন মঞ্জু।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close