আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
মতামত

নারী নেতৃত্ব : গ্লাস সিলিং

আজকাল সব কোম্পানিই তাদের বোর্ডরুমে নতুনত্ব আনতে চায়। কিন্তু সেখানে মহিলা সদস্যদের অন্তুর্ভূক্তি কি সবাই মেনে নিতে পারেন? এ পর্যন্ত প্রায় ৮৭% নারী ডিরেক্টর লিঙ্গ প্রভেদ সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানান। নিচে এ ব্যাপারে তাদের কিছু অভিমত তুলে ধরা হলো।
যে চার ধরনের প্রতিবন্ধকতার কথা নারীরা জানিয়েছেন

২১% নারীরা বলেন প্রায় ক্ষেত্রেই তাদের মতামত সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়

– “ আমার প্রায়ই মনে হয়,বোর্ডের পুরুষ সদস্যরা ঠিকমত আমার কথা শুনছেন না। নিজের মতামত সম্পর্কে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আমাকে বেশ কঠিনভাবেই চেষ্টা করতে হয়” আরেকজন বলেন- “তাদেরকে নিজের কথা শোনাতে আমি রীতিমত চিৎকার করতে বাধ্য হই!”

২০% নারী মনে করেন যে বোর্ডে তাদেরকে পুরুষ সদস্যের সমান অধিকার দেয়া হয় না

মতামত

“একজন নারী বোর্ড মেম্বার হিসেবে সমান অধিকার ও সম্মান আদায় করাটা আমার জন্য বেশ চ্যলেঞ্জিং ছিল। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত প্রবীণ বোর্ড মেম্বারদের কাছ থেকে এটা পেতে আমার বেশ সময় লেগেছে”
আরেকজন বলেন- “কেবলমাত্র নারী হওয়ার কারণে যাবতীয় অনানুষ্ঠানিক আয়োজন থেকে আমাকে বাদ দেয়া হয়। এটি অবশ্যই নারী সদস্যদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ”

২০% নারীরা মনে করেন বোর্ডে একটি বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান তৈ্রি করে নিতে তাদেরকে অনেক বাধা পার হতে হয়

মতামত

– “একজন নারী হিসেবে কোম্পানির আস্থা অর্জন করতে আপনাকে অনেক দূর পথ হাটতে হবে”
– “অনেক সময় প্রতিষ্ঠানে নিজের একটি দৃঢ় অবস্থান গড়ে তুলতে পারলেও, আমাকে সেই একই কাজ বারবার করতে হয়। এই অবস্থার কোন শেষ নেই”
– “পুরুষ সদস্যরা যাতে করে আমার মন্তব্যের গুরুত্ব উপলব্ধি করেন সেজন্য আমাকে যারপরনাই খাটা-খাটনি করতে হয়”

৫% নারীদের অভিমত যে প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও নারী সম্পর্কে সনাতনী ধ্যান-ধারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে

মতামত

– “ কোন কথা বলতে গেলেই বোর্ডে আমাকে ‘প্রতিবাদী নারীকন্ঠ’ হিসেবে দেখা হয়”
– “সবাই আশা করেন যে শুধুমাত্র নারী বলেই আমি নীতিশাস্ত্রের কম্পাস হাতে পুতুলের মত বসে থাকব এবং নারী সংক্রান্ত প্রকল্প ছাড়া আর কোন বিষয়ে আমার মতামত দেয়ার প্রয়োজন নেই”

নারীদের উপেক্ষিত হওয়া নিয়ে আমরা বোর্ডের পুরুষ সদস্যের মতামতও জানতে চাওয়া হয়েছিলো। ৫৬% পুরুষ সদস্য একবাক্যে এ ব্যাপারটি অস্বীকার করেছেন। যারা এ ব্যাপারের স্বপক্ষে বলেছেন তাদের মতামত নিচে তুলে ধরা হলো।
নারীরা যে চার ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়ে থাকেন বলে পুরুষেরা মনে করেন

৩৩% পুরুষের মতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল সম্পর্কের কারণেই নারীরা বোর্ডে জায়গা করে নিতে হিমশিম খান

মতামত

– “আমাদের পুরুষ সদস্যের ‘good old boys’ নেটওয়ার্কে তাদের (নারীদের) অংশগ্রহণ নেই”
– “নারীরা সাধারণত নিজেদের ভীড়েই ব্যস্ত থাকেন, সংকীর্ণভাবে মেলামেশা করার কারণেই বোর্ডের পুরুষ সদস্যেরা তাদেরকে সমকক্ষ বলে ভাবতে পারেন না”

২৮% পুরুষের মতে অনভিজ্ঞতা ও ইন্ডাস্ট্রি সংক্রান্ত জ্ঞানের অভাবই নারীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে

মতামত

– “তথ্য-প্রযুক্তি খাতে আপনি খুব বেশি সংখ্যক নারী খুঁজে পাবেন না যাদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা আছে”
– “উচ্চ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নারী ডিরেক্টরদের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, তাই তারা নিজেদের কাজের পরিধি অনেক কমিয়ে আনেন। নব্য নারী কর্মীদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি একইরকম”

২২% পুরুষেরা মনে করেন নারীরা পক্ষপাতিত্ব ও নানা আচার-সংস্কার দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত

মতামত

– “নারীরা যদি পুরুষদের মনোভাব ধারণ করতে পারতেন তবে বোর্ডে তাদের অবস্থান আরও ভালো হতো”
– “বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে অনেক সময় মনে করা হয় যে নারীদের অভিজ্ঞতা পুরুষদের মত ততটা মূল্যবান নয়”

১৪% পুরুষ বলেন, নিজেদেরকে প্রমাণ করাতে নারীদের অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়

মতামত

– “প্রতিষ্ঠানের আস্থা অর্জন করতে একজন পুরুষ কর্মীর চেয়ে প্রায় দ্বিগুন কাজ করতে হয় নারীদের”
– “সাধারণত প্রবীণ পুরুষ ডিরেক্টরদের মধ্যে নারী কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করার প্রবণতা দেখা যায়”

কোন কোন নারীর মতে, অনেক পুরুষ ডিরেক্টর আদৌ টের পান না যে তারা কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য বৈরী পরিবেশের সৃষ্টি করছেন। সেক্ষেত্রে নারী কর্মীদের সমান অধিকার দেয়া বা তাদের কথা শোনা তো অনেক দূরের ব্যাপার।

একজন নারী বোর্ড মেম্বার এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট একটি উদাহরণ দেন। অর্থনৈতিক খাতে দারুণভাবে সফল একজন নারীকে একটি মাল্টিবিলিয়ন-ডলার পাবলিক কোম্পানিতে যোগদানের আমণ্ত্রণ জানানো হয়। বহু বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে তিনিই ঐ কোম্পানির প্রথম নারী ডিরেক্টর হিসেবে যোগদান করেন। প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল্যবান আইডিয়া বা অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা সবার সাথে ভাগ করতে গেলেই তাকে দারূণভাবে নিরুৎসাহিত করা হতো। এমনকি ঐ প্রতিষ্ঠানের সিইও, চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য পুরুষ ডিরেক্টরেরা তাকে অনেক বার ‘কম কথা’ বলতে এবং ‘তর্ক করা’ বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন। মিটিং এর সময়টাতেও তাকে এই ধরণের ব্যবহারের সম্মুখীন হতে হতো। একবার ব্যবসায়ীক কৌশলগত ব্যাপার নিয়ে বোর্ডে আলোচনার কোন পর্যায়ে এক পুরুষ সহকর্মী তো রীতিমত তাকে বলেই বসেন, “আপনি ঠিক একদম আমার ছোট্ট মেয়েটির মত আচরণ করছেন! অনেক তর্ক করেছেন, এবার দয়া করে থামুন!”

ঘটনাগুলো আসলেই দুখঃজনক। এতে নারী হিসেবে একজন কর্মীর আত্মবিশ্বাস অনেক কমে যায়। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা কাঙ্খিত সাফল্য লাভ করতে ব্যর্থ হন। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি, সেজন্য দরকার হবে পুরুষ কর্মীদের সহযোগীতা। তাছাড়া নারীদেরকেও তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে অনেক বেশী পেশাদারী মনোভাবের পরিচয় দিতে হবে।

সংক্ষেপিত। ইংরেজী থেকে অনূদিত
সূত্রঃ হার্ভাড বিজনেস রিভিউ

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close