আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

আঁধার ভাঙ্গার দৃপ্ত শপথ

ওমেন আই :
সময় ঠিক বারটা এক মিনিট। ভেসে এলো ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করা গান ‘ও আলোর পথযাত্রী এখানে থেমো না’। রাতের নিস্তব্ধতায় কয়েক হাজার মোমবাতি জ্বেলে সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার শপথ নিলেন সবাই। সম্মিলিতভাবে দাবি তোলেন, নারীর ক্ষেত্রে সব পর্যায়ের বাধা অপসারণের। শ্লোগান দেন রাষ্ট্র এবং পরিবারে/সমান হবো অধিকারে। দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের শুরু হয় এভাবেই। ‘আঁধার ভাঙার শপথ’ শিরোনামে এ কর্মসূচির যৌথ আয়োজক ছিল ‘আমরাও পারি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। রাত সাড়ে ১০টা থেকে অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। ছিল আলোচনা, শপথ বাক্যপাঠ এবং প্রতিবাদী গান ও নৃত্য পরিবেশনা।

অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, আমরাও পারির চেয়ারপারসন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল ও কো-চেয়ারপারসন শাহীন আনাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমা শাহীন, নিজেরা করির পরিচালক খুশী কবির প্রমুখ।

এদিকে দেশের আইন শিক্ষা ও বিচার কাজে জড়িত নারীরা বলেছেন, নারী-পুরুষ সমতার জন্য চাই নারীর ক্ষমতায়ন। আর এজন্য প্রয়োজন শিক্ষা। উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজেদের ঘরে বন্দী করলে চলবে না। কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখতে হবে। শিক্ষিত নারীদের কর্মচাঞ্চল্য দেশের অর্থনীতিকে গতিময় করে তুলবে। কুসংস্কার দূর করে সামাজিক মর্যাদা বাড়াবে, বৈষম্য দূর হবে। তাই শিক্ষাই হবে নারীমুক্তির প্রধান অস্ত্র।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ‘বিচার ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ : প্রতিবন্ধকতা ও প্রত্যাশা’ শিরোনামে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এ সভার আয়োজন করে।

বক্তারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও বৈষম্য রোধে আমাদের অনেকগুলো আইন-বিধি রয়েছে। কিন্তু এর অনেকগুলোরই সঠিক ও পরিপূর্ণ প্রয়োগ নেই। আবার নারী অধিকার সুরক্ষায় কিছু আইন-নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের মনোযোগী হতে হবে।

উইমেন জাজেস এসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুন্নাহার ওসমানি বলেন, প্রাচীন যুগে নারীদের কোন অধিকার ছিল না। মধ্য যুগে তারা চার দেয়ালে বন্দী ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন দেশে নারীরা দেশ পরিচালনা করছেন। আমাদের দেশেও নারী প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী ও সংসদের স্পিকার। দেশের বিচার ব্যবস্থায়ও নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখ করার মত। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই বৈষম্য থেকে বের হতে হলে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। নারীরা শিক্ষিত হলে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট নাজনীন নাহার, সুস্মিতা চাকমা, ব্যারিস্টার শীলা রহমান ও অ্যাডভোকেট আমাতুল করিম।

আট নারীকে সম্মাননা: অন্যদিকে নারী তার কর্মদক্ষতা, প্রজ্ঞা দিয়ে আজ নিজের অবস্থান সৃষ্টি করে নিয়েছে বলে মনে করেন সমাজের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, খেলাধুলাসহ সবকিছুতেই আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন আমাদের নারীরা। দেশকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে তুলে ধরছেন তারা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ৮ ক্ষেত্রের আটজন অনন্য নারীকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন। গতকাল নগরীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় এসিআই ভবনে ‘ফ্রিডম-পারসোনা আজকের নারী পাওয়ারড বাই ভাটিকা’ শীর্ষক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসিআই ও ক্যানভাস।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকের। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আরও উপস্থিত ছিলেন এসিআই সল্ট-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং এসিআই লিমিটেড এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আলমগীর এবং এসিআই কনজুমার কেয়ারের কানট্রি ডিরেক্টর জেটি ভিক্টোরিয়া। এ বছর শিল্প উদ্যোক্তা মনোয়ারা হাকিম আলী, ক্রীড়ায় নিশাত মজুমদার, সমাজসেবায় তামার হাসান আবেদ, আলোকচিত্রে জান্নাতুল মাওয়া, সঙ্গীতে ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান, ফ্যাশন ডিজাইনিং-এ লিপি খন্দকার, তথ্য-প্রযুক্তিতে সাদিকা ইসলাম সেজুতি এবং করপোরেট সেক্টরে সোনিয়া রশিদ কবীরকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষ হয় জনপ্রিয় শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।

পোশাক শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন নিরাপত্তা দাবি: দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর ক্রমবর্ধমান অবদান স্বীকার করে নিয়ে পোশাক শিল্পের নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। গতকাল আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নিজেদের দাবি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা সমাবেশ করেন। সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি। আরও উপস্থিত ছিলেন রুখসানা আক্তার, লিপি আক্তার, সাহিদা, পারভিন, শিল্পী খাদিজা প্রমুখ।

বক্তারা সমাজে নারী-পুরুষের সমতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সকল মহলের সম্মিলিতভাবে কাজ করার উপর জোর দেন। তারা বলেন, নারী-পুরুষের সমতা আজ সময়ের দাবি। নারী সমাজকে উপেক্ষা করে বিশ্বের কোন দেশ উন্নতি করতে পারেনি। বাংলাদেশের উন্নয়নে নারী সমাজ ধারাবাহিক অবদান রাখছে। দেশের জন্য বিশ্ববাজারে গৌরব অর্জন করছে পোশাক শ্রমিকরা। তাদের ভাগ্য উন্নয়ন জরুরি। সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি শ্রমিকের স্বার্থকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার দাবি তাদের।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close