আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
অর্থনীতি

অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে

ফারজানা লাবনী:
যোগ্যতা প্রমাণের পূর্ণ সুযোগ না পেলেও অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। শ্রমিক থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সিনিয়র পর্যায়ে রয়েছে নারীর বিচরণ। চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হয়ে অনেক নারী গড়ে তুলছেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। শুধু নিজেই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে সমাজ উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, নারীকে এখন নারী নয়, বরং একজন যোগ্য মানুষে হিসেবেই ভাবতে শুরু করেছে সমাজ। আর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এ বক্তব্যেরই সমর্থন দিচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণাপত্র ‘অর্থনীতির মূলধারায় নারীর অংশগ্রহণ’-এ উল্লেখ আছে, ‘অতি দ্রুত অর্থনীতিতে বিশেষভাবে চাকরি, ব্যবসায় নারীর সংখ্যা বাড়ছে। মোট শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ ১৯৯৫-৯৬ সালে ছিল ১৫.৮ শতাংশ, ২০০২-০৩ সালে ২৬.১ শতাংশ, ২০০৫-০৬ সালে ২৯.২ শতাংশ এবং ২০১১-১২ সালে তা বেড়ে হয় ৩৯.১ শতাংশ।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গবেষণায় বলা হয়, ২০০৬ সালে এক কোটি ১৩ লাখ নারী কর্মক্ষেত্রে ছিল। ২০১০ সালে এ সংখ্যা বেড়ে এক কোটি ৬২ লাখ হয়।

সিপিডির গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী এখনো তার পূর্ণ যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনীতিতে অংশ নিতে পারছে না। আশির দশকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ১ শতাংশও ছিল না। সেখানে বর্তমানে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নারী। তবে উচ্চপদস্থ নারী কর্মকর্তার সংখ্যা অনেক কম। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর সংখ্যা বেড়েছে, তবে আশানুরূপ নয়। বর্তমানে নারী-পুরুষের আয়ের অনুপাত ০.৫১ শতাংশ। পুরুষের তুলনায় নারীর অংশগ্রহণ অর্ধেক।’

সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের গবেষণায় দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেসরকারি পর্যায়ে নারীর কাজের সুযোগ বেশি সৃষ্টি হয়েছে। নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় এ সুযোগ বাড়ছে। বেসরকারি পর্যায়ে নারীর পদোন্নতি দ্রুত হচ্ছে। বেতনও বাড়ছে। তবে পুরুষের তুলনায় এখনো নারী তার প্রাপ্য কম পাচ্ছে।

গত ১০ বছরে নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টেছে- এমন মত প্রকাশে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সভাপতি রোকেয়া আফজাল বলেন, ‘১৯৬৪ সালে মুসলিম কর্মাশিয়াল ব্যাংকের আমি ছিলাম প্রথম নারী ম্যানেজার। অথচ আজকে ছোট-বড় সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকেই অর্ধেকের বেশি নারী অফিসার রয়েছে।’ তিনি বলেন, একসময় এ দেশে নারীর আয় মানে ছিল কাঁথা সেলাই। কিন্তু এখন নারীরা শ্রমিক থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। বড় বড় ব্যবসায়প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close