আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
খেলাধুলাস্লাইড

সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে রানোৎসবের অপেক্ষা

ওমেনআই ডেস্ক : ড্রেসিংরুম থেকে সবার আগে বের হলেন মোসাদ্দেক হোসেন। ডাগ আউট থেকে দেখার চেষ্টা করছিলেন রাংগিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের উইকেট। কিছুক্ষণ পরই কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে উইকেট দেখতে গেলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। কোচ-অধিনায়কের সঙ্গে যোগ দেন প্রধান বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ ও ব্যাটিং কোচ থিলান সামারাবিরাও। বেশ মনোযোগ সহকারে দেখলেন। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে মোস্তাফিজকে মাশরাফি বললেন, এটি তোর উইকেট! বল হাতে জ্বলে ওঠ।

রাংগিরি স্টেডিয়ামের উইকেট যে ব্যাটিংবান্ধব হবে, তা বোঝা গেল বাংলাদেশের অনুশীলন শুরুর পূর্বেই। লংকান ক্রিকেটাররা প্রথমে নেটে অনুশীলন করেছেন। তারপর কিছুক্ষণ রাংগিরি স্টেডিয়ামের উইকেটে ব্যাটিং অনুশীলন করতে দেখা গেল থিসারা পেরেরাকে। বিশাল-বিশাল ছক্কা হাঁকাচ্ছিলেন তিনি। একটা বল তো আবার উড়ে গিয়ে পড়ল ডাম্বুলা ট্যাংকের দিকে অবস্থিত গ্যালারির ছাউনিতে।

পেরেরার পর ব্যাটিং অনুশীলনে নেমে বাংলাদেশের তামিম, মুশফিকও ব্যাটে ঝড় তোলেন। তারাও বেশ কয়েকটি বলকে পাঠিয়ে দিলেন সীমানায়। বাংলাদেশ-শ্রীলংকা সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে যে রান হবে তা খেলোয়াড়দের ব্যাটিং দেখেই বোঝা যাচ্ছে। ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেছেন, উইকেটে রান হবে। বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের অধিনায়ক মনে করেন, ৩০০-৩৫০ রান হওয়ার মতো উইকেট এটি।

পাহাড়ের মাঝখানে রাংগিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। এর চারপাশে আবার বড়-বড় গাছ রয়েছে। প্রেসবক্সের বাঁ পাশে রয়েছে একটি লেক। এটিকে বলা হয় ডাম্বুলা ট্যাংক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এ স্টেডিয়ামেই আজ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা। প্রথম ওয়ানডের আগে গতকাল ফ্ল্যাড লাইটের আলোয় অনুশীলন করেন মাশরাফি, সাকিব, মুশফিকরা।

শ্রীলংকার বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে পরিসংখ্যান খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। ৩৮ ম্যাচে ৪ জয়ের বিপরীতে টাইগারদের হার ৩৩টিতে। শেষ পাঁচ ম্যাচেই পরাজয়ের তিতকুটে স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। এ ছাড়া ডাম্বুলাতেও রয়েছে দুঃস্বপ্ন। ২০১০ সালে এশিয়া কাপের খেলা তিন ম্যাচেই (ভারত, শ্রীলংকা ও পাকিস্তান) হেরেছে লাল-সবুজরা। ছয় বছর পর আবার ডাম্বুলায় ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ।

অবশ্য বাংলাদেশ এখন যথেষ্ট পরিণত দল। গত দুই বছর ধরে তারা ঘরের মাটিতে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে একটানা সাফল্য দেখিয়েছে। মাশরাফি অবশ্য মনে করেন, দেশের মাটিতে সাফল্য পেলেই যে সেই ধারাটি বিদেশের মাটিতে প্রবাহিত হবে সে ধারণা ঠিক নয়। তার মতে, ঘরের মাটিতে শ্রীলংকা যথেষ্ট শক্তিশালী। তাদের বিপক্ষে ভালো করতে হলে নিজেদের সেরাটি উজাড় করেই দিতে হবে।

টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও সাফল্য-ক্ষুধায় ‘বুভুক্ষ’ বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা। তবে একাদশ নির্বাচন নিয়ে মধুর সমস্যায় পড়তে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। ডাম্বুলার ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে একাদশ নির্বাচন করাটা খুব একটা সহজ কাজ নয়। মাশরাফি অবশ্য বললেন, সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামবেন। বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে আগের থেকেই শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। বিশেষ করে, মেহেদী হাসান মিরাজকে উড়িয়ে আনার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একাদশ নির্বাচন। তা হলে কি শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে দিয়েই অভিষেক হতে চলেছে মিরাজের? মাশরাফি অবশ্য বললেন, এখনো জানি না। তা ছাড়া আমি একা চাইলেই তো হবে না। সবাই মিলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মেহেদী হাসান মিরাজ একাদশে থাকবেন কিনা, তা আজই জানা যাবে। তবে গতকাল যেভাবে অনুশীলন করতে দেখা গেল তাতে মিরাজের অভিষেক আজ হলেও হতে পারে! যতটুকু জানা গেছে, তাতে বাংলাদেশের একাদশ হতে পারে এমন- তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ/সানজামুল ইসলাম, শুভাগত হোম, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ।

এদিকে উপল থারাঙ্গা আবার ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিজেদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে চাইছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট হারের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছেন লংকানরা। ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে থারাঙ্গা বলেন, বাংলাদেশের কাছে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ হেরে আমরা হতাশ। তবে এটি একটি নতুন সিরিজ। আমাদের ফিরে আসার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আপনারা জানেন, এর আগে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৫-০ তে সিরিজ হেরেছি। আমি মনে করি, এই ফরম্যাটে ফিরে আসার এটি আমাদের জন্য দারুণ একটি সুযোগ। ওয়ানডে সিরিজের জন্য তাদের প্রস্তুতি নিয়েও তুষ্টির কথাই জানালেন থারাঙ্গা। তিনি বলেন, আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি হয়েছে। আশা করি নিজেদের প্রমাণ করতে পারব। থারাঙ্গাও জানালেন উইকেটে রান হবে। এখানে আমরা খুব বেশি ম্যাচ খেলিনি। সবশেষ আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলাম। এমনিতে ডাম্বুলার উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য সহায়ক হয়ে থাকে। আবার বোলাররাও সুবিধা পায়।

বাংলাদেশকে সমীহও করছেন লংকান অধিনায়ক। বিশেষ করে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ যে এখন সমীহ জাগানিয়া দল তা অজানা নয় তার। থারাঙ্গা বলেন, আমাদের কাছে প্রত্যেক সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ঘরের মাটিতে। আমরা জানি, বাংলাদেশ ওয়ানডেতে ভালো খেলছে। বিশেষ করে ঘরের মাটিতে তারা শক্তিশালী দল। আমি মনে করি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজই হতে চলেছে।

অতীতের ব্যর্থতা এবার মুছে ফেলার পালা। নিজেদের পছন্দের ফরম্যাটে বাংলাদেশ জ্বলে উঠবে, লংকানদের বিপক্ষে ছিনিয়ে আনবে বিজয়- এমনটিই প্রত্যাশা সমর্থকদের।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close