আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশস্লাইড

বায়ু দূষণে বিশ্বে পঞ্চম ঢাকা

ওমেনআই ডেস্ক : বিশ্বের ১৮টি মেগাসিটির বায়ু দূষণের তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। তবে শুধু অ্যামোনিয়া দূষণের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল এ শহর। সম্প্রতি প্রকাশিত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’র গবেষণা প্রতিবেদন তালিকায় ‘বিশ্বে ভয়াবহ দূষিত বাতাসের নগর’ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক। তালিকায় দ্বিতীয় এশিয়ারই আরেক দেশ চীনের রাজধানী বেইজিং। এছাড়া তৃতীয় স্থানে বুনোস ও চতুর্থ স্থানে ভারতের দিল্লি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বায়ু দূষণের জন্য দায়ী ওজোন, অ্যামোনিয়া, ফরমিক এসিড ও মিথানল- এই চারটি বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রার উপর ভিত্তি করে এই তালিকা করা হয়েছে।
নাসা, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের একদল গবেষক তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা শেষে চলতি মার্চে অ্যাটমোসফেরিক কেমিস্ট্রি অ্যান্ড ফিজিক্স বা এসিপিডিতে এ গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। এতে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে নাসার উপগ্রহ ‘অরা’য় স্থাপিত ট্রপোসফেরিক ইমিশন স্পেকট্রোমিটার বা টিইএস যন্ত্রের মাধ্যমে শুরু হয় এই গবেষণার তথ্য সংগ্রহের কাজ।
বিশ্বের ১৮টি মেগাসিটিকে ১৬ দিন পর পর প্রায় একই স্থানীয় সময়ে অতিক্রম করে যায় টিইএস। এর মাধ্যমে বায়ূ দূষণে চারটি বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা নির্ণয় করা হয়, যা একই সময়ে পৃথিবীর পরিবেশে সঙ্গে সঠিকভাবে তুলনা করা হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুসফুসের রোগসহ শ্বাস-প্রশ্বাসের বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস সবচেয়ে বেশি রয়েছে দিল্লির বাতাসে; এর পরিমাণ স্বাভাবিক ক্ষতিকর মাত্রার চেয়েও ৭৩ দশমিক ৩ ভাগ বেশি।
তালিকায় দ্বিতীয় ঢাকার বাতাসে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ স্বাভাবিক ক্ষতিকর মাত্রার থেকে ৫১ দশমিক ৬ ভাগ বেশি। আর তৃতীয় স্থানে থাকা কলকাতার বাতাসে অ্যামোনিয়ার মাত্রা ৪৭ দশমিক ১ ভাগ বেশি।
এদিকে, ওজোন গ্যাস দূষণে শীর্ষ শহর হিসেবে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি; যেখানে প্রতি একক আয়তনে ৩২ দশমিক ২ পার্টস বিলিয়ন ওজোন গ্যাস রেকর্ড করা হয়েছে। তবে ঢাকায় করাচির প্রায় অর্ধেক পরিমাণে (১৭.১ পার্টস পার বিলিয়ন) ওজোন রয়েছে।
ওজোন গ্যাস সাধারণত ট্রপোস্পিয়ার অঞ্চলে পাওয়া যায়। গ্রিন হাউসের অন্যতম এ উপাদান বায়ুমণ্ডলের স্তর ভেদ করে সূর্যালোক সরাসরি পৃথিবীতে আসতে দেয়।
প্রতি বছর প্রায় প্রায় তিন শতাধিকবার নাসার ‘অরা স্যাটেলাইটে’ ভূমি থেকে ২২শ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করেছে। এ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গবেষকরা বলছেন, মেগাসিটিগুলোর মৌসুমী ও বার্ষিক বাতাসে কি পরিমাণ দূষণ রয়েছে তাও নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে।
আলোচিত এ গবেষক দলের অন্যতম সদস্য ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মিরিয়াম মার্লিয়ার বলেন, বায়ু দূষণের জটিল বিষয়গুলো এ গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে। যা স্বাস্থ্যঝুঁকির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানুষকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close