আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
মতামতস্লাইড

স্বাধীনতা আলোর ঝরনাধারা

নুসরাত মাহমুদ : উড়ছে লালসবুজ পতাকা। আলো আলোয় আলোময় বাংলাদেশ। ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতার দিন, প্রাণে প্রাণে উৎসবের দিন, বাংলাদেশের জš§দিন। তোমাকে অভিনন্দন বাংলাদেশ, তোমাকে অভিবাদন প্রিয় জš§ভ‚মি। আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি। হে স্বদেশ, হে স্বাধীনতা, তুমি যে আলোর ঝরনাধারা।
এ বছর এমন এক সময় বাংলাদেশ তার জšে§র বার্ষিকী উদযাপন করছে যখন তার জীবনে নতুন উপদ্রপ হয়ে এসেছে ঘৃণ্য জঙ্গিবাদ। দেশ-দশ-সমাজ-সভ্যতা এবং পবিত্র ধর্মের শত্র“ জঙ্গিরা খুন ও নাশকতার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠিত করতে চায়। পবিত্র ইসলামকে কলুষিত করার গভীর ষড়যন্ত্রে মেতেছে তারা। তারপরও সব শঙ্কা পাশ কাটিয়ে গোটা দেশের মানুষ আজ মেতেছে স্বাধীনতার ৪৬তম বার্ষিকী উদযাপনে। আজ আনন্দদিন বন্ধনহীন প্রাণের উৎসবের দিন শুধু নয়। আজ স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার শপথেরও দিন। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ প্রাণের আত্মাহুতি আর তিন লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে পেয়েছি এ স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালে এ দিনটির জন্য সে কী প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা ছিল এদেশের নিষ্পেষিত জনগণের, ‘বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা গর্জনে উš§াতাল ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল/গণজোয়ারে ভাসে পদ্মাপাড়, টেকনাফ ক‚ল, তেঁতুলিয়া বন/মুজিবের বাংলাদেশ চায় স্বাধীনতা।’ দুর্ভেদ্য ঐক্য আর দুর্জয় সংকল্পের নাম ১৯৭১। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায় একাত্তরের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ। যার উদগাতা বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হামলার মুখে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। আমাদের স্বাধীনতা তো শেখ মুজিবের অমর কাব্য ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।’ পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) তথা সমগ্র পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ অর্থাৎ বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায়ের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৬ সালে আওয়াম ীলীগ প্রধান শেখ মুজিব ৬ দফা দাবির মাধ্যমে বাঙালিকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্নে উজ্জীবিত করেন। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে এ দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রতি জানায় অকুণ্ঠ সমর্থন। শুরু হয় জনরায়ের বিরুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকচক্রের ষড়যন্ত্র। আসে ’৭১-এর আগুনঝরা মার্চ। বাঙালির হাতে পাকিস্তানের ক্ষমতা হস্তান্তর না করার দুরভিসন্ধির প্রতিবাদে জেগে ওঠে বাংলাদেশ। দলমত নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শুরু করে অসহযোগ আন্দোলন। সে আন্দোলন রূপ নেয় স্বাধিকার সংগ্রামে। জাতির মুক্তির আকাক্সক্ষাকে নিজকণ্ঠে ধারণ করে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু মুজিব রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে ডাক দেন স্বাধীনতার। শোনান মুক্তির মহাকাব্য, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তার ৭ মার্চের ভাষণ ছিল স্বাধীনতার সমার্থক। সেই ডাকে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন রূপ নেয় স্বাধীনতা সংগ্রামে। চলে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর। বাঙালি জাতিসত্তাকে নিশ্চিহ্ন করতে পরিকল্পিত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শুরু করে ভয়াবহ গণহত্যা, যার নাম অপারেশন সার্চলাইট। হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন থেকে ঘোষণা করেন : আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। তৎকালীন ইপিআরের (বিডিজি) ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সারাদেশে পাঠানো স্বাধীনতার বার্তায় বন্ধবন্ধু বলেন, ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতে পিলখানার ইপিআর ঘাটি রাজারবাগ পুলিশ লাইনস আক্রমণ করেছে এবং শহরের লোকদের হত্যা করছে। ঢাকা, চট্টগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে। আমি বিশ্বের জাতিগুলোর কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভ‚মি মুক্ত করার জন্য শত্র“দের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। সর্বশক্তিমান আল­াহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ, দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোন আপস নেই, জয় আমাদের হবেই। আমাদের পবিত্র মাতৃভ‚মি থেকে শেষ শত্র“কে বিতাড়িত করুন। সব আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতাপ্রিয় লোকদের এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।’ শুরু হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ, মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী। বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।
আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছরে পা দিল বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সাড়ে চার দশকে আমাদের সব আশা পূর্ণ হয়নি সত্যি। তবে অর্জন রয়েছে অনেক। অর্থনীতি গতিশীল হয়েছে। দারিদ্র্য কমেছে। শিক্ষার হার বেড়েছে। কমেছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। এগিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুিক্ত ক্ষেত্রে। নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে। স্বাবলম্বী হয়েছে নারী। বেড়েছে মানুষের গড় আয়ু, সেই সঙ্গে জাতীয় আয়। স্বাস্থ্য সেবায় বাড়ায় কমেছে শিশু মৃত্যু ও প্রসূতি মৃত্যুর হার। অনুন্নয়নের কাঁচা রাস্তা ছেড়ে উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে আজ মধ্যম আয়ের দেশের সারিতে দাঁড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাড়ে চার দশকের পথ চলায় কিছু নেতিবাচক, কিছু ব্যর্থতা আছে। সে সব বাদ দিলে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ৪৫ বছর আগে যারা বাংলাদেশের জšে§র সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছিল তাদের সিংহভাগই ছিলেন তরুণ। আজকের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই তরুণ প্রজšে§র ওপর। তরুণেরাই পারে স্বাধীনতার শহীদদের ঋণ শোধ করতে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close