আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
উন্নয়নে নারীসারাদেশ

বাংলাদেশি সুমাইয়ার বিশ্ব জয়

ওমেন আই:
২০০৬ সালেও বিজনেস উইক ম্যাগাজিন কর্তৃক আমেরিকায় অনূর্ধ্ব ২৫ বছর বয়সী সেরা উদ্যোক্তার একজন নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস উইক ম্যাগাজিন ও কালার লাইট ম্যাগাজিন থেকে ‘সেরা তরুণ উদ্যোক্তা’ পুরস্কারসহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার অর্জন করেছেন। পেয়েছেন সিএনএনের ‘ইয়ং পারসন হু রকস’ এবং কালার লাইট ম্যাগাজিনের সেরা তরুণ উদ্যোক্তা পুরস্কার। স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশে ভালো কিছু কাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করতে। বিশ্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অলাভজনক একটি আইসিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ইচ্ছা আছে তার। হ্যাঁ এতক্ষণ বলছিলাম বাংলাদেশি বংশো™ভুত মার্কিন নাগরিক সুমাইয়া কাজী সম্পর্কে। এ প্রজন্মের কাছে সুমাইয়া কাজীর পরিচিতিটি বেশ উজ্জ্বল। বিশ্বে প্রভাবশালী নারীদের মধ্যে তার নামটি উচ্চারিত হচ্ছে।

সুমাইয়া কাজী ২০১০ সালে সুমাজি ডট কম প্রতিষ্ঠা করেন। একের সঙ্গে অন্যের যোগাযোগ করিয়ে দেয়ার প্লাটফর্ম হিসাবে সুমাইয়া কাজী প্রতিষ্ঠা করেন সুমাজি (ংঁসধুর.পড়স)। এই স্যোসাল মাধ্যমটি মূলত একে অন্যের সঙ্গে পরিচয়ে করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনে সহযোগিতা করে থাকে। এটি একটি ফ্রি ওয়েব সার্ভিস। আপনার যাদের সঙ্গে পরিচয় থাকা দরকার সেই সব মানুষদের মিলন মেলা হচ্ছে সুমাজি।

সুমাইয়া জন্মেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার হলিউডে। বেড়ে উঠেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার মোরেনো ভ্যালিতে। পড়েছেন ক্যানিয়ন স্প্রিং হাই স্কুলে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে জিতে নেন ‘ইনল্যান্ড এম্পায়ার’ (ক্যালিফোর্নিয়া) খেতাব। পরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার শীর্ষ পাঁচ ‘ডিস্টিঙ্গুইশড ইয়াং উইমেন’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে। ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্টাডিজ ইন বিজনেস নিয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। এমনই ছিল প্রভাবশালী নারী উদ্যোক্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সুমাইয়া কাজীর শুরু গল্পটি।

বাবা মুক্তিযোদ্ধা ডক্টর কাজী গোলাম নিজামউদ্দিন, মা মেরিনা নিজাম। তার পৈতৃক বাড়ি ফেনীর জেলা শহরে। যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া চলাকালীন টুকটাক সমাজ সেবার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নেন সুমাইয়া। লেখাপড়া শেষে সিনিয়র সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন সানমাইক্রোসিস্টেম নামক একটি প্রতিষ্ঠানে। সেই সঙ্গে ২০০৫ সালে ‘কালচারেল কানেক্ট’ নামে সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এতে তিনি সপ্তাহে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ ঘণ্টা করে শ্রম দিয়ে আসছেন। ৩৫ বছরের কম বয়সী কর্মোদ্দীপক যুবক-যুবতীদের নিজস্ব সংস্কৃতির অবগাহনে উজ্জীবিত করতে তার প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে সুমাইয়া কাজীর প্রতিষ্ঠান টিসিসিসি থেকে প্রকাশিত হচ্ছে পাঁচটি সাপ্তাহিক ই-ম্যাগজিন। ম্যাগাজিনগুলো হচ্ছে, ‘দ্য দেশি কানেক্ট’, ‘দ্য মিডলইস্ট কানেক্ট’, ‘দ্য এশিয়া কানেক্ট’, ‘দ্য ল্যাটিন কানেক্ট’, ‘দ্য আফ্রিকান কানেক্ট’। বিশ্বের শতাধিক দেশে এসব ম্যাগাজিনের গ্রাহক সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। ২০০৫ সালে মাত্র তিনজন স্টাফ নিয়ে যাত্রা করা এসব ম্যাগাজিনে বর্তমানে ৫০ জন কাজ করছেন। ম্যাগাজিনগুলো দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ায় বর্তমানে দুটি দেশের আটটি অঙ্গরাজ্যের ১৮টি শহরে এর অফিস করতে হয়েছে।

এ প্রজন্ম সম্পর্কে সুমাইয়া কাজীর চিন্তাটাও বেশ পরিষ্কার। তার মতে, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম সুন্দর, পরিশ্রমী এবং অসম্ভব স্মার্ট। তারা অনেক কিছু করতে পারে, যদি সে সুযোগটা তাদের দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যবসা এবং আবিষ্কারে এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে পেশাদারি নেটওয়ার্ক তৈরি করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। সেই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানের পরিসর বড় হওয়া শুরু করেছে। তাই সফলতা নিশ্চিতভাবেই আসবে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close