আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশ

সমাজের মূল শ্রোতধারায় যুক্ত হচ্ছে প্রতিবন্ধীরা

ওমেনআই ডেস্ক : পটুয়াখালী শহরের পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা মমিনা বেগম। দুই সন্তারের মধ্যে প্রতিবন্ধী ছেলে জাহিদ হোসেন বড়। পটুয়াখালী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্র জাহিদ। জাহিদের মা মমিনা বেগম বলেন, একটা সময় ছিল আমার ছেলে (জাহিদ) কিছুই করতে পারতো না। কিন্তু সে এখন পড়ালেখার প্রতি অনেক আগ্রহী। নিজের নাম লিখতে ও পড়তে পারে। জাহিদ দৈনিক পত্রিকা পড়তেও পছন্দ করে।

তিনি বলেন, প্রতি মাসে জাহিদ ছয়শ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পায়। ছয়মাস পরপর এই টাকা তুলে জাহিদের প্রয়োজনে তা খরচ করি। তবে সরকারিভাবে প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করলে আমাদের জন্য আরেকটু উপকার হতো।
জানা গেছে, সরকারি হিসেবে পটুয়াখালী জেলায় বর্তমানে মোট প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ১৭ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে জেলা সমাজসেবা অধিদফতর ৯ হাজার ২৫৯ জন ব্যক্তিকে প্রতিমাসে ছয়শ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করছে। তাদের শিক্ষা জীবন নিরাপদ করতে চারটি স্তরে ১ হাজার ৩১ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে প্রতিমাসে পাঁচশ থেকে বারশো টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। এর ফলে অধিকাংশ প্রতিবন্ধীই এখন স্কুল কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহজেই লেখাপড়া করতে পারছেন।
এছাড়াও জেলায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত একটি মোবাইল রিহেবিলিটেশন ভ্যান। এর মাধ্যমে প্রতিটি উপজেলায় গিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। পটুয়াখালী জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক শিলা রানী দাস জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আদায় ও সন্মান রক্ষায় সরকার তাদেরকে ‘সুবর্ণ নাগরিক’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তাদের জন্য বিশেষ আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করেছে। যার মাধ্যমে সে তার নিজের অধিকার আদায়সহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা নিতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে তাদের জন্য নির্ধারিত সময় থেকে ২০ মিনিট সময় বেশি দেয়ার যেমন বিধান রয়েছে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য ৫% কোঠা সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক এ কেএম শামিমুল হক সিদ্দিকী বলেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ তাদের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে সরকারিভাবে গৃহীত প্রকল্পগুলো গুরুত্ব সহকারে বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে রয়েছে সরকারের বীনা সুদে ঋন নেয়ার সুযোগ। এর মাধ্যমে অনেকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখছেন। সরকারের এসব প্রকল্প গ্রহণের ফলে প্রতিবন্ধীরাও সমাজের মূল শ্রোতধারায় যুক্ত হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close