আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশস্লাইড

আইপিইউ সম্মেলন : অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ নিয়ে আলোচনা

ওমেনআই ডেস্ক : অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের নাক গলানো বন্ধে সংসদের ভূমিকা নিয়ে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে খসড়া প্রস্তাব নিয়ে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। উন্নত দেশগুলোর জোট গ্রুপ-১২প্লাস এ খসড়া বাতিলের দাবি জানালেও বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো এ প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে। গতকাল রোববার ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ১৩৬তম সম্মেলনে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের নাক গলানো প্রতিরোধে সংসদের ভূমিকা নিয়ে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে আগামীকাল এ বিষয়ে একটি রেজুলেশন ভোটে দেওয়া হবে।

খসড়া প্রস্তাব সমর্থন করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যায় ৩০ লাখ মানুষ মারা গেছে এবং দুই লাখ নারীকে অসম্মান করা হয়েছে সেটির কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ এটিকে সমর্থন করে। বাংলাদেশ অন্য দেশের কোনো বিষয়ে নাক গলানোকে সমর্থন করে না। তিনি আরও বলেন, শুধু বিশেষ পরিস্থিতিতে যদি খুব প্রয়োজন পড়ে তবে জাতিসংঘের ম্যান্ডেট নিয়ে ইন্টারফেয়ার করা যেতে পারে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনো সরকারকে কোনো মিলিটারি বা অন্য যে কোনো শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে উৎখাতের চেষ্টাকে এ খসড়া প্রস্তাবে চরম নিন্দা জানানো হয়। অন্য দেশের নাক গলানোর ক্ষেত্রে সুশীল সমাজ যাতে ভূমিকা রাখে তার জন্য সংসদকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দীপু মনি বলেন, অনেক দেশ এনজিওর মাধ্যমে নাক গলানোর চেষ্টা করে। এটি বন্ধ করতে হবে। প্রায় এক বছর আলোচনার পর এ রেজুলেশনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু বেশ কয়েকটি দেশ এ খসড়ার বিরোধিতা করে এটিকে বাতিল করার প্রস্তাব করেছে। তবে ভারত এ রেজুলেশন সমর্থন করে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি দেশের অধিকার আছে নিজেকে শাসন করার এবং কীভাবে উন্নয়ন করবে তা ঠিক করার। তবে অনেক দেশ মনে করে তারা ইরাক বা সিরিয়ায় নাক গলানোর অধিকার রাখে এবং এর ফলে সে দেশে সন্ত্রাসী গ্রুপ সৃষ্টি হচ্ছে। এ খসড়া সমর্থন করে চীন জানিয়েছে, বিদেশি শক্তি এবং এর প্রভাব প্রহণযোগ্য নয়। ২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অজুহাত দেখিয়ে একটি দেশ ইরাক আক্রমণ করেছিল কিন্তু পরে দেখা গেছে সেখানে এ ধরনের কোনো অস্ত্র নেই। রাশিয়া এ খসড়া সমর্থন করে জানিয়েছে, এটি বাতিল করা হলে বিশ্বে একটি ভুল বার্তা যাবে। গ্রুপ-১২প্লাস জোটে মোট ৪৭টি সদস্য দেশ এ খসড়ার চরম বিরোধিতা করছে। এ জোটের সদস্য জার্মানি জানিয়েছে, ইতিহাসে শত শত নাক গলানোর উদাহরণ আছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নাক গলাতে হয়। তাই এ খসড়া বাতিল করা উচিত। একই সুরে কথা বলে ইউক্রেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও তুরস্ক। রাশিয়া ইউক্রেনের অংশ ক্রিমিয়া দখল করেছে। কিন্তু তারপরও অন্য দেশের নাক গলানো বন্ধের এ রেজুলেশন বিরোধিতা করে ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়ার সংসদ ক্রিমিয়া দখলের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছিল। তাই এ ধরনের খসড়ার কোনো গুরুত্ব নেই। বেলজিয়াম বিরোধিতা করে জানিয়েছে, এটি ভারসাম্যপূর্ণ খসড়া নয়। অন্যদিকে তুরস্ক এই আইপিইউ সম্মেলনে এ খসড়া নিয়ে আলোচনা না করার আহ্বান জানায়।

এ প্রসঙ্গে সম্মেলেন ১৭ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া আমাদের সময়কে বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল নীতি হলো সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়। তাই আমরা আমাদের অবস্থানে অনড় রয়েছি। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বাংলাদেশ কখনই সমর্থন করেনি, করবেও না। সংশ্লিষ্টরা জানান, খসড়াটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গত কয়েক বছর ধরে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তান ক্রমাগত নাক গলিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে এ বিষয়ে পাকিস্তানের সরকার ও তাদের জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদগুলো বিভিন্ন ধরনের বিবৃতি দিয়েছে ও রেজুলেশন গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের সরকার এবং সুশীল সমাজ এর চরম বিরোধিতা করেছে।

সদস্য রাষ্ট্রে যোগ হয়েছে আরও দুটি দেশ : এদিকে গতকাল সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশনে আইপিইউ সদস্য রাষ্ট্রের তালিকায় নতুন দুটি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- সাউথ প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশ টুবালো ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। আইপিইউর মিডিয়া রিলেশন কর্মকর্তা জিন মিলিগান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওই দুটি দেশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের এ সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে উপস্থিত সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা করতালির মাধ্যমে ওই দেশকে স্বাগত জানান। সব মিলিয়ে বর্তমানে আইপিইউর সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১৭৩টি। আর সহযোগী দেশের সংখ্যা ১১টি। এদিকে গতকাল বিকাল ৫টায় আইপিইউর পক্ষ থেকে ব্রিফিং করা হয়। আইপিইউর মিডিয়া রিলেশনস কর্মকর্তা জিন মিলিগান ব্রিফিংয়ে জানান, সম্মেলনে জরুরি এজেন্ডা হিসেবে তিন দেশ প্যালেস্টাইন, মেক্সিকো ও ইসরায়েলের তিনটি ইস্যু নিয়ে বিতর্ক হয়। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সম্মেলনে ভোটাভুটি হবে। পরে যে কোনো একটি দেশের ইস্যুর ওপর রেজুলেশন হবে।

অতিথিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা : সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বেশিরভাগ বিদেশি অতিথিদের চলাফেরার ওপর মৌখিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাংলাদেশি মিশন। বিশেষ করে একা চলাফেরা করতে নিষেধ করা হয় তাদের। কারণ হিসেবে নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে বেশিরভাগ অতিথি ওই নিষেধাজ্ঞা মানেননি বলে দাবি করেছেন সম্মেলনে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এ প্রসঙ্গে প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বেশিরভাগ বিদেশি অতিথিকে ঢাকায় একা চলাফেরা করতে নিষেধ করা হয়েছিল। অনেক অতিথি ওই নিষেধাজ্ঞা মানেননি। তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে একা চলাফেরা করেছেন। অতিথিরা আমাদের জানিয়েছেন, ঢাকাকে তাদের কাছে বিপজ্জনক মনে হয়নি। বরং চমৎকার শহর মনে হয়েছে। প্রতিনিধি দলের সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, আফগানিস্তান থেকে আসা আলি জানিয়েছেন, ঢাকার কয়েকটি শপিংমলে ঘুরে পরিবারের সদস্যদের জন্য তিনি কিছু জামা-কাপড় কিনেছেন। এ ছাড়া বেশ কয়েক জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছেন।

প্রতিনিধি দলের অপর সদস্য মঈনউদ্দিন খান বাদল বলেন, অনেকে আমার কাছে ঢাকা সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে তারা বাংলাদেশকে নতুন করে মূল্যায়ন করেছেন। কয়েক বিদেশি অতিথি জানান, বাংলাদেশ সম্পর্কে তারা যেসব কথা এতদিন শুনে এসেছেন তার বেশিরভাগই সত্য বলে মনে হচ্ছে না। বরং দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা দেশের উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশের ২ ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ : একুশে আগস্ট আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলামামলা এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যাকা-ের বিচারের দীর্ঘসূত্রতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইপিইউ। আইপিইউর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়। গতকাল সম্মেলন চলাকালে এ বিষয়ে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আফগানিস্তানের সংসদ সদস্য ফৌজিয়া কাফির সভাপতিত্বে এই শুনানিতে অংশ নেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও সদস্য মঈনউদ্দিন খান বাদল। শুনানি শেষে জাসদের সংসদ সদস্য মঈনউদ্দিন খান বাদল বলেন, আমরা শুনানিতে অংশ নিয়ে মামলার বিচারে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করেছি। আমরা জানিয়েছি বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জজ মিয়া নাটকের কারণে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এর পর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে মামলাটির বিচারের জন্য নতুন করে উদ্যোগ নেয়। কিন্তু মামলার বিচার করতে গিয়ে একে একে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান, একাধিক জেনারেল, পুলিশের আইজিসহ অনেকের নাম আসছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে বিচারকাজ চলছে। এটা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না হলে আপনারাই (আইপিইউ) তাদের মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন। আর কিবরিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তিনবার আপত্তি জানানোর এই মামলাটির বিচারে বিলম্ব হয়েছে বলে আমরা তাদের জানিয়েছি। আজ একই স্থানে ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে শুনানি হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close