আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়স্লাইড

খুলবে নতুন দুয়ার

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে সই হবে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প

নৈশভোজে থাকছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ঋণ দেবে ভারত
পরমাণু সহযোগিতা এবং চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রাবন্দর ব্যবহারে চুক্তি হচ্ছে

ওমেনআই ডেস্ক : ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ সফরে ৭ এপ্রিল ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এ সফরে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এর মাধ্যমে দুদেশের সম্পর্ক আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াবে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে ৩৩টির মতো সমঝোতা ও চুক্তি হতে পারে। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ সমঝোতা স্মারক। এ ছাড়া কানেকটিভিটির নতুন নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে ভারতের কাছে নামমাত্র সুদে ঋণ পেতে যাচ্ছে। বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা চুক্তি নিয়ে আসন্ন সফরে অগ্রগতি হতে পারে। শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে একটি সমঝোতা হওয়ারও সম্ভাবনা আছে। তিস্তা চুক্তির ঘোরবিরোধী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। গতকাল মমতা নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির আমন্ত্রণে মমতা দিল্লি যাচ্ছেন শুক্রবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে কলকাতা-খুলনা বাস চলাচল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হবে। এ সময় মমতাও সেখানে থাকবেন।

ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনন্য সম্মান পাবেন বলে ভারতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। সাধারণত কোনো দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান ভারত সফরে গেলে হোটেলে অবস্থান করেন কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকবেন রাষ্ট্রপতি ভবনে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে যেসব চুক্তি-সমঝোতা সই হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে সামরিক সহযোগিতা, গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প, জলসীমায় সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি, ভারতের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ প্রভৃতি বিষয়। তিস্তার পাশাপাশি অভিন্ন নদ-নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনায়ও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অগ্রাধিকার থাকবে। এ ছাড়া গঙ্গা ব্যারাজ তৈরির কাজ শুরুর লক্ষ্যে ভারতের কাছে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাইবে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণে বাংলাদেশকে সহযোগিতার লক্ষ্যে গত ডিসেম্বরে একটি কারিগরি কমিটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেছে। এরপর গঙ্গা ব্যারাজ শুরুর ব্যাপারে দুই দেশ যৌথ সমীক্ষায় রাজি হয়। হঠাৎ পশ্চিমবঙ্গ এ প্রকল্প নিয়ে বিরোধিতা করায় কারিগরি কমিটি কাজ শুরু করতে পারেনি। তাই এবার বাংলাদেশ গঙ্গা ব্যারাজের কাজ এগিয়ে নিতে ভারত কখন সমীক্ষায় যোগ দেবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক প্রতিশ্রুতি চাইবে।

গঙ্গা পানিচুক্তি শেষ হওয়ার আগেই গঙ্গা ব্যারাজের বাস্তবায়ন চায় বাংলাদেশ। ১৯৯৬ সালে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি চুক্তি সই করে বাংলাদেশ ও ভারত। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের কাছে পানি ছাড়ছে বটে ভারত, তবে শুষ্ক মৌসুমে পানির নায্য হিস্যা না পাওয়ার অভিযোগ বরাবরই করা হচ্ছে। এদিকে গঙ্গা চুক্তির পানিসহ সারা বছর নদীগুলোয় যে পানি পাওয়া যায় তা শেষ পর্যন্ত নেমে যাচ্ছে সাগরে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট থেকেই যাচ্ছে। এ পানি সাগরে যেতে না দিয়ে যদি বিশাল জলাধার বা ব্যারাজ তৈরি করা যায়, তাহলে শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানি সংকট কাটিয়ে তা আবার ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে অন্যান্য নদীর পানিও যথাযথভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। ২০২৬ সালে গঙ্গা চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষ হতে হবে, অন্যথায় নতুন চুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এটি প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প।

শেখ হাসিনার সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে কানেকটিভিটির নতুন নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগের বিকল্প পথ অর্থাৎ বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলা যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা হবে। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হওয়ারও সম্ভাবনা আছে। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার- ওই চার দেশের মধ্যে বিসিআইএম-ইসি নামের অর্থনৈতিক করিডর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্যোক্তা চীন। দুহাজার বছরের পুরনো সিল্ক রোডের অনুপ্রেরণায় ২০১৩ সালে সাব-রিজিওনাল বা উপ-আঞ্চলিক ওই করিডর গড়ার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর এবং কক্সবাজার ও টেকনাফকে যুক্ত করে মিয়ানমারের আকিয়াব, মান্দালয় হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত গ্রেটার কানেকটিভিটি বা বৃহত্তর যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়াই এর উদ্দেশ্য। সেই উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। শুরুতে টানাপড়েন থাকলেও শেষ পর্যন্ত চার দেশের ঐকমত্যে এ নিয়ে চুক্তি সই হয়। কুনমিং ও কক্সবাজারে বিসিআইএম ইসির দুদফা বৈঠকও হয়। কিন্তু নানা কারণে এ উদ্যোগ স্থবির হয়ে আছে। আঞ্চলিক যোগাযোগে বিকল্প কী হতে পারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার শীর্ষ বৈঠকে ঢাকার সেই ভাবনা বা প্রস্তাবনাগুলো আলোচনায় আসবে।

শেষ মুহূর্তে কোনো পরিবর্তন না হলে, শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে দুদেশের মধ্যে একটি অসামরিক পরমাণু চুক্তি সই হতে চলেছে বলে কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ চুক্তির মাধ্যমে তৃতীয় দেশ হিসেবে ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যে পরমাণু কর্মকা-ে অংশ নিতে পারবে ঢাকা।

এদিকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বাংলাদেশ ও ভারত পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক সই করতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়ায় প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা এবং এ শিল্পের বিকাশে যৌথ উদ্যোগ, মহাকাশ প্রযুক্তি, গবেষণা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে একে অন্যকে সহায়তার কথা বলা আছে। ৮ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর স্বাক্ষরের জন্য যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে, তার তালিকায় আছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সমঝোতা স্মারকটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের জন্য ভারত দীর্ঘমেয়াদি একটি রূপরেখা চুক্তি সইয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। গত ডিসেম্বরে ভারতের তখনকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। বিভিন্ন স্তরে আলোচনার পর বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পরিবর্তে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত মাসের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ও ভারত সমঝোতা স্মারকের খসড়াটি চূড়ান্ত করেছে। অবশ্য বিএনপির তরফ থেকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির বিরোধিতা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার আসন্ন সফরে নামমাত্র সুদে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ দিতে চলেছে নয়াদিল্লি। সূত্র জানায়, ৫০০ কোটি ডলার ঋণ কোন কোন প্রকল্পে খরচ করা হবে, তার তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ভারত সফর করে এই প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত করবেন। সূত্র জানিয়েছে, তৃতীয় দফার এ ঋণচুক্তিতে টাকা খরচের কোনো সময়সীমা থাকছে না। কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা খরচের বাধ্যবাধকতাও থাকছে না।

সহজ সুদে ঋণের পাশাপাশি গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের জন্য যাতে যৌথভাবে ৩০০ কোটি ডলার ধার্য করা হয় সে ব্যাপারেও শেখ হাসিনার সফরে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান। যোগযোগ ব্যবস্থা, নদী অববাহিকার উন্নয়ন, আন্তঃসীমান্ত বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোর পাশাপাশি আরও একটি বিষয়ে জোর দেওয়া হবে ভারত-বাংলাদেশ শীর্ষ বৈঠকে। সূত্র জানিয়েছে, অডিও ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে বিশেষ সহযোগিতা, যৌথ উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের তথ্যচিত্র তৈরি, সরকারি বেতার এবং টেলিভিশনের মধ্যে সহযোগিতার মতো একাধিক চুক্তি সই হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে প্রথমবারের মতো ঋণচুক্তির আওতায় সমরাস্ত্র কেনাকাটার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সই নিয়েও আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত হওয়ার পর সমঝোতা স্মারকটি সই হলে ভারত থেকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা (৫০ কোটি ডলার) সমমূল্যের সমরাস্ত্র কিনবে বাংলাদেশ।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারে চুক্তি হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফরে। এমনকি ভারতীয় গণমাধ্যম এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে এবার একগুচ্ছ চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকারি সূত্রে খবর, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ছাড়াও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার, পায়রাবন্দরে মাল্টিপারপাস (কন্টেইনার) টার্মিনাল নির্মাণ, লাইটহাউজেস ও লাইটশিপস, কোস্টাল ও প্রটোকল রুটে যাত্রী এবং ক্রুজ সার্ভিস-সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে যে সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে, এবার তা চুক্তি হিসেবে রূপ নিতে পারে।

চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রাবন্দর ব্যবহারে যে চুক্তি হবে সেখানে ১৯৮৬ সালে ভারতের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের জন্য যে ফি ধার্য করা হয়েছিল এবারের চুক্তিতে সেই ফিই ধরা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close