আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

কাদের মোল্লার শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি

ওমেন আই রিপোর্ট;যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ আদৌ আছে কি-না, সে বিষয়ে ‍শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের ওপর চেম্বার আদালতের দেয়া স্থগিতাদেশ বহাল থাকছে বলেও সপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জানিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে বুধবার সকাল ১০টায় ফাঁসির কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়ে শুনানি শুরু হয়।
এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় দুই পক্ষের উপস্থিতিতে শুরু হয় রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নে শুনানি। প্রধান বিচারপতির যে নেতৃত্বে যে বেঞ্চ ফাঁসির রায় দিয়েছিল, তার সব সদস্যই এতে অংশ নেন।
সকালে শুনানির প্রথম অংশেই কাদের মোল্লার আইনজীবী খন্দকার মাহাবুব হোসেন জানান, তারা আগের রাতে চেম্বার বিচারপতির কাছে একটি ‘রিভিউ’ আবেদন জমা দিয়েছেন।  রায় বাস্তবায়নের ওপর স্থগিতাদেশ বাড়ানোরও আবেদন করেন আসামির আইনজীবীরা।
এরপর বেঞ্চ সাড়ে ১১টায় আবারো শুনানির সময় রেখে জানায়, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত  স্থগিতাদেশ দিলেও আদালত পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত ওই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
আসামিপক্ষের আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন মঙ্গলবার রাতে এক আকস্মিক আদেশে এই জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থগিত করে দেন।
বুধবার সকালে রায় বাস্তবায়নের ওপর স্থগিতাদেশের শুনানিতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এটি আইসিটি আইনের মামলা। ১৭ সেপ্টেম্বর এই মামলায় রায় হয়। ৮ ডিসেম্বর রায় হাতে পাওয়ার পর তারা রিভিউ আবেদনের প্রস্তুতি শুরু করেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “আমরা দুইদিন সময় চাই, আমাদের প্রস্তুতি শেষ হয় নাই। আপনারা যে আদেশ দেবেন, আমরা মেনে নেব। আমাদের ২দিন সময় প্রয়োজন।
অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে বলেন, “এই মামলায় রিভিউ চলে না। এটা স্পষ্ট। এই আবেদন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা।
বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের শেষ কার্যদিবস। এরপর সাপ্তাহিক বন্ধ শেষে শুরু হবে শীতকালীন ছুটি। এ সময় আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি বসলেও নিয়মিত কোনো আদালত বসে না। আসামি পক্ষকে দুইদিন সময় দেয়া হলে রায় বাস্তবায়ন কার্যত আগামী বছর পর্যন্ত ঝুলে যাবে বলে উল্লেখ করেন সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
এরপর আদালত সাড়ে ১১টায় রিভিউ আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে শুনানির সময় রাখে।
প্রথমে এই মামলায় আসামিপক্ষে শুনানি করতে দাঁড়ান খন্দকার মাহবুব হোসেন। পরে তাদের পক্ষে ব্যারিস্টার রাজ্জাক শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
হরতাল অবরোধের কারণে উচ্চ আদালতে নিয়মিত বেঞ্চগুলোর অধিকাংশই বসে না। তবে আপিল বিভাগ বসলেও আইনজীবী উপস্থিতি থাকে খুব কম। তবে এদিন সর্ব বৃহৎ এই আদালত কক্ষ ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ।
জামায়াতের বিপুল সংখ্যক আইনজীবী এদিন সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত থাকেন। আদালত মুলতবি হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে তাদের শ্লোগান দিতেও দেখা যায়।
মঙ্গলবার রাতে রায় স্থগিতের ঘণ্টা তিনেক আগে  স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ও আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
সে অনুযায়ী সব প্রস্তুতি শেষ করে কারা কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়, বুধবার প্রথম প্রহরেই (রাত ১২টা ১ মিনিট)মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। পরিবারের সদস্যরাও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে কাদের মোল্লার সঙ্গে দেখা করে যায়।
কারাগারে চূড়ান্ত প্রস্তুতির মধ্যেই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার রাজ্জাক চেম্বার বিচারপতির বাড়ি থেকে বেরিয়ে বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থগিত রাখার আদেশ পেয়েছেন তারা।
এর কিছুক্ষণের মধ্যে কাদের মোল্লার প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক কারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে ফিরে সাংবাদিকদের বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সকাল ১০টা পর্যন্ত স্থগিত রাখতে চেম্বার বিচারপতির আদেশ কারা কর্মকর্তাদের জানিয়ে এসেছেন তারা।
এরপরই ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি ঝুলে যায়। ঘোষিত সময় ১২টা ১ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এসে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ফরমান আলী সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের আদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close