আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
অপরাধস্লাইড

‘মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকরে কারাগার প্রস্তুতি নিচ্ছে’

ওমেনআই ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় ফাঁসি কার্যকরে কারাগার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আজ রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বিভিন্ন মামলায় বিশেষ করে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, প্রধানমন্ত্রীর প্রাণনাশের মামলাসহ অনেক মামলা তার (মুফতি হান্নান) নামে ছিল। এর মধ্যে কয়েকটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একটি মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ডদেশ দেওয়া হয়েছিল। সেটা সুপ্রিম কোর্ট ও আপিল বিভাগে বহাল থাকাতে তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি সেটা না মঞ্জুর করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, না মঞ্জুর করাতে এখন আমরা আদালতের রায় কার্যকর করতে যে সমস্ত ফরমালিটি (আনুষ্ঠানিকতা), জেল কোড অনুযায়ী যা যা করণীয় সেই প্রক্রিয়াগুলো আমার করে যাচ্ছি। রায় কার্যকর করার জন্য আমাদের কারাগার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

চূড়ান্ত রায়ের পর ফাঁসি কার্যকরে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেল কোড অনুযায়ী (রিভিউ খারিজ আদেশের কপি হাতে পাওয়ার) ২১ দিনের কমে নয় ও ২৮ দিনের ঊর্ধ্বে নয়, এই সময়ের মধ্যেই কার্যাদেশ পালন (ফাঁসি কার্যকর) করতে হবে। আমরা সেই জন্যই অপেক্ষা করছি। আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। সব ফর্মালিটি শেষ হলেই আমরা রায় কার্যকর করব।

মন্ত্রী বলেন, সব কিছু সময় মতো হবে। আমরা কোন নিয়মের ব্যাত্যয় ঘটাব না। আপনারা জানেন ২১ দিন হতে হলে কতদিন লাগবে। আমরা প্রহর গুণছি। শেষ হলেই আপনারা দেখবেন।

মুফতি হান্নানের ফাঁসি উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কোন নির্দেশনা আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী সব সময়ই প্রস্তুত রয়েছে। মাঝে মাঝে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমাদের অ্যাটাক করার আগেই আস্তানা দেখে ফেলেছে। তাদের চিহ্নিত করে, আমরা নিষ্ক্রিয় করেছি। এ বিষয়ে এখনও আমাদের কাছে কোন থ্রেট আসেনি। নতুন কোন তথ্য আসেনি যে এ ধরণের নাশকতা হতে পারে।

এদিকে মুফতি হান্নানের দুই সহযোগীরও প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এই তিনজনের মধ্যে হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুলকে রাখা হয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। আর দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপন আছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে।

উল্লেখ্য, সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ২০০৪ সালের ২১ মে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী গ্রেনেড হামলার মুখে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন নিহত হন। এছাড়া পুলিশ কনস্টেবল রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি মারা যান হাসপাতালে। আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ৪০ জন ওই ঘটনায় আহত হন। ওই ঘটনায় করা মামলার চূড়ান্ত রায়ে আপিল বিভাগ গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তিন আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় বহাল রাখে।

এ মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডিত দুই আসামি মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে হাই কোর্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। আপিল না করায় তাদের ওই সাজাই বহাল থাকে। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। তাদের আবেদন গত ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যায়। ফলে চূড়ান্ত বিচারেও ফাঁসির রায় বহাল থাকে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close