আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য

মাতৃমৃত্যু কমাবে ফিটো-ম্যাটারনাল

ওমেনআই ডেস্ক : অসংক্রামক ব্যাধিসহ জটিল রোগে আক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী নারীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে ফিটো-ম্যাটারনাল মেডিসিন ইউনিট চালু করা হলে মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এটি চিন্তা করেই ২০১৫ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ম্যাটারনাল ফিটাল মেডিসিন ইউনিট চালু করা হয়, যা ফিটো-ম্যাটারনাল মেডিসিন নামে পরিচিত; কিন্তু ওই ইউনিটে ফিটো-ম্যাটারনাল মেডিসিন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনকারী কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে ওই ইউনিটে রোগী ভর্তি হলেও তারা যথোপযুক্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।

অন্যদিকে ফিটো-ম্যাটারনাল মেডিসিন বিষয়ে পড়াশোনা করা একমাত্র চিকিৎসক মোছা. তাজমিরা সুলতান নিয়োগ না পাওয়ায় ওই বিষয়ে পড়তে অন্য চিকিৎসকরা উৎসাহ হারাচ্ছেন।

জানা গেছে, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী মা এবং গর্ভের শিশুকে যথোপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১২ সালে ফিটো-ম্যাটারনাল মেডিসিন নামে একটি বিষয় চালু করে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস)। পরে ২০১৫ সালে সীমিত পরিসরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফিটো-ম্যাটারনাল ইউনিটের কার্যক্রম শুরু করা হয়; কিন্তু সেখানে ওই বিষয়ে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জনকারী কোনো বিশেষজ্ঞকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শুধু গাইনি বিশেষজ্ঞরাই ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, বিশ্বে মাতৃমৃত্যুর হার ৯৯ শতাংশ ঘটে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। আর এক শতাংশ ঘটে উন্নত দেশগুলোতে। মাতৃমৃত্যুর ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কারণ হচ্ছে অসংক্রামক রোগসহ জটিল রোগে আক্রান্ত গর্ভবতীদের ম্যাটারনাল ফিটাল মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাসেবা প্রদান। আমাদের দেশেও ম্যাটারনাল ফিটাল মেডিসিন ইউনিট চালু করা গেলে মাতৃমৃত্যুর হার কমে আসবে।

তারা আরও জানান, মাতৃমৃত্যুর প্রত্যক্ষ কারণের মধ্যে ১৩ শতাংশ অনিরাপদ গর্ভপাত, ১২ শতাংশ প্রি-এক্লাম্পসিয়া ও এক্লাম্পসিয়া, ২৫ শতাংশ গর্ভকালীন ও প্রসবপরবর্তী রক্তপাত, ১৫ শতাংশ ইনফেকশন, ৮ শতাংশ বাধাগ্রস্ত এবং অন্যান্য ৭ শতাংশ। আর পরোক্ষ কারণ ২০ শতাংশ; যা রক্তশুন্যতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, থাইরোয়েড সমস্যা। এগুলোর মধ্যে প্রি-এক্লাম্পসিয়া, এক্লাম্পসিয়া, গর্ভকালীন ও প্রসবপরবর্তী রক্তপাত, ইনফেকশন, রক্তশূন্যতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, থাইরোয়েডের সমস্যাগুলোর যথাযথ চিকিৎসাসেবা প্রদানে ফিটো-ম্যাটারনাল মেডিসিন বিভাগ চালু করা দরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, বর্তমানে ম্যাটারনাল ফিটাল মেডিসিন ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এই ইউনিট চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকে উদ্যোগ নিতে হবে। যদি কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট বিভাগ মনে করে এটি চালু করা দরকার, তাহলে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করবে। এরপরই এ বিষয়ে পদ সৃষ্টিসহ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে মন্ত্রণালয়।

অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম জানান, ফিটো-ম্যাটারনাল মেডিসিন বিভাগে খুব দ্রুতই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জন্মগত ত্রুটি নির্ণয় করা সম্ভব হয়। কিছু কিছু জন্মগত ত্রুটি আছে, যা শিশু প্রসবের আগে অর্থাৎ শিশু যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখনও বের করা যায়। আর কিছু রয়েছে, যা বুঝতে কিছুটা সময় লাগে। কখনো ছয় মাস বা এক বছর সময় লাগে সমস্যা বুঝতে। প্রসুতি যদি নন-কমিউনিকেবল ডিজিজে আক্রান্ত হয়, তাহলে গর্ভের সন্তানের অবস্থা জেনে মায়ের চিকিৎসাসেবা করা হয়ে থাকে।

জানা গেছে, বিএসএমএমইউ ফিটো-ম্যাটারনাল মেডিসিন বিভাগে ২০১৩ সালে ৯০৫ জন উচ্চঝুঁকি সম্পন্ন প্রসুতি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। তাদের মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই হিসাবে মাতৃমৃত্যুর হার মাত্র শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০১৪ সালে ভর্তি হন ৭৮২ জন। তাদের মধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই হিসাবে মৃত্যু হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৬ লাখ নারী (যাদের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছর) গর্ভাবস্থায় ও প্রসবজনিত কারণে মারা যায়। এর মধ্যে ৯৯ শতাংশ মাতৃমৃত্যু ঘটে উন্নয়নশীল দেশে। এর মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে মৃত্যুহার বেশি।

হাইরিক্স প্রেগনেন্সি টেক্সবুকের তথ্যানুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতি ৭৫ জনে একজন নারী তার জীবনে প্রসব ও গর্ভজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বহন করে, যা উন্নত দেশে ৭ হাজার ৩০০ জনে মাত্র ১ জন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close