আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশস্লাইড

নবআনন্দ বাজুক প্রাণে

নুসফাক মাহমুদ : ‘নতুন দিনের বার্তা এবার/লাগুক এসে সব প্রাণে/নবীন পাতায় লাগুক দোলা/নতুন প্রাণের আহ্বানে।’ চির নতুনকে আহ্বান জানাতে আবার এসেছে পহেলা বৈশাখ, এসেছে নববর্ষ। শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৪। পহেলা বৈশাখ বাঙালির বর্ষবরণের দিন, নতুন আলোর বারতার দিন। পুরনোকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরণ করার দিন। বাঙালির নতুন বছরের শুভযাত্রায় ‘নবআনন্দ বাজুক প্রাণে’, বিদায়ী বছরের ‘জীর্ণ পুরাতন ভেসে যাক’।

পহেলা বৈশাখে কাকডাকা ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে আমাদের জীবনে যোগ হয় প্রত্যাশার নতুন আলো, স্বপ্নময় নতুন বছরের শুভযাত্রা। ‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’- এই মঙ্গল কামনায় পহেলা বৈশাখের নতুন প্রভাতে আনন্দে উদ্বেলিত হই আমরা, উদ্ভাসিত হয় দেশ। পাখিডাকা রৌদ্রকরোজ্জ্বল সকালে বৈশাখের আবাহনী গান, ‘এসো হে বৈশাখ এসো সো’/ ‘হে নূতন, হে রুদ্র বৈশাখ’ হৃদয় ছোঁয়া সব সঙ্গীতের সুরমূর্ছনা দখিনা বাতাসে ভাসতে ভাসতে ছড়িয়ে পড়ে আকাশে-বাতাসে।
পহেলা বৈশাখ প্রাণের উৎসবের দিন। সারাবেলা গোটা দেশ আপ্লুত হয় বৈশাখী উৎসবে। গান-বাজনা, খেলাধুলা, শোভযাত্রা, মেলা-প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। নাগরদোলা, লাঠিখেলা কোন কিছুই বাদ যায় না। আবহমান লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যে বর্ষবরণ উৎসবে মেতে উঠে শহর ও গ্রাম। দেশের সব মানুষ। মুড়ি-মুড়কি-বাতাসার পাশাপাশি থাকে শখের পান্তা ইলিশ। ঢাকায় বর্ষবরণের কেন্দ্রবিন্দু রমনা বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতী অনুষ্ঠানে নামে সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের ঢল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মঙ্গলশোভাযাত্রা আরও বর্ণাঢ্য করে তোলে নববর্ষ উৎসবকে। ঢাকা পরিণত হয় উৎসবের নগরীতে।
পহেলা বৈশাখ বাঙালির নবজাগৃতির, নবজীবনের প্রতীক। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের স্মারক। বাঙালির চেতনার সঙ্গে পহেলা বৈশাখের সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর। পহেলা বৈশাখ স্মরণ করিয়ে দেয়, আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, আমরা বাঙালি সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। পহেলা বৈশাখ কেবল নতুন সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার স্বপ্ন নিয়ে নতুন একটি বছরের যাত্রা শুরু নয়, আমাদের আপন শেকড়ের সূানে নতুন প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত হওয়ার দিন। ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে নতুন প্রত্যয়ে উদ্বুদ্ধ হওয়ার দিন।
পহেলা বৈশাখ বাঙালির চিরন্তন উৎসব। একসময় গ্রামবাংলায় নববর্ষের উৎসব চলত মাসভর। নিভৃত পল­ীতে অশ্বত্থ গাছ তলায় অথবা নদীর পাড়ে বসত বৈশাখী মেলা। ‘হালখাতা’ হতো প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। মিষ্টিমুখ নতুন কাপড় ছিল নববর্ষের অনুষঙ্গ। এখন দিনবদলের পালায় নজরজীবনে নাগরিক আয়োজনে নতুন নববর্ষবরণ করা হয়। উৎসবটি এখন অনেকটা বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। সারাবছর আমারা দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকায় ইংরেজি বছর বা খ্রিস্টাব্দ অনুসরণ করলেও বাংলা বছরের প্রথম দিনটি আমাদের অন্যরকম এক আবেগে আপ্লুত করে। শহুরে জীবনে বাংলা নববর্ষ এখন সাড়ম্বরে এলেও সারা বছর নিঃশব্দ পদচারণার মধ্য দিয়ে বিদায় নেয়। যদিও গ্রামবাংলায় এখনও বাংলা মাস ও তারিখের গুরুত্ব এতটুকু ম্লান হয়নি। কৃষিকাজ, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করা হয় বাংলা তারিখের হিসাব। শুভ নববর্ষে আমাদের প্রত্যাশা, নতুন বছরে দেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কালো থাবামুক্ত থাকুক। নতুন বছর, দেশ ও দশের জন্য হবে কল্যাণকর, মঙ্গলময় ও শান্তিময় হোক।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close