আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
খেলাধুলাস্লাইড

বাংলাদেশ ক্রিকেটের তিন নক্ষত্র

শামসুজ্জামান শামস : গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অন্য মাত্রা দিচ্ছে। এই সাত টেস্টের প্রতিটিতেই আছে টেস্টেও বদলে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঐতিহাসিক শততম টেস্ট জয়ের জন্য তিন টাইগার সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালকে কৃতিত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল। এদেরই বলা হচ্ছে ‘বিগ থ্রি’। টাইগারদের অসংখ্য ম্যাচে জয়ের নায়ক এই তিন নক্ষত্র। প্রতিটি ম্যাচে তামিম,সাকিব-মুশফিককে ঘিরে টাইগার সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকে অনেক। কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঐতিহাসিক শততম টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক যৌথভাবে সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবালের। তারা দুজনই মোট ১৩১ রান করতে সমর্থ হন। টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তামিম ইকবালের কোনো শতক নেই। কলম্বো টেস্টের প্রথম ইনিংসে আগে লঙ্কানদের বিপক্ষে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৫৯ রানের। সেটাও ২০১৩ সালে। তবে এবার দলটির বিপক্ষে নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। টেস্টে তামিমের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ২০৬ রানের। তার সেই ডাবল সেঞ্চুরির চেয়ে ১৯ মার্চের ৮২ রানের মাহাত্ম্য কোনো অংশেই কম নয়। কেননা, এ যে শততম টেস্টে দলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার ইনিংস।
তামিম এ ম্যাচটি নিয়ে ৪৯টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে ৯৪ ইনিংস থেকে তার মোট সংগ্রহ ৩৬৭৭ রান। ৩৮.৯৬ গড় নিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষে রয়েছেন তিনি। টেস্টে এখন পর্যন্ত তামিমের শতক ৮টি এবং অর্ধশতক ২২টি। শততম টেস্টের ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন তামিম ইকবাল। রেকর্ড-পরিসংখ্যানে লেখা থাকবে এটিই। তবে পুরস্কারটি শেষ পর্যন্ত হাতে উঠেছে সাকিব আল হাসানের! নিজের ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি সাকিবকেই দিয়েছেন তামিম।
ক্যারিয়ারে বীরোচিত অনেক ইনিংসই খেলেছেন। প্রতিপক্ষদের কাছ থেকেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কিন্তু পি.সারা ওভাল টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে যে ইনিংসটি খেললেন, নিঃসন্দেহে সেটা অনেক বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকবে তামিম ইকবালের কাছে। শুধু তাই নয়, তার ব্যাটে নিজেদের শততম টেস্টে জয় পাওয়ার বিরল কৃতিত্ব দেখিয়েছে বাংলাদেশÑ সে কারণে দেশের ইতিহাসের পাতায়ও উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে জ্বলবেন তামিম। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১৮ টেস্টে প্রথম জয়, আর চতুর্থ দেশ হিসেবে নিজেদের শততম টেস্টে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। আর এমন একটি জয় ৮২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে পাইয়ে দিয়েছেন এ বাঁহাতি ওপেনার। সে কারণে হয়েছেন ম্যাচসেরা। আনন্দের পরিমাণটা আরও আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে তার জন্য। কারণ ১৯ মার্চ দলকে জিতিয়েছেন আর ২০ মার্চ তার ২৮তম জন্মদিন। একজন ক্রিকেটারের জন্য এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি বুঝি আর নেই। তামিম কেন দেশসেরা ক্রিকেটার সেটা আরেকবার মনে করিয়ে দিলেন। আর প্রতিপক্ষ অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথও জানালেন তামিমের ব্যাটিং তোড়েই তাদের জয় পাওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক রানের মালিক তামিম। সর্বাধিক সেঞ্চুরিও তার। বাংলাদেশ দলের রান তাড়া করে জেতার ম্যাচে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান অবশ্য সাকিবের। তিনি ২০০৯ সালের জুলাইয়ে সেন্ট জর্জেসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছিলেন অপরাজিত ৯৬ রানের ইনিংস খেলে। ওই ম্যাচেই রকিবুল হাসান করেছিলেন ৬৫ রান। কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শততম টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে তামিমের ৮২ রানের ইনিংসটি তাই বাংলাদেশের জয়ের ম্যাচে চতুর্থ ইনিংসের দ্বিতীয় সেরা। এছাড়া বাংলাদেশের জয়ের ম্যাচে আর কোন ফিফটি নেই চতুর্থ ইনিংসে। চতুর্থ ইনিংসে তামিমও তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা ইনিংসটি খেললেন। অবশ্য সার্বিকভাবে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের ২২টি অর্ধশতক ও ৫টি সেঞ্চুরি আছে।
২৫ মার্চ ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দশ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁইতে তামিমের প্রয়োজন ছিল মাত্র এক রান। ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বঙ্গবূু জাতীয় স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন মেহরাব হোসেন অপি। ১৮ বছর পর একই দিনে শনিবার শ্রীলঙ্কার রনগিরি ডাম্বুলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের পক্ষে ৩৮তম সেঞ্চুরি করলেন তামিম ইকবাল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের বেশিরভাগ রেকর্ডই তামিমের দখলে। তিন ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মালিক তিনি। এবার তামিমের রেকর্ডের মুকুটে যোগ হলো নতুন পালক। ২৫ মার্চ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন এ বাঁহাতি ওপেনার। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণে ১০ হাজার রান করা ৫১তম ব্যাটসম্যান তামিম। এ বছরের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেই সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেন অভিজ্ঞ এ ব্যাটসম্যান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ শেষ হয়েছিল গত বছর ৩১ ডিসেম্বর। তামিমের অষ্টম সেঞ্চুরিই ডাম্বুলায় বাংলাদেশকে পাইয়ে দিয়েছে পাঁচ উইকেটে ৩২৪ রানের বড় স্কোর। ১৪২ বলে ১২৭ রানের ইনিংস খেলেছেন। যেটি সাজানো ছিল ১৫টি চার ও একটি ছক্কায়।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। লঙ্কানদের মাটিতে তাদের বিপক্ষে নিজের আগের ম্যাচটাতেও সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম। ২০১৩ সালে হাম্বানটোটায় ১১২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। যদিও সেই ম্যাচটা হেরেছিল বাংলাদেশ। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টেস্টে লঙ্কানদের বধ করেছেন মুশফিক-সাকিব-তামিমরা। ম্যাচে সেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন টাইগার ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। ওয়ানডেতে ১৬২ ম্যাচে ৩৪টি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তামিম। সেঞ্চুরি ৮টি। টেস্ট ক্রিকেটে ৪৯ ম্যাচে ২২ হাফ সেঞ্চুরির বিপরীতে সেঞ্চুরি ৮টি। টি-টোয়েন্টিতেও সেঞ্চুরি আছে তামিমের। একমাত্র সেঞ্চুরিটি ওমানের বিপক্ষে গত বছর বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টিতে।
বিশ্বসেরা সাকিব আল হাসান : সাকিবের অসাধারণ কীর্তিগাথার কল্যাণেই ১০০তম টেস্ট ম্যাচটি জিতে ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের দেশ। ধারাবাহিক চোখ ধাঁধানো পারফর্মেন্স প্রদর্শন করে হয়েছেন সিরিজের সেরা ক্রিকেটার। আইসিসির অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে তিন বিভাগেই শীর্ষে আছেন সাকিব আল হাসান। সর্বশেষ রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে পেছনে ফেলে টেস্টের অলরাউন্ডারের এক নম্বর জায়গা দখলে নেন সাকিব। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একসঙ্গে তিন ফরম্যাটে অলরাউন্ডার তালিকায় শীর্ষে ওঠার কীর্তি গড়েন বাংলাদেশি এই তারকা। ফেদেরার, সেরেনা, সাকিব তিনজনই ক্রীড়া জগতের তারকা। টেনিসের দুই তারকা রজার ফেদেরার ও সেরেনা উইলিয়ামস। আর সাকিব আল হাসানের তারকা খ্যাতি ক্রিকেট খেলে। যেহেতু তিনজনই খেলাধুলার সঙ্গে আছেন তাই বিভাগ ভিন্ন হলেও তুলনা তো আসবেই। এলোও।
তুলনাটা মূলত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটের স্থায়িত্ব নিয়ে। কে কত সময় শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছেন? আর শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটের স্থায়িত্বের সেই তুলনায় টেনিসের দুই কিংবদন্তি সুইজারল্যান্ডের ফেদেরার ও যুক্তরাষ্ট্রের সেরেনা উইলিয়ামসকে ছাড়িয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান। ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে অলরাউন্ডার তালিকায় সবচেয়ে বেশি সময় ধরে শীর্ষে আছেন সাকিব সময়টা ৩২৪ সপ্তাহ। টেনিসের মহিলা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে সেরেনা উইলিয়ামস ছিলেন ৩১৬ সপ্তাহ। আর রজার ফেদেরার টেনিসের পুরুষ র‌্যাংকিংয়ে সবার ওপরের স্থানে ছিলেন ২৩৭ সপ্তাহ।
অথচ তিন বছর আগে শৃঙ্খলাজনিত কারণে সাকিবকে দেয়া শাস্তির পর কত কথাই না বাতাসে ভেসেছে। অনেকেই বলেছেন, খেলা ছেড়ে সাকিব পাড়ি জমাবেন যুক্তরাষ্ট্রে। টেস্ট ক্রিকেট খেলবেন না, খেলবেন শুধু ওয়ানডে ও টি-২০। কিন্তু এসব যে ভিত্তিহীন সে প্রমাণ মিলেছিল সাকিবের আবেদনের মধ্য দিয়ে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে খেলার অনুমতি পান সাকিব। বিসিবি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে হয়ত অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেত। ফিরেই জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে অতিমানবীয় পারফর্মেন্স প্রদর্শন করেন বিশ্বসেরা ক্রিকেটার। সব বিতর্ক পেছনে ফেলে মাঠের লড়াইয়ে আবারও নিজেকে সেরা হিসেবে দাঁড় করানোর পর সাকিব বলেছিলেন, ‘যখন খেলতে নামি, তখন কোন কিছুই আমার মাথায় থাকে না। আমি জানি, যতদিন মাঠে থাকব আমাকে ভালো খেলতে হবে, দেশের জন্য খেলতে হবে, পতাকার জন্য খেলতে হবে।
শততম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের জয়টাকে একেবারে নিঃশ্বাস দূরত্বে নিয়ে চলে আসেন সাকিব। এই টেস্টে ছয় উইকেট নিয়ে আরেকটি দারুণ মাইলফলক স্পর্শ করেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরায় জন্ম নেয়া এ সাকিব আল হাসান ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয়। টেস্ট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনারদের তালিকায় এখন সেরা পাঁচে উঠে এসেছেন তিনি। রেকর্ড গড়ার দিন ইংল্যান্ডের টনি লককে ছাড়িয়ে যান বাংলাদেশের সেরা তারকা। ১৯৬৮ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়া লক ৪৯ টেস্টে নিয়েছিলেন ১৭৪ উইকেট। কলম্বো টেস্টে ৬ উইকেট নেয়ায় ৪৯ টেস্টে সাকিবের উইকেট সংখ্যা ১৭৬। তবে এ তালিকায় সবার ওপরে এই টেস্টে সাকিবের প্রতিপক্ষ ও লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ। এখন পর্যন্ত ৮০ টেস্টে ৩৭২ উইকেট নিয়েছেন হেরাথ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরি। ১১৩ টেস্টে ৩৬২ উইকেট নেন ভেট্টরি।
কলম্বোয় ঐতিহাসিক টেস্টে সেঞ্চুরি করেই মূলত সমালোচনার জবাব দেন সাকিব। এরপর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট দেন সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির। সাকিব নিজের জন্য খেলে এই সমালোচনার জবাবে শিশির বিদ্রƒপ করে লিখেন, ‘আরেকটি অপরাধ করলে। প্লিজ এই ১০০ রান বাসায় নিয়ে এসো যাতে আমরা সেগুলো দিয়ে তরকারি রেঁধে খেতে পারি। তুমি তো নিজের জন্য খেল। নিশ্চয়ই তুমি ভালো কিছু করনি।’ ২০০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো আইসিসি ওয়ানডে অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেন অলরাউন্ডার সাকিব। এটি ছিল বাংলাদেশি কোনো ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। তবে ২০১১ সালের এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়ার ওয়াটসনের কাছে শ্রেষ্ঠত্ব হারান তিনি। ৬ মাস পর অক্টোবরেই শীর্ষস্থান পুনর্দখল করেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক। এরপর ২০১২ সালের ১১ মার্চ প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে আবারও ওয়াটসনের কাছে শীর্ষস্থান হারান সাকিব। সেবার হারানো মুকুট ফিরে পেতে বেশি সময় নেননি বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকরী ক্রিকেটার। মাত্র ১৫ দিনের মাথাতেই সেই ওয়াটসনকে হটিয়ে আবারও ওয়ানডে অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ান জায়গা নিজের দখলে নিয়েছিলেন সাকিব।
নির্ভরতার প্রতীক মুশফিক : বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ব্যাট হাতে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেন। হায়দ্রারাদে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে তিনি ১২৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। মুশফিকুর রহিমের এ সেঞ্চুরি ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। এর আগে চট্টগ্রামে ২০১০ সালে দেশটির বিপক্ষে ১০১ রান করেছিলেন তিনি। তার অন্য দুটি শতক ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। মুশফিকের ক্যারিয়ারে একটি ডাবল সেঞ্চুরিও রয়েছে। শ্রীলংকার বিপক্ষে গলে এ মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে মুশফিক এ পর্যন্ত ৫২টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে ৯৫ ইনিংস থেকে তিনি ৩০৪৯ রান সংগ্রহ করেন। তার ব্যাটিং গড় ৩৪.৬৪। ক্যারিয়ারে তার ৫টি সেঞ্চুরি এবং ১৫টি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া মুশফিক অধিনায়ক হিসেবেও বেশ সফল। ২০১১ সালে সাদা পোশাকের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান তিনি। সে থেকে এখন পর্যন্ত টাইগাররা তার অধীনে ২৮টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৫টি টেস্ট জিতে নেয় তারা। মুশফিকের অধীনে ড্র হয় ৯টি ম্যাচ এবং টাইগাররা হেরে যায় ১৩টি ম্যাচে। বাংলাদেশের অন্য কোনো টেস্ট অধিনায়ক একটির বেশি জয় আনতে পারেননি। এখন পর্যন্ত টেস্টে বাংলাদেশের মোট জয় ৮টি। এর মধ্যে পাঁচটিই মুশফিকের অধীনে। বাকি তিনটির মধ্যে একটি করে হাবিবুল বাশার, মাশরাফি মর্তুজা এবং সাকিব আল হাসানের অধীনে। অবশ্য সবচেয়ে বেশি টেস্ট ম্যাচের অধিনায়কত্ব করেছেন মুশফিকই। তার সর্বোচ্চ ২৮টির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন হাবিবুল বাশার। এর মধ্যে একটি জয়সহ ৪টি ড্র রয়েছে তার। অধিনায়ক হিসেবে মুশফিকের ম্যাচ জয়ের হার ১৭.৮৫ শতাংশ। হাবিবুল বাশারের এ হার ৫.৫৫ শতাংশ। মাত্র একটি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে সেই ম্যাচটি জিতে নেয়া মাশরাফির জয়ের হার শতভাগ। মুশফিক নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে পরপর দুই টেস্টে সেঞ্চুর করেছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংসটি ছিল ১৫৯ রানের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে ৮৫ রান করেছিলেন ১৫ রানের জন্য টানা তিন টেস্টে সেঞ্চুরি করার কীর্তিটা করতে পারেননি। কিন্তু তাতে কী! তার ব্যাট বড় ভ‚মিকা রাখছে টেস্টে বাংলাদেশের নতুন দিনের সূচনায়।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close