আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশ

‘রামপালে অর্থায়ন আমানতের খেয়ানত’

ওমেনআই ডেস্ক : সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, ভারতের এক্সিম ব্যাংক কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। এই টাকা তারা নিজেদের পকেট থেকে দিচ্ছে না, ভারতের জনগণের আমানতের টাকা দিচ্ছে। আর এই অর্থ দিয়ে সুন্দরবন ধ্বংস করা হচ্ছে। এটা জনগণের আমানতের খেয়ানত।

গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাগর-রুনি মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সুলতানা কামাল আরও বলেন, ‘রামপাল নিয়ে সরকার দেশ-বিদেশে অসত্য তথ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিচ্ছে না। সরকারের কথা শুনে মনে হচ্ছে তারা আমাদের শরীরে বিষ ঢোকাবে এবং সেই বিষ যাতে আমাদের ক্ষতি না করে সেই ব্যবস্থাও করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তরা জানান, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে পুরনো সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে। এ কেন্দ্রে পরিবেশ দূষণরোধে যেসব যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হচ্ছে তাও অনেক পুরনো, মান্ধাতা আমলের। এ ছাড়া সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যে ছাই উৎপাদন হয়, তাতে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে ভয়ঙ্কর তেজস্বক্রিয়তা (রেডিও একটিভ) থাকে তা পাওয়া গেছে। সুন্দরবনের কাছে বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলে কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসার পাঁচ বছরের মধ্যেই সুন্দরবনের ওপর ব্যাপক ক্ষতি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এরকম একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ভারতের গুজরাটের মুন্দ্রায় করা হয়েছিল, সেখানে সুন্দরবনের চেয়ে অনেক ছোট একটি শ^াসমূলীয় উদ্ভিদের বন বা ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট মাত্র ৫ বছরের মাথায় ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে।

সরকার যদি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ বন্ধ না করে, তাহলে আন্তর্জাতিক আদালত ও সমপর্যায়ের ফোরামে যাওয়ার কথা চিন্তা করা হচ্ছে বলেও হুশিয়ারি দেন পরিবেশবাদীরা।

সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম রামপাল প্রকল্প বিষয়ে বিশ্বের সাত খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন ও গবেষণার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দরপত্রে পরিষ্কার করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে। অথচ সরকারের দাবি, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সর্বাধুনিক আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা হচ্ছে। এমনকি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিক যে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কম্পানি, তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বলকান্তি ভট্টাচার্যও বলেছেন, এটি সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি নিয়ে সরকারের বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য বন্ধ করা উচিত বলেও মনে করেন ইমাম।

এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা পোড়ানোর কারণে বায়ু দূষক নাইট্রোজেন (নক্স), সালফার অক্সাইড (সক্স) ও কার্বন অক্সসাইড ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে পারবে না রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ; কারণ তাদের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ ছাড়া রামপাল কেন্দ্রে ব্যবহৃত পানি পশুর নদীতে ছেড়ে দেওয়া হবে, যা নদীর পানির চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেশি। কেন্দ্র থেকে এভাবে গরম পানি নদীতে গেলে পানি দূষিত হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ঋণচুক্তি সই হয় ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে। এক্সিম ব্যাংক ১৬০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে। এটি নির্মাণ করছে ভারতের কম্পানি ভেল। আগামী মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close