আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
মতামতস্লাইড

দেবীর কি হবে?

মাহমুদ হাসান : নতুন এসে পুরনোকে হটিয়ে দেয়। নতুন ইস্যুতে চাপা পড়ে যায় পুরনো ইস্যু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর ইস্যু পিছু ফেলে এ মুহূর্তে দেশে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে হেফাজতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কথিত সখ্য। আগেই এ নিয়ে গুজবের ডালপালা গজিয়েছিল। সখ্যের ঘটনা সত্য হোক আর অসত্য হোক, এ ইস্যু নিয়ে এখন জম্পেশ আলোচনা-সমালোচনা সবখানে। এতে অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তার পানি চুক্তি না হওয়া কিংবা প্রতিরক্ষা প্রটোকল সমঝোতার মতো স্মারক স্বাক্ষর নিয়ে নতুন বিতর্কগুলো চাপা পড়ে গেছে। ফলে সরকার ও সরকারি দল আওয়ামী লীগ খুব খুশি। মহাখুশি বিরোধীদের দেশ বিক্রির সেই ভাঙা রেকর্ড বাজানো বন্ধ করতে পারায়। তবে নতুন আরেকটি অপবাদ লাগতে যাচ্ছে দেশের প্রাচীনতম এই অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলটির ললাটে।
এতদিন আওয়ামী লীগ বলে এসেছে বিএনপি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে। এখন উল্টো বিএনপি বলতে শুরু করেছে, আওয়ামী লীগই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির এই নতুন অভিযোগের কারণ সম্প্রতি গণভবনে হেফাজতে ইসলামের প্রধান আল­ামা আহমদ শফীর নেতৃত্বে কওমী মাদরাসার নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক। আর এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কওমী মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমমান হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত গ্রিক দেবি থেমেসিসের ভাস্কর্য অপসারণ সংক্রান্ত হেফাজতের দাবি আমলে নেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে কওমী স্নাতকোত্তরের সিদ্ধান্তটির আনুষ্ঠানিকতাপূর্ণ করে। সরকারের আকস্মিক এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিস্ময়, ক্ষোভ ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অবশ্য ২০০৬ সালে কওমী মাদ্রাসার øস্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমমান নিয়ে একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সে সময়কার বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তখন সরকার এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, কিন্তু আর কিছু করেনি।
অবশ্য হেফাজত মনে করে আওয়ামী লীগ সবটা করবে। বিএনপি আর আওয়ামী লীগ এক নয়। হেফাজতের এক নেতার ভাষায়, শেখ হাসিনা কথা দিলে কথা রাখেন, সে বিষয়ে তাদের শতভাগ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। কিন্তু হেফাজতের প্রতি আস্থা-বিশ্বাসের জায়গাটায় বরাবরের মতোই এখনো সংশয় রয়ে গেছে আওয়ামী লীগের। তাদের বাংলা বর্ষবরণ উৎসব বা মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা করাকে ভালো চোখে দেখেনি ক্ষমতাসীন দল। এমনকি চট্টগ্রামে বাংলা নববর্ষের দেয়াল আলপনায় পোড়া মবিল লেপে দেওয়ার পেছনে হেফাজতের ইন্ধন আছে বলে সন্দেহ অনেকের। হেফাজতের চাপের মুখে স্কুলের পাঠ্যবইয়ের বিতর্কিত সংশোধনের পর কওমী মাদ্রাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতি প্রদান ও সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের ভাস্কর্য অপসারণের দাবির সাথে একাত্ম প্রকাশ নিয়ে যেমন দলে ক্ষোভ-দুঃখ আছে, আবার রয়েছে কৌশলগত সাফল্য পাওয়ার আত্মতুষ্টি। এ পদক্ষেপকে কেউ বলছেন ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছে ভুল আত্মসমর্পণ, আবার কেউবা বলছেন এটা তাদের অপরিণামদর্শী সখ্য।
হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের এই সখ্য ভাবিয়ে তুলেছে ডান-বাম-উদার সবপন্থী রাজনীতিকদের। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সবার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন। খালেদা জিয়া বলেছেন, ভারত সফর শেষে দেশে ফিরেই আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন তিনি নিজেই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছেন, আওয়ামী লীগ আগে বলত, আমরা (বিএনপি) ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি। কিন্তু এখন তারাই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে। তারা আগে হেফাজতকে মারধর করেছে। এখন তাদের সঙ্গে বৈঠক করছে। তাদের সব দাবি মেনে নিচ্ছে। এ সরকারের অবস্থান হলো সাপ হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়া। সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এ ঘটনাকে আওয়ামী লীগের দৃষ্টিভঙ্গির নাটকীয় পরিবর্তন উলে­খ করে বলেছেন, হয়তো শেখ হাসিনা আগাম নির্বাচন দিতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনমুখী চিন্তার কারণ থেকেই হেফাজতের সঙ্গে আপস করেছেন। বি. চৌধুরীর এ চিন্তার সঙ্গে অনেকেই একমত। খোদ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাও এমনটি মনে করেন। তাদের মতে সরকার ও দলীয় প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার এটা একটি রাজনৈতিক কৌশল। স্রেফ ভোটের রাজনীতির অংশ। বিএনপিও আলেমদের সঙ্গে সরকারের নতুন করে ঘনিষ্ঠতাকে ভোটের রাজনীতি হিসেবে দেখছে। তারা মনে করছে, জনগণের আস্থা হারিয়ে আওয়ামী লীগ এখন ধর্মীয় এই গোষ্ঠীকে তুষ্ট রেখে আরেকটি যেনতেন নির্বাচন করতে চাইছে। যেমনটি তারা ২০০৬ সালে নির্বাচনের আগে আগে খেলাফত মজলিসের সঙ্গে পাঁচ দফা চুক্তি করেছিল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও মনে করেন, হেফাজতের সঙ্গে সরকারের সখ্য গড়া বা হেফাজত-তুষ্টির পেছনে বড় উদ্দেশ্য হল ভোটের হিসাব-নিকাশ। বলা হয়, সে ভাবনা থেকেই প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও ২০০৬ সালে কওমি মাদ্রাসাকে একই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এবং নির্বাচনের কথা মনে রেখেই তিনি ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদেরও শরিক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মিত্রদের না-পছন্দ এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ভাবনা। হেফাজতকে যাতে বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে ব্যবহার করতে না পারে, সেই লক্ষ্য থেকে তাদের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক তৈরি খারাপ কিছু নয়। মনে হয়, আগামী নির্বাচনে শুধু বামপন্থী মিত্রদের ভোটের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না শেখ হাসিনা। এ কারণেই যত বেশি সম্ভব ইসলামপন্থীদের ভোট আওয়ামী লীগের ঝোলায় ভরার ব্যবস্থা করতে চাচ্ছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এ ভাবনার আভাস মেলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কথায়। তিনি হেফাজতের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট বা সমঝোতার কথা অস্বীকার করলেও বলেছেন, হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো আদর্শিক মিল নেই। তাদের সঙ্গে সমঝোতারও সুযোগ নেই। আমরা তো হেফাজতের আদর্শের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করিনি। তবে এই শক্তিকে মূল ধারায় আনার চেষ্টা সরকার করতেই পারে। দলের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতির বাস্তবতা হচ্ছে, জনগণের অনুভ‚তি ও আবেগের সঙ্গে সংগতি রেখে যারা বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তারাই এ দেশের সত্যিকারের গ্রগতিশীল। বাস্তবতা থেকে প্রগতি বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখানে হেফাজত মূল বিষয় নয়, আমাদের মূল বিষয় কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি। আমরা দেশের কওমি মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের তো অবজ্ঞা করতে পারি না।
বিজ্ঞ সাধারণ সম্পাদক যেভাবেই বলুন না কেন হেফাজতের সঙ্গে সখ্য নিয়ে আওয়ামী লীগের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। শুধু কেন্দ্র নয়, তৃণমূলেও বেশির ভাগ নেতার মধ্যে অস্বস্তি আছে। মাঠপর্যায়ের নেতারা বিষয়টি নিয়ে রয়েছেন কিছুটা বিভ্রান্তিতে। সিনিয়র কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, হেফাজত নিয়ে কৌশল এবং সিদ্ধান্ত সরকার ও দলের শীর্ষস্থান থেকে এসেছে। দল ও সরকারের ভালো হবে ভেবেই সব করছেন প্রধানমন্ত্রী। নেতাদের বেশির ভাগই মনে করেন, কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি ঠিকই আছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কওমী আলেমদের বৈঠকে দেশবাসীর কাছে এই বার্তা পৌঁছেছে যে, নারী নেতৃত্ব কবুল করে নিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী। এ ছাড়া হেফাজত ফের ৫ মের মতো কর্মসূচি দিতে পারে কিংবা বিএনপি-জামায়াত তাদের মাঠে নামাতে পারে বলে সরকারের মধ্যে এতদিন যে আশংকা কাজ করছিল তাও দূর হয়েছে। বড় কথা, কৌশলগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হেফাজতের মতো অঘোষিত একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে পারলে নির্বাচনের ময়দানে আওয়ামী লীগ লাভবান হবে। আর এটা মাথায় রেখেই হেফাজতে ইসলামের পাশাপাশি অন্য ধর্মীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়তে চায় সরকার। অবশ্য নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, সরকারের এই উদ্যোগ ও অবস্থান সাময়িক। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আল্লামা শফী চট্টগ্রামে এক জনসভায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, এটাও সরকারের জন্য একটা বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সরকারি দলের নেতারা।
তবে দলের মাঠপর্যায়ের নেতারা মনে করেন, হেফাজত নিয়ে সরকারের কৌশলে যত লাভ তার চেয়ে বেশি হতে পারে লোকসান। পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। ধর্মীয় গোষ্ঠীর কথা শুনে এবার পয়লা বৈশাখ দলের বর্ষবরণ শোভাযাত্রা কর্মসূচি বাতিল করাটা ঠিক হয়নি। কয়েক বছর ধরে নববর্ষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ এই শোভাযাত্রা করে আসছে। সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের ভাস্কর্য নিয়েও দ্বিমত রয়েছে তাদের। দলের ভেতর একপক্ষ মনে করে, শাড়ি পরিয়ে ভাস্কর্যটি বিকৃত করা হয়েছে, তাই এটি সরিয়ে ফেলা উচিত। অন্যপক্ষের মতে, ভাস্কর্যটি যথাস্থানে রেখে এমন ব্যবস্থা করা হোক যাতে ঈদগাহ থেকে সেটি দেখা না যায়। মাঠের কথা, হেফাজতীদের খুশি করার জন্য যত চেষ্টা করা হোক না কেন তাদের ভোট আওয়ামী লীগ পাবে না। উল্টো মিত্রদের ভোট ছুটে যেতে পারে। সেই সঙ্গে প্রগতিশীল নাগরিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি কিছুটা হলেও ম্লান হতে পারে দলের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির গৌরব।
কৌশলগত হোক আর ভোটের জন্যই হোক হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সখ্যের প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের শরিক দলগুলো প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। জোটের বেশির ভাগ শরিক মনে করে, হেফাজতীদের ভোট কখনোই আওয়ামী লীগের কপালে জুটবে না। ১৪ দলের নেতাদের মতে, হেফাজত নিয়ে সরকারের কৌশল প্রণয়নে রাজনৈতিক বিচার-বিশ্লেষণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি। আর এতে ১৪ দলের দুই শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তাদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। রাশেদ খান মেনন বলেছেন, হেফাজতের সঙ্গে আপস অসা¤প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনাবোধ ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অসা¤প্রদায়িক শক্তির হাত সংকুচিত করবে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু হেফাজতকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, তেঁতুল হুজুর চক্র আসলে একটি রাজনৈতিক মোল­া চক্র। এদের সঙ্গে মহাজোটের রাজনৈতিক লেনদেনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এদিকে ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, হেফাজতের সঙ্গে আমাদের আঁতাতের কোনো প্রশ্নই আসে না। অবশ্য সরকারে থাকলে অনেক বাস্তবতা মানতে হয়।
আমাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন আরেকটি বিষয় আরো কিছুদিন আলোচনার ইস্যু হয়ে থাকবে, তা হলো সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসাবে স্থাপিত গ্রিক দেবী থেমেসিসের ভাস্কর্য। হেফাজতের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমাদের সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রিক দেবী থেমেসিসের মূর্তি লাগানো হয়েছে। সত্য কথা বলতে, আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি।’ ভাস্কর্য অপসারণের বিষয়ে মাওলানা শফীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সহমত পোষণে স্বভাবতই ভোটের রাজনীতি কাজ করেছে, এমন কথা এখন সবার মুখে মুখে। এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, ভাস্কর্যের বিষয় নিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তিনি ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের অন্যত্র স্থানান্তর বা ঈদের নামাজের সময় জাতীয় ঈদগাহ থেকে যাতে দেখা না যায় এমন কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এখন দেবী থেমেসিসের পরিণতি দেখার জন্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে আমাদের।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close