আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আপন ভুবন

রেস্টুরেন্ট থেকে বিশ্বমঞ্চে শাকিরা

গানের জাদুতে পৃথিবী বিখ্যাত শাকিরা। তার পুরো নাম শাকিরা ইসাবেল মেবারাক রিপোল। কলম্বিয়ার বারানকিলাতে জšে§ছেন ১৯৭৭ সালের ২ ফেব্র“য়ারিতে। কলম্বিয়ান এই গায়িকাকে সর্বগুণে গুণান্বিত বলা চলে। তিনি একইসঙ্গে গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত প্রযোজক, নৃত্যশিল্পী ও জনহিতৈষী হিসেবেও খুব পরিচিত। স্কুলজীবনে এতো ছোট বয়সে সরাসরি উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজের প্রতিভার প্রকাশ দেখেন। সেখানে তিনি বেলি ড্যান্সিং-এর সঙ্গে কণ্ঠে সার্থকভাবে রক অ্যান্ড রোল, ল্যাটিন, পূর্ব মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গীত ফুটিয়ে তুলতেন। শাকিরার মাতৃভাষা স্প্যানীস হলেও, তিনি অনর্গল ইংরেজি, পর্তুগিজ এবং ইতালীয় ভাষায় কথা বলতে পারেন।

বিত্তশালী পরিবারে জš§ হলেও হঠাৎই তাদের পরিবারে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। বাবার ব্যবসায় ধস। মাত্র আট বছর বয়সে দেখেছেন অর্থাভাবে বাবাকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে। তখন শাকিরার ভরণপোষণের দায়িত্ব চলে যায় আত্মীয়দের ওপর। কিছুদিন পর শাকিরা নিজ শহরে ফিরে এসে দেখেন তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। শাকিরার গান-নাচ সব থেমে যাওয়ার উপক্রম। কিন্তু বড় হয়ে যিনি বিশ্ব মাতাবেন, তার তো থেমে যাওয়া চলে না। শত প্রতিক‚লতার মাঝেও তিনি নিজের আত্মবিশ্বাস অটুট রেখে সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখেন। গানের টানে শাকিরা নিজ শহর বারানকিলা থেকে চলে যান রাজধানী শহর বোগোটায়। শুরুতে নিজের খরচ চালানোর জন্য বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। বার, রেস্টুরেন্টসহ বেশকিছু জায়গায় পার্টটাইম কাজ করেছেন। পাশাপাশি ঘরে ও বন্ধুদের সামনে অব্যাহত রেখেছে গান শোনানো।
নিদাইয়া দেল কারমেন রিপোল তোর্রাদো এবং লেবানিজ বংশোদ্ভ‚ত উইলিয়াম মেবারাক শাদিদ দম্পতির একমাত্র সন্তান শাকিরা। মোট ভাইবোনের সংখ্যা আট, যারা সবাই তার বাবার আগের স্ত্রীর গর্ভজাত। তার দাদা-দাদি লেবানন থেকে নিউইয়র্কে বসবাস করা শুরু করেন এবং সেখানেই তার বাবার জš§ হয়। এরপর ৫ বছর বয়সে তার বাবা নিউ ইয়র্ক থেকে কলম্বিয়াতে চলে আসেন।
কলম্বিয়ার স্থানীয় প্রযোজকদের সহায়তায় শাকিরার সঙ্গীত জীবনের প্রথম দুইটি অ্যালবাম প্রকাশ পায়। দুর্ভাগ্যবশত সেগুলো কলম্বিয়ার বাইরে খুব একটা পরিচিতি পায়নি। পরবর্তীতে শাকিরা নিজেই নিজের অ্যালবাম প্রযোজনার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৫ সালে প্রকাশ করেন অ্যালবাম ‘পিয়েস দেসকালসোস’। এই অ্যালবামই তাকে লাতিন আমেরিকা ও স্পেনে খ্যাতি এনে দেয়। শ্রোতাদের কাছে তাকে একজন রহস্যময় সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে চিহ্নিত করে। কিন্তু ১৯৯৮ সালে ‘দোন্দে এস্তান লোস লাদ্রোনেস’ অ্যালবামটি শিল্পী হিসেবে তার গুরুত্ব বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভ‚মিকা রাখে। এই অ্যালবামটির জন্য তিনি রোলিং স্টোন, অল মিউজিক গাইড এবং বিলবোর্ড ম্যাগাজিনের সঙ্গীত সমালোচকদের কাছ থেকে উৎসাহব্যাঞ্জক সাড়া পান। তিনি দুইবার গ্র্যামি পুরস্কার, সাতবার ল্যাটিন গ্র্যামি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন। বিএমআই-এর তথ্যানুসারে, তিনি ব্যবসায়িকভাবে সফল দ্বিতীয় ল্যাটিন অ্যামেরিকান নারী শিল্পী, যার অ্যালবাম বিশ্বব্যাপী পাঁচ কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও তিনি দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সুযোগ পাওয়া একমাত্র শিল্পী যিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড হট ১০০, কানাডিয়ান বিলবোর্ড হট ১০০, অস্ট্রেলিয়ান এআরআইএ চার্ট, ও ইউকে সিঙ্গেলস চার্টে প্রথম স্থান পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। হলিউড ওয়াক অফ ফেইম-এ একজন তারকা হিসেবে শাকিরা পুরস্কৃত হয়েছেন। শাকিরার মাঝে কৃতজ্ঞতাবোধ তৈরি করতে তার বাবা মাঝেমাঝে অনাথ শিশুদের দেখাতে নিয়ে যেতেন। সেই দৃশ্যগুলো তার মনে গেঁথে যায়। একদিন তিনি এই শিশুদের সাহায্য করবেন বলে মনে মনে ঠিক করেন। শাকিরার একটি অলাভজনক ফাউন্ডেশন রয়েছে। নিজের জনপ্রিয় অ্যালবাম পিয়েস ডেসক্যালজোস-এর নামে ১৯৯৭ সালে শাকিরা তার ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন নিজ দেশে। সার্বজনীন শিক্ষার প্রচারই এর মূল উদ্দেশ্য। যার অর্থায়নে তিনি মানব সেবার কাজ করে থাকেন। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি আটটি বিদ্যালয় গড়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন চ্যারিটেবল কনসার্টে তিনি অংশগ্রহণ করেন, তার বিভিন্ন অ্যালবাম ও গান থেকে অর্জিত কিছু অর্থ তিনি এই ফাউন্ডেশনে দান করেন। এ ছাড়া তিনি যুক্ত আছেন ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে। শাকিরা সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা সাইটে একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। তিনি ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি যে কিনা ফেসবুকে ১০০ মিলিয়ন লাইক পেয়েছেন। শাকিরার প্রথম প্রেমিকের নাম অ্যান্টোনিও। দীর্ঘ ১১ বছর একসঙ্গে থাকার পর পৃথক হন। এরপর স্প্যানিশ ফুটবল তারকা জেরার্ড পিকেকে নতুন সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। এখন তাদের সংসারে রয়েছে একটি ছেলে সন্তান।
অন্যধারার ডেস্ক

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close