আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সাক্ষাৎকার / ব্যক্তিত্বস্লাইড

থিয়েটার নিয়েই থাকতে চাই : শিমূল ইউসুফ

শিশুশিল্পী হিসেবে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শিমূল ইউসুফ আজ জীবন্ত কিংবদন্তি। অভিনয়শিল্পী, সঙ্গীতপরিচালক, কোরিওগ্রাফার, পোশাক পরিকল্পনাসহ অসংখ্য মনোমুগ্ধকর কাজের কারিগর তিনি। বাংলা অভিনয়রীতির বিকাশে, শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চায় অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই গুণীশিল্পী। সময়ের ব্যবধানে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আমাদের প্রিয় ‘মঞ্চকুসুম’ শিমুল ইউসুফ

অন্যধারা : কেমন আছেন?
শিমূল ইউসুফ : আমি ভালো আছি।

অন্যধারা : আপনার জীবনের শুরুর দিকের গল্পগুলো শুনতে চাই।
শিমূল ইউসুফ : আমরা পাঁচ ভাই, তিন বোন। দুই ভাই মারা গেছেন। আমার জন্ম ঢাকাতেই। ভাইবোনদের মধ্যে আমি সবচেয়ে ছোট। ৪ বছর বয়সে কবি সুফিয়া কামালের সাথে কচি-কাঁচায় যেতাম। আমার বাবা মেহতের বিল্লাহ । তিনি খুব দারুণ গান জানতেন। আমি মাত্র চার বছর বয়সে বাবাকে হারাই। বাবার খুব একটা স্মৃতি আমার মনে পড়ে না। তবে বাবার সুর করে মোনাজাত পড়াটা এখনো আমার কানে বাজে।

অন্যধারা : তাহলে পিতৃহীন শৈশব কেটেছিল আপনার…
শিমূল ইউসুফ : জ্বি। আমার অন্য ভাইবোনরা বাবাকে পেয়েছে কিন্তু আমি ছোট হওয়ার কারণে বাবার সাহচর্য খুব একটা পাইনি। তাদের কাছ থেকে বাবার কথা শুনেছি।

অন্যধারা : পড়াশোনা কোথায় করেছেন?
শিমূল ইউসুফ : আমি মতিঝিল গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পাস করি। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করি।

অন্যধারা : খুব অল্প বয়স থেকেই তো আপনি গানের জগতে পদার্পণ করেছেন। সেই সময়গুলোর কথা জানতে চাই।
শিমূল ইউসুফ : আমার বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন থেকে গান শুরু করি। রেডিও ও টেলিভিশনে গান করতাম। ‘কচি কাঁচার মেলা’ নামক শিশুদের একটি গানের অনুষ্ঠানেও আমি গান গেয়েছিলাম। ১৯৬২ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে মঞ্চে অভিনয় ও সঙ্গীতজীবন শুরু করি। ১৯৬৩ সালে তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানে শিশুশিল্পী হিসেবে গান গাই। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনের স¤প্রচারের প্রথম দিন শিশুশিল্পী হিসেবে সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলাম।

অন্যধারা : গানের তালিম নিতেন কার কাছে?
শিমূল ইউসুফ : প্রথমে ক্লাসিক্যাল গানের উপরে তালিম নিয়েছি ওস্তাদ হেলাল উদ্দিন, পিসি গোমেজ, সুধিন নাথ, ইমাম উদ্দিন আলতাফ মাহমুদ এবং আব্দুল লতিফ এর কাছ থেকে এবং পরে শাস্ত্রীয় এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত গানের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলাম।

অন্যধারা : আপনার গানের অ্যালবাম বের হয়েছে কী?
শিমূল ইউসুফ : গণসঙ্গীত, নজরুলসঙ্গীত এবং লালনের গান নিয়ে আমার ৫টি একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যধারা : কোন বিষয়ে আপনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন গান না মঞ্চাভিনয়?
শিমূল ইউসুফ : দুটোই। মঞ্চনাটক ও গান দুটো ব্যাপারই আমার আত্মার খুব নিকটবর্তী। আমি রেডিও, টেলিভিশন ও মঞ্চের শিল্পী। ১৯৭৪ সালে ঢাকা থিয়েটারে যোগদানের পর থেকে পুুরোপুরিভাবে নিজেকে মঞ্চে নিয়োজিত করি। ১৯৭৪ সালে ঢাকা থিয়েটারে যারা ফাউন্ডার মেম্বার ছিলেন, তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। পাশাপাশি শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চা অব্যাহত রেখেছিলাম। দীর্ঘ পাঁচ দশকের জীবনে আমি প্রায় দুই সহস্রাধিক নজরুল সঙ্গীত, গণসঙ্গীত-রেডিও, টেলিভিশন ও মঞ্চে পরিবেশন করেছি এবং মঞ্চের ৩৩টি নাটকের ষোল শতাধিক মঞ্চায়নে অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছি।

অন্যধারা : থিয়েটারে অভিনয় করার ব্যাপারটি প্রথম দিকে আপনার পরিবারে কীভাবে নিয়েছিল?
শিমূল ইউসুফ : আমি তো একদম ছোট্টবেলা থেকেই গান করি। আমার মায়ের খুব প্রিয় ছিল আমার কণ্ঠ। আমার মা-বাবা খুব ধার্মিক ছিলেন কিন্তু কখনো থিয়েটারে অভিনয়ের জন্যে বা গান করার জন্য আমাকে বা ভাইবোনদের বাধা দেননি। বরং সবসময় উৎসাহিত করেছেন ।

অন্যধারা : থিয়েটারের কোন দিকটা আপনাকে বেশি আকৃষ্ট করে?
শিমূল ইউসুফ : আমি অভিনয়কে ভালোবাসি। এখানের নিয়মানুবর্তিতা, একসাথে থাকার প্রতিশ্রæতি, সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে যে পারস্পরিক সম্পর্ক, সম্মানবোধ ও কাজ শেখা এসব দিক আমাকে অনেক বেশি আকৃষ্ট করে। আমি থিয়েটার নিয়েই থাকতে চাই।

অন্যধারা : দীর্ঘ কর্মজীবনে আপনি অনেক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য কোনগুলো আপনার কাছে?
শিমূল ইউসুফ : আমি আসলে বিষয়টিকে এভাবে দেখি না। কাজ করার জন্য আমাকে সম্মান দিয়েছে। আমাদের দেশে তো কাজের স্বীকৃতি অনেক পরে আসে। সেক্ষেত্রে যারা আমাকে সম্মান দিয়েছে , আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমার উল্লেখযোগ্য সম্মাননাগুলো হলো; ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের শিশুশিল্পী হিসেবে প্রেসিডেন্ট পদক, লোকনাট্যদল পদক, বাচসাস পদক, মোহাম্মদ জাকারিয়া পদক, কালচারাল রিপোর্টার্স ইউনিটি পদক, মানবজমিন পাঠকজরিপসহ কচিকাঁচা মেলার আজীবন সম্মাননাতেও ভূষিত হয়েছি। বাঙলা অভিনয়রীতি বিকাশে এবং শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চায় অবদানের জন্য আমি কবি বেগম সুফিয়া কামাল ও নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন কর্তৃক ‘মঞ্চকুসুম’ উপাধিতেও ভূষিত হয়েছি। এটিও আমার কাছে বেশ স্মরণীয়।

অন্যধারা : আপনার বাবার ব্যাপারে খুব জানতে ইচ্ছা করছে।
শিমূল ইউসুফ : আমার বাবা সুফীবাদে বিশ্বাস করতে। বাবা সারারাত নামাজ পড়তেন। সকালে ফজরের নামাজ পড়ার সুর করে মোনাজাত করতেন। কোরআন শরিফ পড়তেন। ছোট থাকায় বাবার কথা মনে পড়ে না। তবে ভাইবোনদের মুখে মুখে বাবার কথা শুনিছে অনেক। তবে বাবার সুর করে মোনাজাত করাটা এখনও আমার কানে বাজে। বিশেষ করে এই জিনিসগুলো আমার মনে আছে।

অন্যধারা : আপনার অবসর সময়ের বিষয়ে জানতে চাই। কী করা হয় তখন?
শিমূল ইউসুফ : অবসর তেমন পাই না। তবে এখন কিছুদিন বিশ্রামে আছি। বাসায় থেকে থিয়েটারের টুকিটাকি কাজগুলো ঠিকই করছি। একান্ত অবসর পেলে গান শুনি, বই পড়ি এইত…।

অন্যধারা : আপনি অনেক ব্যস্ততার মধ্যে অন্যধারাকে অনেক সময় দিয়েছেন। সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ আমরা কৃতজ্ঞ।
শিমূল ইউসুফ : অন্যধারাকেও অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : খাদিজা খানম তাহমিনা

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close