আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশস্লাইড

গণপরিবহনে নারী আসনে পুরুষ বসলে…

ওমেনআই ডেস্ক : গণপরিবহনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে পুরুষ যাত্রী বসলে জেল ও জরিমানার বিধান রেখে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৭’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গত ২৭ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আইনটি অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী অধিবেশনে জাতীয় সংসদে ওঠার মধ্য দিয়ে আইনটি পাস করার কথা রয়েছে। এতে নানা বিষয়ের পাশাপাশি বাসে সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠকশেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ আইনের খসড়ার অনুমোদন বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, মোটরযান চলাচলে সাধারণ নির্দেশাবলি নামে একটি নতুন ধারায় ২৫টি নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। এ আইন অনুযায়ী নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রীর জন্য সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনো যাত্রী বসবেন না বা বসার অনুমতি দেওয়া যাবে না। এটা লঙ্ঘন করলে এক মাসের কারাদ- বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডেদণ্ডিত করা হবে। আইনের প্রস্তাবনায় এটি রয়েছে।

নগর পরিবহনে বড় বাসে নয়টি এবং ছোট বাসে ছয়টি আসন নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু প্রায়ই এসব আসনে বসে থাকেন পুরুষ যাত্রীরা। তাদের উঠতে বলা হলেও উঠতে চান না। উল্টো নারী যাত্রীদের নানা রকম কটু কথা শোনান, নারী-পুরুষ সমধিকারের কথা তুলে এনে নানা রকম ব্যঙ্গাত্মক কথা বলেন। অনেকেই তর্ক জুড়ে দেন। আবার নারী আসন খালি না পেয়ে সাধারণ আসনে বসতে গেলে অনেক পুরুষ যাত্রীই বলে থাকেন, এখানে বসেছেন কেন? সরকার না আপনাদের সংরক্ষিত আসন দিয়েছে- প্রতিদিনই এমন নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় গণপরিবহনে চলাচল করা নারীদের। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের একটি গবেষণায় দেখা যায়, গণপরিবহনে নারীরা যে হয়রানির শিকার হন তার ৪০ শতাংশ ঘটনার জন্য এককভাবে পুরুষরাই দায়ী।
এসব সমস্যা নিরসনে নতুন এ আইন করেছে সরকার। সরকারের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আইনটি দ্রুত পাস করে তা কার্যকর করার দাবিও জানান নারী অধিকার কর্মী ও যাত্রীরা। তবে নারীদের আবেদন- এটা কাগজে-কলমে না হয়ে আইনটি যেন বাস্তবায়ন হয়, সেই বিষয়েও সরকারকে তদারকি করতে হবে। ‘মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আইনটি বাস্তবায়ন করা। আইনটির বিষয়ে প্রচারণা, মানুষকে সচেতন করা এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কিছু অভিযান চালিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া গেলে গণপরিবহন আরও নারীবান্ধব হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সালমা আলী। গণপরিবহনে হেল্প লাইনগুলোর নম্বর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে টানিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নারীদের প্রতিবাদ করতে হবে, কারণ জরিপে দেখেছি হয়রানির ঘটনায় অর্ধেক নারীই কোনো প্রতিবাদ করেন না।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close