আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সাহিত্য

আগুন আগুন খেলা

আনোয়ারুল হক

বাটনহোল মেশিনে কাজ করতে করতে জমিলার হঠাৎ মনে হলো,
-‘যাই, একতলার আয়নাঅলা বাথরুমে গিয়া মুখটা একটু দেইখা আসি’।
কথাটা ভেবেই বসার টুল থেকে তড়বড় করে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে ডান হাতে সুঁইয়ের খোঁচা খেল সে। তর্জনীর ডগায় এক বিন্দু রক্ত উঁকি দেওয়ার আগেই আঙ্গুলের মাথাটা জিহ্বা দিয়ে চুষে থুথুটা গিলে ফেলল গমনোদ্যত জমিলা।
তারপর চোখের কোণায় ডানে- বাঁয়ে যথাস্থানে দেখে নিল ফ্লোর ইনচার্জ আশপাশের কোন আড়াল থেকে চিলের চোখ দিয়ে তাকিয়ে আছে কি না ! এই সময় সহকর্মীরা যে যার কাজে ব্যস্ত। সারা ঘরে একটানা একঘেয়ে সেলাই মেশিনের ঘরঘর শব্দ ছাড়া আর কোন কিছুর উপস্থিতি চোখে পড়ল না কিশোরী মেয়েটির। তবুও সতর্ক চোখে চারপাশ দেখে নিয়ে নিচতলার দিকে সে পা বাড়াল। ওর পাশের মেশিনে দ্রæত হাত চালাতে চালাতে জমিলার উড়নচণ্ডী ভাব দেখে ওরই বয়সী মিনতি নিজে নিজেই মন্তব্য করে,
-‘মজায় মইজ্যা গেছস মাইয়া, বুঝবি মজা !’
জমিলা বাড্ডাতে ফ্লোরা গার্মেন্টের একজন সাধারণ কর্মী। অন্য আরও দশজন কর্মজীবী মেয়ের মতোই অতি সাধারণ। গত বছর সিরাজগঞ্জে যমুনার ভাঙনে একরাতে বানের জলে বাপ-মা ভেসে যাওয়ার পর দূরসম্পর্কের এক খালা তাকে এইখানে এনে বাঁচার পথ করে দেয়।
সিপাহীবাগে কামাল মিয়ার টিনের দোচালা টানা ঘরের বস্তিতে ওরা পাঁচজন একসঙ্গে থাকে। মাথা-মুখ গুঁজে প্রতিদিন জীবনের ঘানি টেনে চলে। তাই বলে কিশোরী জমিলারা মন চাইলে মজায় মজতে পারবে না এমন কোন বিধান তো কেউ করে রাখেনি। প্রকৃতির নিয়মেই আজ তাই জমিলার হাবভাব এমন। তার আজকের সাজুগুজু চেহারা বলে দেয় কোন একটা ব্যাপার অবশ্যই আছে। চুলে গন্ধ তেল, বেণির ডগায় লাল ফিতার ফুল, কপালে লাল টিপ, হাতে চুড়ি, চুমকি বসানো সালোয়ার কামিজ এসব দেখলে কী মনে হয়? বিষয় কী !
শার্টের বোতাম লাগানোর কাজ করে যে মেয়ে তার এত সাজের কী কারণ?
সকাল সাতটায় কাজে বসে জমিলাকে দেখে মিনতি এইরকম না ভেবে পারে না।
কারণটা কাউকে না বললেও সবাই বুঝে। এইসব মন পাগলের খবর কেউ কাউকে বলে দিতে হয় না। ‘যে পঙ্খি উড়াল দেয় সে নাকি বাসাতেই ধরফরায়’ কথাটা সবাই জানে। তাই জমিলাকে ছটফট করে কাজ ফেলে উঠে যেতে দেখে ওর আশপাশের অনেকেই মুখ টিপে হাসে।
কিন্তু মেয়েটি এসব কিছুই গায়ে মাখে না। কাজ ফেলে উঠে যাওয়ায় যদি ফ্লোর ইনচার্জ রবি শর্মার চোখে পড়ে তাহলে আজ তার বেতন কাটা যাবে নির্ঘাত। জমিলা মনে মনে বলে, ‘যাক বেতন কাটা’। মেশিন মেকানিক জালালের অনেক দিনের শখ নাইট শোতে বলাকায় তারে নিয়া সিনেমা দেখার। আজ সন্ধ্যার পর সেই দিন। তাই ভেতরে ভেতরে চরম পুলকিত জমিলা নাচের ভঙ্গিতে সিঁড়ি ভেঙে প্রোডাকশন ফ্লোরের তিনতলা থেকে একতলায় নেমে এলো।
এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড এই গার্মেন্টের সাততলা দালানের এদিকটায় মাত্র পাঁচ ফুট প্রশস্ত সিঁড়ির গোড়া থেকে ডানদিকে টানা লম্বা করিডোর। উপরে উঠা-নামার ওই একটাই সিঁড়ি, যা সাততলা পর্যন্ত উঠে গেছে। করিডোরের ডান পাশে সারি দেয়া অফিস ঘর। জমিলা জানে, বাথরুমটা প্রোডাকশন ম্যানেজার স্যারের অফিসের গায়ে লাগানো। ওরা তেতলার যে বাথরুম ব্যবহার করে সেখানে পায়খানার জমে থাকা ময়লা পানি ও দুর্গন্ধের মধ্যে কোন রকমের কাজ সারা যায় এমন অবস্থা। পানি এই থাকে, এই নাই। সেই জায়গায় মুখ দেখার জন্য আয়না থাকবে এটা আশা করা যায় না।
এই জন্যই কাজ ফাঁকি দিয়ে জমিলার নিচে নেমে আসা। কেবল একঝলক মুখটা দেখবে আর ফিরে যাবে এই তো ! নির্জন করিডোরে বেণি দুলিয়ে ওড়না উড়িয়ে এদিক-ওদিক তাকাতে তাকাতে সে লঘুপায়ে বাথরুমের দিকে এগিয়ে যায়।
পাঁচ হাজার বর্গফুটের একতলার বিশাল ফ্লোর করিডোর দিয়ে দুইভাগ করা। করিডোরের বাম দিকের এলাকা জুড়ে পেটমোটা গোডাউন। মেঝ থেকে ছাদ পর্যন্ত পুরো গোডাউন ঠাসা থান কাপড়ের বড় বড় বান্ডিল, কাটা কাপড়ের ফেলনা টুকরা, সুইং মেশিনে ব্যবহার করা হয় এমন ছোট, বড়, মাঝারি সুতার বান্ডিলের প্যাকেট, প্যাকিং বাক্সসহ অন্যান্য নানা আবর্জনায়।
ডানদিকের এলাকাটা স্যারদের। পিএম স্যার, সুপারভাইজার আর ফ্লোর ম্যানেজার বসেন পাশাপাশি ঘরে। এদিকটায় সেলাই মেশিনের একঘেয়ে কোন শব্দ নাই। জমিলা বিড়ালের পায়ের মতো চুপচাপ বড় স্যারদের কক্ষগুলো পার হয়ে যায়। তারপর জায়গামতো গিয়ে ডানে-বাঁয়ে কেউ দেখছে কিনা দেখে নিয়ে সাঁই করে ঢুকে গেল বাথরুমে।
মোটামুটি মাঝারি সাইজের বাথরুমটা ফ্লোরসহ খাড়া একমাথা পর্যন্ত উঁচুতে টাইলস দিয়ে মোড়া। মেয়েটি তার পেছনে ফেলে আসা দরজার পাল্লাটা খোলা রেখেই সোজা গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। মাথার উপরে টিউবের সাদা আলোয় সে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে। জালালের মুখটাকে মনে করে মুখ ভেংচায়। ভাবে, ওকে দেখে মেকানিক জালাল পাগলুর চোখ ট্যারা হইয়া যাইব অবশ্যই! হইতেই পারে।
নিজেকে ভলোলাগায় গদগদ জমিলা তার হালকা পাতলা কটি, সেই তুলনায় ভারি নিতম্ব দুলিয়ে ভঙ্গি করে। মুচকি হাসে। আয়নার অতি কাছে মুখ নিয়ে নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে চোখ মটকা মেরে ইশারায় জানতে চায়,‘কী খবর’?
এমন সময় চোখের সীমানা ছাড়িয়ে আয়নার ভেতর দিয়ে মাথার পেছনে দরজার বাইরে জমিলার চোখ পড়ে। খোলা দরজা দিয়ে বাথরুমের বিপরীত দিকের গোডাউনে একটা ভয়ংকর দৃশ্য দেখে থরথরিয়ে কেঁপে ওঠে জমিলা।
এ-কী ! ভীষণ চমকে গিয়ে দ্রæত পেছন ফিরে পড়িমড়ি করে বাথরুম থেকে বের হয়ে ঘটনাটা দেখতে দেখতে আর্তচিৎকার দিয়ে ওঠে কিশোরী। ভীত, বিহ্বল তীব্র আর্তনাদে জোর চিৎকার দিয়ে সুপারভাইজারকে সে জিজ্ঞাসা করে,
-‘এইডা কী করলেন স্যার’?
মেয়েলি কণ্ঠের ভয়ার্ত একটা আর্তনাদ শুনে গরিলার মতো শরীর আর চেহারার সুপাভাইজার পেছন ফিরে অপ্রত্যাশিত জমিলাকে দেখে বিষম খাওয়ার মতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। হাতের জ্বলন্ত ম্যাচের কাঠিটা জায়গামতো দ্রæত ফেলে দিয়ে গরিলাটা মেঘের গর্জনে চেঁচিয়ে আশপাশের লোক ডাকে,
-‘এই কে আছস্, ওরে ধর, ওরে ধর-
বিপদ বুঝে জমিলা- পিয়ন, সিকিউরিটি ছুটে এসে ওকে ধরার আগেই ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ায় আর চিৎকার করে- ‘আগুন, আগুন’।
পিছনে সুপারভাইজার তার দলবল নিয়ে ছুটন্ত হরিণীর শরীর জাপটে ধরার সুযোগ পায় না। ততক্ষণে সে দোতলার সিঁড়ি ভাঙে। ‘আগুন, আগুন’ বলে চেঁচাতে চেঁচাতে জমিলা তিনতলায় নাগালের বাইরে চলে গেলে একটা মোটা গলার নির্দেশ শুনতে পায়। ঘষটানো ধাতব শব্দে একতলার সিঁড়ির গোড়ায় কাচি গেট লেগে যায় দ্রæত। ঝনাৎ করে বৃহৎ তালা পড়ে শেকলের প্যাঁচে।
এদিকে জমিলার চিৎকারে বানের জলের মতো শত শত বিভিন্ন বয়সের মেয়েরা সিঁড়ি বেয়ে ধেয়ে এলো নিচের দিকে। চিৎকার, কান্নাকাটি, আহাজারির ভেতর দিয়ে সময় গড়াল কেবল, কিন্তু গেটের তালা খুলল না। কলাপসিবল গেটের ওপার থেকে সিকিউরিটি ওদের অভয় দিল,
-‘কিছু হয় নাই, কিছু হয় নাই। আগুন লাগছিল, নিভাইয়া দিছি। তোমরা কামে যাও।’
আর এই সমস্ত অভয় বাণীর বগলের নিচ দিয়ে, আশ্বাসের ছিদ্র পথে অতি দ্রæত গলগল করে বেরিয়ে আসতে থাকে কালো ধোঁয়া, লেলিহান শিখা।
ইটের খাঁচায় বন্দি ওরা সবাই দেখল, পুরো একতলা ও তার আশপাশ ভোজবাজির মতো নিমিষেই ফাঁকা হয়ে গেল। খোলা ময়দান পেয়ে দমকা হাওয়ার বেগ যেমন ধায় তেমনি গোডাউনের দাহ্য আহার্য থেকে জোর তাগাদা নিয়ে রোষে এঁকেবেঁকে পাগলের মতো ছুটে আসতে লাগল ঊর্ধ্বমূখী কুণ্ডলী পাকানো কালো ধোঁয়া আর ক্ষুধার্থ আগুন।
এদিকে নিচতলা থেকে ধেয়ে আসা লাল জিহŸার আগুনের শরীরটা যতই এগিয়ে আসছে জমিলার মনের ভয়ের ভাবটা কেন জানি ততই কমে আসছে। পুড়ে পুড়ে যন্ত্রণাকাতর মৃত্যুটা যে কত কষ্টের হবে আগুন লাগার পর বের হতে না পেরে এই ভাবনাটা তাকে দিশাহারা করে তুলেছিল। ফলে ভীত কাতর জমিলা বাঁচার জন্য এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করেছিল। একতলার কলাপসিবল গেটে তালা পড়ার পর উপরের দিকে সাততলা পর্যন্ত গিয়ে যখন দেখল সেখানেও আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে আর ইমার্জেন্সির দরজাটাও বন্ধ তখন সে বাঁচার আশা ছেড়ে দিল।
একবার ভেবেছিল, সাততলা থেকে লাফ দেবে। পরে এই ভেবে নিরস্ত হলো, যদি সে নিচে পড়ে মরে না গিয়ে পঙ্গু হয়ে বেঁচে যায় তাহলে তখন তাকে কে দেখবে?
রাস্তার ধারে বসে ভিক্ষা করবে সে?
তখন তো একদিকে সন্ধ্যার পর শিয়াল-কুকুরে টানাটানি করবে আর দিনের বেলা হাড়চিমসে শরীর নিয়ে কারও দয়ার ওপর বেঁচে থাকা।
তার চেয়ে আগুনে পুড়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো!
এইসব ভেবে জমিলা আর বাঁচার কথা ভাবে না।
একতলা থেকে সাততলা পর্যন্ত ওর মতো নানা বয়সী সহকর্মীদের কান্নাকাটি, চিৎকার তার মনে এরপর আর কোন ভাব জাগায় না। সে মৃত্যুভয়ে দিশাহারা নারী-পুরুষ শ্রমিকদের দুই হাতে ঠেলে, গায়ের ওপর এসে পড়া উন্মত্তদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সরিয়ে তিনতলার এককোণে দেয়ালের পাশে এসে দাঁড়ায়। ক্লান্তিতে হাঁটুজোড়া আলগা হয়ে গেছে যেন, নিয়ন্ত্রণহীন অবশ শরীরটা নিয়ে ধপাস করে মাটিতে বসে যায় সে।
ভীষণ মনোবেদনায় তার চোখ দুটো জলে ভরে আসে।
এই ক্ষুদ্র জীবনের সঙ্গে কপালের নির্দয় লিখন তীব্র ব্যথার মোচড়ে ধেয়ে আসা আগুনের আঁচ যেন তার এই চোখের জল। ঘোলা দৃষ্টির ওপর জালালের মুখটা ভেসে ওঠে। নিঃশব্দে কাঁদতে কাঁদতে তারপর জমিলা দুই হাত বাড়িয়ে অনিবার্য মৃত্যুকে যেন ডাকে, ‘আয়, আয়’।
তখন জমিলার কাছ থেকে পনের ফুট তফাতে সিঁড়ির গোড়ায় জীবনের শেষ তুলির আঁচড় পড়ছে। উপর-নিচ থেকে দ্রæত এগিয়ে আসা আগুনের তোড়ে পিছিয়ে আসা একগাদা মেয়ে চাপাচাপি হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে।
কোথায় যাবে আর? কত আর সরে যেতে পারে তারা?
ওদের আহাজারি জমিলার সহ্য হয় না। সে ধমক দেয়,
-‘এই চুপ কর তোরা। আগুনেরে আইতে দে-।’
ধমক খেয়ে কান্নাভেজা চোখে মৃত্যুভয়ে ভীত মেয়েরা দেখে, জমিলার চোখে লাল আগুনের শিখা নাচে। ভাবে, ‘পাগল হইয়া গেছে গো মাইয়াডা!’
আগুন চোখে লম্বা শ্বাস বুক ভরে টেনে নিয়ে জমিলা তৈরি হয়। বসে থেকে দুই হাঁটু মুড়ে থুঁতনিটা তার উপর রেখে আগুনের এগিয়ে আসা দেখে। ভাবছে, সে কোন চিৎকার দেবে না। ‘আহ’ করে কোন কাতর আওয়াজও করবে না। যেন জানে, আগুনের লাল জিহ্বা হাতের তালু থেকে খাবার চেটে নেওয়ার মতো করে তুলে নেবে জমিলার চুল, ওড়না, সালোয়ার কামিজ, মুখের চামড়া, গতরের পশম জমিলার শরম। কামড়ে ধরবে কাঁচা মাংসের শরীর। তখন কাঁচা মাংসের পোড়া গন্ধটা নাকে লাগবে। চুলার উপরে আগুনের আঁচে মাংস যেমন ফুটে তেমনি ফুটতে ফুটতে সে আগুনে কাঠ কয়লা হবে। উদ্ধার করতে আসা কেউ হয়তো এসে দেখবে, মানুষের আকৃতির কঙ্কালটা তখনো যেন একটু একটু নড়ছে। বাতাসে উড়বে হালকা রেশমী ধোঁয়া।
এমন সময় মাথার উপরে বোমা ফাটার মতো ‘বুম’ করে বিকট আওয়াজে জমিলা বসা থেকে নিজের অজান্তেই দাঁড়িয়ে যায়। তখন ধাঁই করে সোজা সামনের দিক থেকে পাহাড় সমান কালো ধোঁয়া এসে ওর নাকের ভেতর দিয়ে মগজে ঢুকে যায়। মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে যেতে যেতে জমিলা দেখল, মাথার উপর বিকট আওয়াজে কিছু একটা ভেঙে পড়ছে এবং সেই সঙ্গে শত কণ্ঠের আহাজারি, মৃত্যু চিৎকার। অনন্ত ঘুমের অতলে তলিয়ে যেতে যেতে জমিলা টের পেল, কালো ধোঁয়ার ভেতর থেকেই একটা লাল আগুনের শরীর ওকে পরম আদরে জড়িয়ে ধরার মতো গিলে ফেলে। যেমন, বড় মাছটা ছোট মাছটাকে, টেরই পেতে দিল না যে, নরকে যাওয়ার পথটা কত মৃসণ।
উপসংহার : দৈব
বাড্ডা নতুন গলিতে ফ্লোরা গার্মেন্টস্ লিমিটেডের সুপারভাইজারের সুসজ্জিত একতলা দালানের ঘরের ভেতর দুটো ছায়া শরীর এসে থামলো। লোকটা তখন খাওয়ার টেবিলে মুরগির ঠ্যাং কামড়ে ধরেছে। ওর নাদুসনুদুস বৌ সামনের চেয়ারে বসা। আশপাশে আর কেউ নেই। কী একটা রসিকতায় তারা দুজনেই হাসছে।
ছায়া শরীর বাতাসে ভর করে সরে এলো। ঢুকল রান্নাঘরে। গ্যাস সিলিন্ডারের এক বিঘত তফাতে দুই বার্নারের চুলার আগুন তখন আধ হাত উঁচু হয়ে লকলক করে জ্বলছে। বৈশাখের এই সময় একটা দমকা হাওয়ার বেগ রান্নাঘরের বারান্দায় টানা তারে মেলে দেওয়া সুতির শাড়ি দরজা দিয়ে উড়িয়ে এনে ফেলল চুলার আগুনের উপর। শাড়ির অপর প্রান্ত গিয়ে পড়ল গ্যাস সিলিন্ডারের মুখে। খুব দ্রæত আগুনটা ছড়াল চারদিকে। তিন মিনিটের মাথায় কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই গ্যাস সিলিন্ডারটা ডিনামাইটের আওয়াজে ফাটল। পরক্ষণেই বোমার আঘাতে ধসে পড়ার মতো রান্নাঘর আর ডাইনিং হলের ছাদ নেমে এলো নিচের দিকে। বিকট শব্দের তলা থেকে কিছু ধুলো, কিছু ছাই উড়ল চারদিকের ঘোলা বাতাসে। একটা কাক বসেছিল বাড়ির ছাদের কার্নিশে।
বাঁচল না সেও। পোড়া কাঠ কয়লার মতো নিঃসঙ্গ বায়স সেও ছিটকে পড়ল রাস্তায়। ষ

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

Close
Back to top button
Close
Close