আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশস্লাইড

বিপাকে রোগী ও হাসপাতাল : বিদেশি ওষুধ আমদানিতে কড়াকড়ি

ওমেনআই ডেস্ক : বিদেশি ওষুধ আমদানিতে কড়াকড়ি করায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও অস্ত্রোপচার কক্ষে ব্যবহৃত কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। বড় হাসপাতালগুলো প্রয়োজনীয় ওষুধ আমদানি করতে পারলেও ছোট হাসপাতালগুলো ওইসব বিদেশি ওষুধ সংগ্রহ করতে পারছে না। এতে রোগীদের চিকিৎসায় ব্যাঘাত হচ্ছে। এ কারণে অনেক হাসপাতালেই লাগেজ পার্টির মাধ্যমে আনা ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিদেশি ইটোপিন, ইনডোক্সান মিটোমাইসিনসহ বেশ কিছু ইনজেকশন, বিভিন্ন ধরনের ক্যাপসুল ও ট্যাবলেট চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহারের অনুমোদন দিতে গত বছরের শেষ দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতাল থেকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়। কিন্তু এসব ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সংস্থাটি থেকে বলা হয় হাসপাতালে যেসব ওষুধ লাগবে তা যেন অনুমোদন সাপেক্ষে আমদানি করা হয়।

ওই হাসপাতালের এক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, রোগীর প্রয়োজনে বিদেশি ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে অভিযানকালে বিদেশি ওষুধ পেলেই ব্যবহার, মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করে। তাই অনেক হাসপাতাল এ জাতীয় ঝামেলা এড়াতে বিদেশি ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করে। কিন্তু সংস্থাটির কর্মকর্তা তা ব্যবহারে অনুমোদন দেয়নি। তারা পরামর্শ দিচ্ছে হাসপাতালে যে পরিমাণ বিদেশি ওষুধ লাগবে তা অনুমোদন সাপেক্ষে আমদানি করতে। তিনি আরও বলেন, ওষুধ আমদানিতে নতুন করে কাগজপত্র তৈরি থেকে শুরু করে হাসপাতাল পর্যন্ত আনতে বেশ কিছু ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে; বিধায় অনেক হাসপাতালে লাগেজ পার্টির মাধ্যমে আসা ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ওষুধ বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছে হাসপাতালগুলো। চোরাইপথে আসা ওষুধ নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হয় না; বিধায় তার মান নিয়ে সংশয়ে থাকতে হয়।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নায়ার সুলতানা বলেন, যেসব হাসপাতালে বিদেশি ওষুধ প্রয়োজন হয়, তারা চাইলে বিদেশ থেকে আমদানি করতে পারবে। আমাদের কাছে আবেদন করলে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

রাজধানীর ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হসপিটালের অ্যাসিসট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) সাইফুর রহমান লেনিন বলেন, বিদেশি ওষুধ ব্যবহার নিয়ে জটিলতা ছিল, তার অবসান হয়েছে। এখন আমাদের হাসপাতালে যেসব বিদেশি ওষুধ প্রয়োজন হয়; তা ওষুধ প্রশাসনের অধিদপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষে আমদানি করা হচ্ছে।

রাজধানীর ইনসাফ-বারাকা কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আলতাফ হোসেন বলেন, আমাদের হাসপাতালে বিদেশি ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়। কিন্তু অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তারা পরামর্শ দিয়েছে আমদানি করার। হাসপাতালে বছরে প্রায় লাখখানেক টাকার বিদেশি ওষুধ লাগে। এ পরিমাণ ওষুধ আমদানি করতে গিয়ে নতুন করে কাগজপত্র তৈরি করতে কয়েক লাখ টাকা খরচের পাশাপাশি অনেক ঝামেলাও রয়েছে। তাই বিদেশি ওষুধ আমদানির ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালের এক জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন এমন আশায় অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে আসেন। অনেক সময় চিকিৎসা কাজে বিদেশি ওষুধের দরকার পড়ে। বিদেশি ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দিতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়। কিন্তু অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সংস্থাটি থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে অনুমোদন সাপেক্ষে আমদানি করতে। ব্যবহারের জন্য বেশ কিছু বিদেশি ওষুধ মিটফোর্ডসহ রাজধানীর কয়েকটি ওষুধের দোকানে পাওয়া যায়। তবে চ্যানেল ছাড়া এসব ওষুধ পাওয়া যায় না। তখন একটু বেশি দামে কিনতে হয়। কিছু ওষুধ আছে যা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণের নিয়ম থাকলেও অবৈধপথে আসায় তা করা সম্ভব হয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাগেজ পার্টির মাধ্যমে যেসব ওষুধ দেশে আসে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যেসব রোগী এসব ওষুধ ব্যবহার করছেন, তাদের স্বাস্থ্যহানির পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ওষুধ, মেডিক্যাল ডিভাইস ও ডায়াগনস্টিক রি-এজেন্ট ছাড়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে গত বছরে ১৩ নভেম্বর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, প্রচলিত ওষুধ আইন (দ্য ড্রাগ অ্যাক্ট ১৯৪০ এবং দ্য ড্রাগ কন্ট্রোল অধ্যাদেশ ১৯৮২) অনুযায়ী যে কোনো ওষুধ, মেডিক্যাল ডিভাইস ও ডায়াগনস্টিক রি-এজেন্ট বিদেশ থেকে আমদানি করার জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন গ্রহণ আবশ্যক। এ ছাড়া ফুড সাপ্লিমেন্ট নামে আমদানি করা প্রকৃতপক্ষে যা ওষুধের (ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপ, সাসপেনশন, সাপোজিটরি, স্যালাইন, আইভি ফ্লুইড ইত্যাদি ডোজেস ফর্ম) জন্যও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়, একশ্রেণির অসাধু আমদানিকারক ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই ওষুধ, মেডিক্যাল ডিভাইস এবং ডায়াগনস্টিক রি-এজেন্ট আমদানির জন্য ওষুধ ও মেডিক্যাল ডিভাইসের এইচএস কোডের পরিবর্তে অন্য এইচএস কোড ব্যবহার করে আমদানি করছে। ফলে দেশে মানবহির্ভূত ওষুধ ও মেডিক্যাল ডিভাইস ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। দেশের মানুষের জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া ওষুধ, মেডিক্যাল ডিভাইস ও ডায়াগনস্টিক রি-এজেন্ট পণ্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে ছাড়করণ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হলো।

২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে ২০ লাখ টাকা মূল্যের এন্টিক্যানসার ড্রাগসহ ২৬ ধরনের ওষুধ জব্দ করা হয়। এসব ওষুধ মজুদ ও বিক্রির দায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হয় ১৫ লাখ টাকা। একই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর এ্যাপোলো কার্ডিয়াক হসপিটালে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৫১ ধরনের ওষুধ জব্দ করা হয়। এসব ওষুধ বিক্রি ও মজুদের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৪টি মামলা এবং জরিমানা করা হয় ১৬ লাখ টাকা। একই অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ফার্মেসিকে ৫ লাখ, ৯ ডিসেম্বর স্কয়ার হাসপাতালের ফার্মেসিকে ১ লাখ, ২৬ ডিসেম্বর সেন্ট্রাল হসপিটালের ফার্মেসিকে ২ লাখ, ১ জুলাই উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালের ফার্মেসিকে আড়াই লাখ এবং ১২ মে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফার্মেসিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে করা হয় মামলা।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close